টিকে থাকার লড়াই ‘নোনা পানি’
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:১০
খুলনাঞ্চলের মানুষের জীবনের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র ‘নোনা পানি’।
চলচ্চিত্রটি সম্পূর্ণ চিত্রায়িত হয়েছে খুলনার বিভিন্ন গ্রামে। নির্মাণপ্রক্রিয়ায় যুক্ত ব্যক্তিদের অধিকাংশই খুলনার স্থানীয়। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন খুলনারই মেয়ে সৈয়দা নিগার বানু।
খুলনার সুন্দরবনের কাছে ভদ্রা নদীর পাড়ে বটখালী গ্রামের প্রতিনিধিত্ব করছে রোম্বা, দশপাই ও কৃষ্ণার মতো তিনটি চরিত্র। আঠাশ বছর বয়সী স্বামী পরিত্যাক্তা রোম্বা ঘূর্ণিঝড় আইলার শিকার হয়ে জীবনধারণের আশায় অন্য গ্রামে অভিবাসিত হয়। সেই গ্রামে নদী থেকে চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করাই বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
রোম্বা, দশপাই ও কৃষ্ণারা তাদের নিঃসঙ্গতা, অসহায়ত্ব, জেদ আর টিকে থাকার লড়াইয়ের সূত্রে পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তারা সবাই চায় গ্রামে থিতু হতে, চায় আত্মপরিচয়। এই আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিতে গিয়ে তারা কখনো কখনো নিজ নিজ জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে চায়। ছুড়ে ফেলতে চায় অসহায়ত্বের ঘেরাটোপ।
‘নোনা পানি’তে এমনই গল্প বলেছেন সৈয়দা নিগার। সিনেমাটির প্রিমিয়ার শুক্রবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় খুলনা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে প্রচারিত হবে। সিনেমাটি প্রয়োজনা করেছে বেঙ্গল চলচ্চিত্র উন্নয়ন ফোরাম।
বুধবার বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে সিনেমাটি নিয়ে সাংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন ছবির পরিচালক সৈয়দা নিগার বানু, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শুভজিত রায় ও চলচ্চিত্রশিল্পী রুবল রোদী।
ছবির পরিচালক সৈয়দা নিগার বানু বলেন, ‘চল্লিশ বছরের দশপাই পুরুষ না নারী এই দ্বন্দ্ব রয়েছে গ্রামের মানুষদের। তার চরিত্রটি রহস্যময়। বাইরের জগতের সঙ্গে তার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম রেডিও। রেডিওতে মগ্ন এই চরিত্রটি পৃথিবীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলে।’
‘সে অবলীলায় যেমন কীর্তনের সঙ্গে সুর মেলায় তেমনি আবার নেচে ওঠে লাটিন বা ফরাসী বাদ্যযন্ত্রে। পঁচিশ বছর বয়সী কৃষ্ণা যাত্রাদলের পার্শ্ব চরিত্রের অভিনেত্রী। সুরেলা একটি গলা থাকলেও তার শরীরটা মোটেও আকর্ষণীয় নয়। রোম্বা, দশপাই ও কৃষ্ণারা তাদের নিঃসঙ্গতা, অসহায়ত্ব, জেদ আর টিকে থাকার লড়াই নিয়েই নির্মিত হয়েছে নোনা পানি’, বলেন নিগার।
ইউডি/এ

