ওয়াসা এমডি’র অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: তদন্তের নির্দেশ আদালতের
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:২০
২০০৯ সাল থেকে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে রয়েছেন প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। প্রথম নিয়োগের পর থেকে মোট ছয়বার তার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। এ সময়কালে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। যার মধ্যে তাকসিম এ খানসহ নয় জনের বিরুদ্ধে কর্মচারী সমিতির ১৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এ নিয়ে আরাফাত সিফাত’র প্রতিবেদন
কর্মচারী সমিতির অর্থ কর্মকর্তার পকেটে!
ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানসহ নয় জনের বিরুদ্ধে কর্মচারী সমিতির ১৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির সম্পাদক মো. শাহাব উদ্দিন সরকারের করা এক মামলার আবেদনের ওপর শুনানি করে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. আসাদুজ্জামান সোমবার (৩০ জানুয়ারি) এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী গাফফার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ৪ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ঢাকা ওয়াসা থেকে রাজস্ব আদায় কাজ বাবদ ৯৯ কোটি ৬৫ লাখ ১৯ হাজার ১৭৩ টাকা পায়। আর ২০১৮ সাল থেকে ২০১৯ অর্থবছরে এ কাজ থেকে সমিতি আয় করে ৩৪ কোটি ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯০ টাকা। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০১৮ অর্থবছরে সমিতির হিসাবে জমা হয় ১ কোটি ৭৯ লাখ ৫৯ হাজার ৫০৩ টাকা। বাকি ১৩২ কোটি ৪ লাখ ১৭ হাজার ৪৬০ টাকা ছয়টি ব্যাংক থেকে বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে আসামিরা ‘আত্মসাৎ’ করেছেন এবং সমবায় অধিদপ্তরের অডিট রিপোর্টেও তা ‘প্রমাণিত’ হয়েছে বলে দাবি করা হয় আর্জিতে।
তাকসিমের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো, ঠিকাদার নিয়োগে সিন্ডিকেট গঠন, ঘুষ লেনদেন, পদ সৃষ্টি করে পছন্দের লোককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, অপছন্দের লোককে ওএসডি করাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটও (বিএফআইইউ) গত বছরের ২৫ আগস্ট তাকসিম এ খানের সব ধরনের ব্যাংক হিসাব তলব করে চিঠি দেয়। ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতির ১৩২ কোটি চার লাখ ১৭ হাজার ৪৬০ টাকা ছয়টি ব্যাংক থেকে বিভিন্ন চেকের মাধ্যমে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের প্রত্যক্ষ মদদে ও নির্দেশে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে; এমন অভিযোগে তাকসিম এ খানসহ নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়। ঐ মামলার তদন্তভার দুদকের হাতে ন্যস্ত হয়েছে। আর সোমবার আদালত তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও চলতি বছরের শুরুতে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ওয়াসার তাকসিমের যুক্তরাষ্ট্রে ১৪ বাড়ি!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যা নজরে আনা হলে হাই কোর্ট দুদককে তদন্তের নির্দেশ দেয়। ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ পান প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। এরপর ধাপে ধাপে সময় বাড়িয়ে তিনি এখনও বহাল রয়েছেন এই পদে। তাকসিম এ খানের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিধি মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রথম নিয়োগের পর থেকে মোট ছয়বার তার দাায়িত্বের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার ওয়াসা এমডি’র: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত নিয়ে ওয়াসার এমডির ভাষ্য, ঢাকা ওয়াসার ভালো কাজ দেখে যাদের ক্ষতি হয়, তারাই এমন অভিযোগ করেন। আমি জীবনে হারাম পয়সা খাইনি, খাবো না। তিনি বলেছেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি পদের চাকরি ছেড়ে দিতে চেয়েছি বহুবার। আমাকে অনুরোধ করে রাখা হয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা বলে ওয়াসা এমডি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমেরিকায় তার ১৪ বিষয়টি ‘সর্বৈব মিথ্যা’। যে ১৪টি বাড়ির কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে পাঁচটি বাড়িতে তার পরিবার বিভিন্ন সময় ভাড়া থেকেছেন। আর একটি বাড়ি তার স্ত্রীর নামে। তিনি, তার স্ত্রী, সন্তান সবাই আমেরিকার নাগরিক।

দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তাকসিম গণমাধ্যমকে জানান, আমি আমেরিকা থেকেই ওয়াসায় চাকরি করতে এসেছি। এমন নয় যে এখানে চাকরি করে আমার সম্পদ ওখানে গড়েছি। আমার স্ত্রী সেখানে সরকারি চাকরি করে। আমার সন্তানও সেখানে খুব ভালোমানের চাকরি করে। আমি যে ইনকাম করি, তা থেকে ওদেরকে কিছুই দিতে হয় না। তারা ওখানে অনেক ভালো আছে; যে কারণে আমার স্ত্রীর নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট থাকা অস্বাভাবিক কিছু না। তবে রিপোর্টে যে ১৪টি বাড়ির কথা বলা হয়েছে তা পুরোপুরি অসত্য।
ইউডি/কেএস

