ধামরাইয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ শিশুর মৃত্যু
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার , ০৮ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:১৫
ধামরাইয়ে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ মরিয়ম আক্তার নামে দেড় বছরের শিশুটি মারা গেছে। এ বিস্ফোরণে দগ্ধ তার পরিবারের অন্য চারজনের অবস্থাও গুরুতর।
শনিবার (০৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ওইদিন ভোর ৫টার দিকে ধামরাইয়ের কুমড়াইল কবরস্থান সংলগ্ন দোতলা বাড়ির নিচ তলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ওই শিশুসহ একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. এস এম আইউব হোসেন শিশু মরিয়মের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিশুটির শরীরের ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এ ছাড়া বাকি চারজনের অবস্থাও গুরুতর।’
দগ্ধ অন্যরা হলেন, শিশুটির বাবা গার্মেন্টস কর্মী মনজুরুল (৩২), মা জোসনা (২৫), খালা হোসনা (৩০) এবং আরেক খালার মেয়ে সাদিয়া (১৮)। মঞ্জুরুলের বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায়।
প্রত্যক্ষদর্শী নিজাম শেখ বলেন, ‘আমি পরিবার নিয়ে দুইতলা বাড়ির উপরতলায় ভাড়া থাকি। আর নিচতলার একটা রুমে মঞ্জুরুল তার স্ত্রী ও দেড় বছরের সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। তিনি গার্মেন্টসে চাকরি করেন।
‘শনিবার ভোরে আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। নিচতলায় গিয়ে দেখি মঞ্জুরুলের রুমের ভেতর আগুন জ্বলছে। তখন ওরাই ভেতর থেকে দরজা খুলে দিলে আশপাশের সবাই মিলে আগুন নেভাই।’
‘আগুনে মঞ্জুরুল, তার ছোট বাচ্চা, স্ত্রীসহ আরও দুই নারীর শরীর ঝলসে যায়। শুনেছি ওই দুই নারী মঞ্জুরুলের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। পরে এ পাঁচজনকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠান চিকিৎসকরা’, বলেন নিজাম শেখ।
তিনি বলেন, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকেই আগুন লাগছে বলে আমাদের জানিয়েছিল দগ্ধরা। পুরো বাড়ির সবাই তিতাস গ্যাস ব্যবহার করলেও মঞ্জুরুলের কক্ষেই কেবল সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো। ভোরে রান্না করতে গিয়ে চুলা জ্বালানোর পরপরই মনে হয় দুর্ঘটনা ঘটেছে।
ইউডি/এ

