আমেরিকা-চীন যুদ্ধ ২০২৫ সালে!
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:১০
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শেষ না হতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিপর্যস্ত বৈশ্বিক অর্থনীতি। এরই মধ্যে উত্তেজনার পারদ চরমে ছিলো তাইওয়ান ঘিরে আমেরিকা-চীনের কথার লড়াই। এবার সেই লড়াইয়ে আরও আগ্রাসীবার্তা দিলেন আমেরিকার সামরিক বাহিনীর এক জেনারেল। তার মতে, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সঙ্গে ২০২৫ সালে যুদ্ধ হবে আমেরিকার। এ নিয়ে আসাদ এফ রহমানের প্রতিবেদন
আমেরিকান সেনাদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ: তাইওয়ান নিয়ে চীন ও আমেরিকার মধ্যে বিরোধ সা¤প্রতিক বছরগুলোতে দিনকে দিন স্পষ্ট হচ্ছে। চীন তাইওয়ানকে একটি বিচ্ছিন্ন প্রদেশ হিসেবে দেখে; সে হিসেবে, তাইওয়ান চীনেরই অংশ। কিন্তু তাইওয়ান কোনো ভাবেই নিজেদের চীনের অংশ বলতে নারাজ। আমেরিকাও বিশেষ করে বাইডেন প্রশাসন তাইওয়ানকে সব ধরণের সহযোগীতার আশ্বাস দিয়ে আসছে। আর তাইপেকে ওয়াশিংটনের যে কোনো সহযোগিতার নিন্দা জানিয়ে যাচ্ছে বেইজিং। বাইডেন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলে চীনা জঙ্গিবিমানের অনুপ্রবেশের ঘটনাও বেড়েছে। চীনের হুমকি ধামকি উপেক্ষা করে গতবছর তাইওয়ানে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির সফরের পর স্বশাসিত দ্বীপটিকে ঘিরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের শুরুর দিকে চীনের সঙ্গে সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করেছেন আমেরিকার বিমানবাহিনীর জেনারেল। তিনি বলেছেন, সম্ভবত তাইওয়ানকে ঘিরে এই সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে আমেরিকার ওই কমান্ডার তার ইউনিটগুলোকে চলতি বছরে ‘অপারেশনাল’ যুদ্ধের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়ার আহŸান জানিয়েছেন। একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপিতে আমেরিকার ওই জেনারেল সতর্ক করেন, যা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসে। পরে পেন্টাগন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চীনের টার্গেট মার্কিন নির্বাচন: আমেরিকার এয়ার মোবিলিটি কমান্ডের প্রধান জেনারেল মাইক মিনিহান বলেন, আমেরিকার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত চীনকে বাধা দেওয়া এবং প্রয়োজনে পরাজিত করা। আমার মনে হচ্ছে আমরা ২০২৫ সালে লড়াই করব। নিজের যুক্তি তুলে ধরে মিনিহান বলেন, আগামী বছর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সামরিক আগ্রাসনের জন্য একটি অজুহাত হতে পারে। অপরদিকে ওই সময় আমেরিকারও নির্বাচন হবে। তাই আমেরিকা তখন অন্যদিকে মনোযোগ দিতে পারবে না। আর এ সুযোগ নেবে চীন। মিনিহান বলেন, শির বাহিনী ২০২৫-এর সুযোগের অপেক্ষায়। স্মারকলিপিতে সব মোবাইল কমান্ড কর্মীদের ফায়ারিং রেঞ্জে যাওয়ার আহŸান জানানো হয়েছে। পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র ওই স্মারকলিপি সম্পর্কে এএফপির ই-মেইলের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, হ্যাঁ, এটা বাস্তবিক যে তিনি এটি পাঠিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা সা¤প্রতিক মাসগুলোতে বলেছেন, চীন আক্রমণের প্রস্তুতির গতি বাড়াচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। চীন গত বছরের আগস্টে বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে, যেটিকে আগ্রাসনের পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক যুদ্ধ রূপ নিচ্ছে সামরিকে! : বিশ্বে তাইওয়ানের অর্থনীতির ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। মুঠোফোন থেকে শুরু করে ল্যাপটপ, ঘড়ি ও গেম কনসোলের মতো ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোতে কম্পিউটার চিপ ব্যবহার করা হয়। এ চিপের বড় একটি অংশ তৈরি হয় তাইওয়ানে। বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই আমেরিকা-চীন দু’দেশের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে তাইওয়ান। বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নানান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে এমনিতেই টানাপোড়েন চলছিল; গত বছর ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এরপর থেকেই দু’দেশের ক‚টনীতিকদের মধ্যে চলে কথার লড়াই। তাইওয়ান ইস্যুতে আমেরিকার পদক্ষেগুলো নিয়ে বারবারই সতর্ক করে আসছে চীন। তারা বলছে তাইওয়ানকে খুব ভুল এবং বিপজ্জনক সিগন্যাল দিচ্ছে আমেরিকা। তাইওয়ান যত বেশি স্বাধীনতার তৎপরতা চালাবে, ততই শান্তিপূর্ণ সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা কমে আসবে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বলে আসছে, তাইওয়ান ইস্যু চীনের আভ্যন্তরীণ বিষয়। যেকোনো পদ্ধতি ব্যবহার করে এই সমস্যার সমাধান করতে চাওয়ার মাধ্যমে এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার নেই আমেরিকার। অন্যদিকে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাইওয়ানে গণতান্ত্রিক সরকারকে রক্ষার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। এ নিয়ে সর্বশেষ যে বিবৃতি দিয়েছেন তিনি তা এ পর্যন্ত দেয়া সব মন্তব্যের মধ্যে কড়া। তিনি বলেছেন, আমেরিকার সেনাবাহিনী তাইওয়ানকে রক্ষা করবে।
ইউডি/এজেএস

