পাল্টে যাচ্ছে জীবনযাপন, এমনকি পেশা: বেড়েই চলেছে প্রযুক্তি নির্ভরতা
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:২০
প্রযুক্তির অবকাঠামোগত উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে বিশ্ব। এমন অগ্রযাত্রায় খুব সহজেই অনুমান করা যায়, ভবিষ্যতে পৃথিবীজুড়ে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে হাজির হবে প্রযুক্তি। তাতে প্রযুক্তির কল্যানে মানুষের জীবনযাপন ও পেশা পাল্টে যাওয়ারও সম্ভাবনা কম নয়। বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন সময়েও যার ছাপ স্পষ্ট হয়েছে। এ নিয়ে সিফাত আহমেদ’র প্রতিবেদন
আদালতে মামলা লড়বে‘রোবট আইনজীবী’
মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনযাপনের সর্বক্ষেত্রেই যেন প্রযুক্তির ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ছে। এক সময়ে পাথরে ঘষে আগুণ জÍালানো মানুষ এখন নিজ গ্রহের বাইরে মঙ্গলে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। আর ব্যক্তিজীবন ও কর্মজীবনে প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া মানুষ ভিন্ন কিছু ভাবতেই পারছে না। সম্প্রতি ব্রিটেনের ‘নিউ সায়েন্টিস্ট’ পত্রিকা দাবি করেছে এবার আদালতেও প্রযুক্তির বিস্তৃতি ছড়াচ্ছে। তারা বলছে আগামী ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার আদালতে আইনি পরামর্শদাতার ভূমিকায় দেখা যেতে পারে ‘রোবট আইনজীবীকে’। তবে আদালতে আইনজীবীর বেশে আসবে না কোনও রোবট। বরং আইনজীবীর কাজ চালাবে ‘ডুনটপে’ নামে একটি অ্যাপ। যা থাকবে মক্কেলের স্মার্টফোনে। আমেরিকার কোন আদালতে কী মামলা লড়বে ‘ডুনটপে’ অ্যাপ, তা অবশ্য খোলসা করেনি সংস্থাটি। তবে, আদালতকক্ষে মক্কেলের স্মার্টফোনের মাধ্যমে তাকে আইনি পরামর্শ বা প্রশ্নত্তোরের কাজ চালানোয় সাহায্য করবে বলে জানিয়েছে তারা। নিজ মক্কেলকে আইনি পরামর্শ দিতে কাজে লাগানো হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই)-চালিত রোবটকে।
‘নিউ সায়েন্টিস্ট’ জানিয়েছে, এআই-চালিত ওই রোবট মামলার শুনানির সময় হাজির থাকবে তার মক্কেলের স্মার্টফোনে। ওই ফোনের মাধ্যমেই শুনানির সময়কার প্রশ্নোত্তর শুনে মক্কেলকে যথাযথ আইনি পরামর্শ দেবে সেটি।২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় এই অ্যাপ সংস্থাটি শুরু করেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞানী জোশুয়া ব্রাউডার। এই মুহূর্তে ‘ডুনটপে’-র সিইও হিসাবে কাজ করছেন তিনি। জোশুয়ার দাবি, মামলা-মোকদ্দমার খরচ বাঁচাতেই অ্যাপটি তৈরি করেছে ‘ডুনটপে’।

সায়েন্স ফিকশনও হার মানবে: বিশ্বব্যাপী শুরু হয়ে গেছে প্রযুক্তির বিপ্লব। চালকবিহীন গাড়ি, এআই সংবাদ পাঠকসহ এমন আরও শত কোটি উদ্ভাবন দেখা যাবে সামনের দিনগুলোতে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন সায়েন্স ফিকশনকেও হার মানাবে নিত্যনতুন প্রযুক্তি। ফোরাম ফর দি ফিউচার ফাউন্ডারের গবেষকরা ধারণা করছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৯৮ ভাগ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, যার অনেকেই সংযুক্ত হবেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। মিলকেন ইন্সটিটউটের তথ্য মোতাবেক ২০৩৫ সালের মধ্যেই পৃথিবীর সব গাড়ি হবে চালকমুক্ত। প্রযুক্তির কল্যাণে পৃথিবীতে ক্যাশ লেনদেন থাকবে না বলেই মত দেন বিশ্লেষকরা। ধারণা করা হচ্ছে সব ধরনের লেনদে অনলাইনে এবং মেশিনভিত্তিক হয়ে যাবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গবেষক ডেভিড লেভি বলছিলেন, এমন সময় আসবে যখন মানুষ রোবটের প্রেমে পড়বে এবং বিয়েও করবে রোবট-সঙ্গী বা রোবট-সঙ্গিনী। শুধু তাই নয়, এই বিয়ে আইনসম্মতও হবে।

শিশুদের দেখভালেও প্রযুক্তি ভরসা: প্রাত্যহিক জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার কোথায় গিয়ে থামবে তা বলা মুশকিল। দিনকে দিন মানুষের জীবনযাপন পুরোপুরি প্রযুক্তি নির্ভরই হয়ে পড়ছে। অফিসিয়াল কর্মকান্ড, বিনোদনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ প্রযুক্তি আসক্ত হওয়ার পর এবার তা গিয়ে ঠেকেছে সন্তানদের দেখভালেও। সম্প্রতি ওয়েলসের পাউইসে ঘটেছে এমনই এক কান্ড। নিজের ৫ বছরের কন্যা সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে তার পিতা বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে যান। আর পুরো সময়টাতে ওই কন্যা শিশুর দেখভালের দায়িত্ব পালন করেছে অ্যামাজন অ্যালেক্সা। মূলত এই যন্ত্রটি ঘরে লাগানো ক্যামেরার মাধ্যমে ঘরের সকল চিত্র দেখায়। তাতে ঘরে না থেকেও ঘরের কর্মকান্ড সহজেই বোঝা যায়। এমন খবরে হতবাক হয়ে যায় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই যুবকের বিরুদ্ধে সেই বান্ধবীকে হত্যা চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে, আর তা তদন্ত করতে নেমেই অ্যামাজন অ্যালেক্সা’র বিষয়টি নজরে আসে তাদের। একলা ঘরে ঘুমন্ত মেয়ে কী করছে, কোনও অসুবিধা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য অ্যালেক্সা অ্যাপের সাহায্যে নিজের ফোনে সর্বদা নজর রাখছিলেন সেই পিতা।
ইউডি/সুপ্ত/কেএস

