দ্বায় স্বীকারেই ভালো দ্বায়িত্বহীনতা নয়

দ্বায় স্বীকারেই ভালো দ্বায়িত্বহীনতা নয়

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৪:১০

সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে। এরই আলোকে নতুন শিক্ষাক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু শুরুতেই সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একটি বিষয়ের পাঠ্যবই নিয়ে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ, যেখানে অনলাইন থেকে অবিকল নকল ও গুগল থেকে হুবহু ভাষান্তরের বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়েছে। দেশের স্বনামধন্য শিক্ষাবিদদের দ্বারা সম্পাদিত সেই পাঠ্যবইয়ে এমন ভুল চরম দ্বায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে। যদিও কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে দ্বায় স্বীকার করে নিয়েছে তবে, তাতেই কি নিষ্কৃতি মিলবে? এ নিয়ে মিলন গাজী’র প্রতিবেদন

শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের এ কেমন আচরন: চলতি বছরে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নতুন বই ইতোমধ্যেই সারাদেশের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নব আঙ্গিকের বই নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে থাকলেও সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ‘অনুসন্ধানী পাঠ’ বইতে দেখা মেলে দায়িত্বহীনতার দৃষ্টান্ত। বইটিতে দেখা যায় অনলাইন ওয়েবসাইট থেকে লাইন টু লাইন কপি করে বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে, ইংরেজি অংশগুলো গুগল ট্রান্সলেটরের মাধ্যমে ভাষান্তর করা হয়েছে যা আমাদের চিরাচরিত বাংলা বাক্য থেকে একেবারেই আলাদা। তাতে এটা স্পষ্ট যে বইটি প্রস্তুত করার জন্য যতটুকু মেধা ও শ্রম দেয়া প্রয়োজন ছিল দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃর্তপক্ষ তা পরীক্ষামূলক এই সংস্করণে করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষা জাতির মেরুদø, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বইতে যা দেখে, শিক্ষকমন্ডলী যা শেখান তা থেকে জ্ঞানপ্রাপ্ত হয়েই নিজেদের পরবর্তী শিক্ষাধাপে অগ্রসর হন। সেক্ষেত্রে ভুল বাক্য কিংবা এ ধরণের পাঠ্যবই থেকে তারা কি শিক্ষা নেবেন তা নিয়ে অভিযোগ করেছেন অনেক গবেষক ও শিক্ষাবিদগণ। যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে কাজটিকে গ্রহণ করেছেন সেটাই এখন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভুল স্বীকার করে নিষ্কৃতির চেষ্টা: সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ বইয়ের একটি অংশ ‘ইন্টারনেট থেকে হুবহু কপি করা হয়েছে’ বলে যে অভিযোগ উঠেছে তার দায় স্বীকার করেছেন বইটির রচনা ও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও অধ্যাপক হাসিনা খান। মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) এ বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতিতে তারা দায় স্বীকার করেন। যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ১৫ জানুয়ারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একট মতামত কলামে সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ বইটির ব্যাপারে একটি অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে। একটি পাঠ্যপুস্তক রচনার সঙ্গে অনেকে জড়িত থাকেন, যাদের শ্রম ও নিষ্ঠার ফলাফল হিসেবে বইটি প্রকাশিত হয়। বিশেষত জাতীয় পাঠ্যপুস্তক রচনার ক্ষেত্রে এসব লেখকের কাছ থেকেই একধরনের দায়িত্বশীলতা আশা করা হয়। সেখানে কোনো একজন লেখকের লেখা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা আমাদের টিমের জন্য হতাশার এবং মন খারাপের কারণ হয়। ওই অধ্যায়ের আলোচিত অংশটুকু লেখার দায়িত্বে আমরা দুজন না থাকলেও সম্পাদক হিসেবে এর দায় আমাদের ওপরও বর্তায়, সেটি আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি। অবশ্যই পরবর্তী সংস্করণে বইটির প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হবে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা

নতুন ধারার শুরুতে হযবরল: বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছে সরকার। যেখানে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আনন্দ নিয়ে নিজেদের শিক্ষাজীবন অতিবাহিত করবে এবং পরবর্তী ধাপে উন্নিত করবে। কিন্তু নতুনত্বের স্বাদ গ্রহণের শুরুতেই হযবরল পরিস্থিতি শিশুদের শিক্ষায় কতটা ব্যাঘাত ঘটাবে তা নিয়ে রয়ে যায় সংশয়। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে সবাই এখন অনেক সচেতন। কোনো কিছু সংগ্রহ করা কিংবা কপি করার বিষয়টি এখন স্বচ্ছ পানির মতো পরিস্কারভাবেই চিহ্নিত করা যায়। শুধু বিষয়ভিত্তিক ভুলেই শেষ নয়, অভিযোগ রয়েছে বইতে ব্যবহার করা সংগৃহীত চিত্রগুলো নিয়েও। একেতো ছবিগুলোর কোনো ক্রেডিটলাইন নেই, দ্বিতীয়ত অপ্রাসাঙ্গিকভাবে অনেক ছবি ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাদের দ্বায় স্বীকার করে দেয়া বিবৃতিতে বলেছেন, বিবৃতিতে বলা হয়, এ বছর বইটির পরীক্ষামূলক সংস্করণ চালু হয়েছে এবং সামনের শিক্ষাবর্ষ থেকে এতে যথেষ্ট পরিমার্জন ও সম্পাদনার সুযোগ রয়েছে। কাজেই উল্লিখিত অভিযোগের বাইরেও যেকোনো যৌক্তিক মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা পরিমার্জন করা হবে।

ইউডি/সুপ্ত/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading