দুর্গম পাহাড়ে জঙ্গির লাশ
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৯:৪৫
বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র এক সদস্যের লাশ পাওয়া গেছে। লাশটি উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।
শনিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন শিবলীর নেতৃত্বে র্যাব, সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতিতে রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের দুর্গম লুয়ংমুয়াল পাড়া এলাকার পাহাড়ে কবর থেকে এই লাশ উদ্ধার করার সিদ্ধান্ত ছিল।
কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের যাত্রা বাতিল করায় জঙ্গির লাশ উদ্ধারের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি ও থানছির দুর্গম পাহাড়ে র্যাব অভিযান চালিয়ে গেল ১১ জানুয়ারি নিজামুদ্দিন হিরন ওরফে ইউসু, সালেহ আহাম্মদ ওরফে সাইহা, মো. সাদিকুর রহমান সুমন ওরফে ফারকুন, মো. বাইজিদ ইসলাম ওরফে মুয়াজ ওরফে বাইরুল, ইমরান বিন রহমান ওরফে শিতিল ওরফে বিল্লাল নামে নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’র পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় পাঁচ জঙ্গিকে পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে র্যাব।
পুলিশ পাঁচ জঙ্গিকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করে। আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জঙ্গিরা পুলিশের কাছে স্বীকার করে যে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের নিজেদের মধ্যে মতবিরোধের জের ধরে একজনকে হত্যা করে কবর দেওয়া হয়েছে। আটক জঙ্গিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ ও র্যাবের একটি দল দুই জঙ্গিকে সঙ্গে নিয়ে বান্দরবানের থানচি উপজেলা হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা করে। এসময় দুই জঙ্গিদের দেখানো পথে রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের দুর্গম লুয়ংমুয়াল পাড়া এলাকার পাহাড়ে নিহত জঙ্গির কবর শনাক্ত করা হয়।
এদিকে রুমা থানার ওসি আলমগীর বলেন, আদালতের নির্দেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে শনিবার রুমা উপজেলার রেমাক্রী প্রাংসা ইউপির ৬নং ওয়ার্ডের লুয়ংমুয়াল পাড়া এলাকার পাহাড়ের কবর থেকে নিহত জঙ্গির লাশ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের যাত্রা বাতিল করায় রোববার লাশ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালের ২০ অক্টোবর বান্দরবান ও রাঙামাটি জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ৭ জন ও পাহাড়ি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেএনএফ’র ৩ সদস্যকে আটক করে র্যাব, এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়। এরপর বান্দরবানের রোয়াংছড়ি এবং থানচিতে অভিযান চালিয়ে ১১ জানুয়ারি ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার ৫ জঙ্গি সদস্যকে আটক র্যাব।
ইউডি/এ

