রাজশাহীর মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী: আওয়ামী লীগ পালায় না, পালায় বিএনপি
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:০০
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তার দল কখনো পলায়ন করে না বরং বিএনপি নেতারাই পালিয়ে যায়। শেখ হাসিনা রবিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে মহানগর আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের চুম্বক অংশ নিয়ে সাদিত কবির’র প্রতিবেদন
‘মামলার হুমকি উপেক্ষা করেও দেশে এসেছি’: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা (বিএনপি নেতারা) বলছে আওয়ামী লীগ পালানোর সুযোগ পাবে না, আমি তাদের একটা কথা পরিষ্কার করতে চাই যে, আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না, কিন্তু তাদের নেতারাই পালিয়ে যায়। ’৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের বাধা সত্তে¡ও ’৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর একরকম জোর করেই দেশে ফিরে আসার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবার ২০০৭ সালে ছেলের বউ অসুস্থ থাকায় তাঁকে বিদেশ যেতে হয়েছিল কিন্তু তাঁর ফেরায় আবারও বাধার সৃষ্টি করা হয়, মামলা হুমকি ধমকি উপেক্ষা করেও সে সময় বাংলার মানুষের কথা চিন্তা করে জোর করে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন।
বিএনপির চরিত্র ‘অমানবিক’: বিএনপির চরিত্র ‘অমানবিক’ বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তারা মানুষ চেনে না। তারা মানুষের জন্য কিছু করতে পারে নাই। তাদের কাজ কী? নিজেরা লুটেপুটে খাবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। আর বিএনপি কী করে? মানুষ খুন করা, অগ্নিসন্ত্রাস তাদের কাজ। তিনি বলেন, বিএনপি তিন হাজার ৮০০ বাস, ২৯টি ট্রেন, লঞ্চ, প্রায় ৭০টি সরকারি অফিস, ৬টি ভ‚মি অফিস আন্দোলনের নামে পুড়িয়েছে।
দেশে দারিদ্রের নেমেছে অর্ধেকে: প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা দারিদ্রের হার ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়েছি। সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি তিনি ভ‚মিহীন-গৃহহীনদের জন্য তাঁর সরকারের বিনা মূল্যে ২ কাঠ জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের এই বাংলায় একটি মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে, কেউ যেন খাদ্যের জন্য কষ্ট না পায় সেজন্য তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করেন তিনি।

নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান: শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে দেশবাসীকে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করারও আহ্বান জানান। গত নির্বাচনে (জাতীয় নির্বাচন) এবং মেয়র নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য তিনি রাজশাহীর জনগনণকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও নৌকায় ভোট প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, আগামীতে নির্বাচন আসবে, এই বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে সেখানে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন কি না ওয়াদা চাই।
দেশকে এগিয়ে নিতে চায় আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে দিতে আসে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জনগণ পায়। আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাক। দেশকে আমরা উন্নত করতে চাই। শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেশে কোনো মানুষ গৃহহীন থাকবে না। কোনো মানুষ না খেয়ে কষ্ট পাবে না। সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিগত সময়ে সরকার রাজশাহীতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সাল থেকে গত ১৪ বছরে শুধুমাত্র রাজশাহী জেলা ও মহানগরে ১০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দিয়েছি।

রাজশাহীতে ২৬ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (আরসিসি) ৭টিসহ ২৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন, যার প্রকল্প ব্যয় প্রায় ১,৩১৬ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা। তিনি ৩৭৬ দশমিক ২৮ কোটি টাকা আনুমানিক ব্যয়ে নির্মাণাধীন আরও ছয়টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।সরকারি সুত্র জানায়, বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো হলো: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল। রাজশাহী সিটি করপোরেশন প্রায় ৫ কোটি ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নগরীর সিএন্ডবি ক্রসিংয়ে ম্যুরালটি নির্মাণ করেছে।এছাড়া সিটি করপোরেশন আরো যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সেগুলো হচ্ছে; শেখ রাসেল শিশু পার্ক, মোহনপুর রেল ক্রসিংয়ের ওপর ফ্লাইওভার, চার লেনের সড়ক এবং ভাদ্রা রেল ক্রসিং থেকে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল পর্যন্ত ধীরগতির যানবাহনের জন্য একটি পৃথক লেনসহ রোড ডিভাইডার, চার লেনের সড়ক এবং রোড ডিভাইডার। বিলসিমলা রেলক্রসিং থেকে সিটির হাট পর্যন্ত ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন এবং সড়ক প্রশস্তকরণ, কল্পনা সিনেমা হল থেকে তালাইমারী ক্রসিং এবং কার্পেটিং সড়কের উন্নয়ন, হাই-টেক পার্ক হয়ে রেন্টুর খারির আড়ত থেকে ধলুর মোড় পর্যন্ত নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণ এবং কার্পেটিং। কোর্ট থেকে শাহারতলী ক্লাব পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ।
ইউডি/এজেএস

