লাশ হয়ে ফেরা ৭১৪ অভিবাসী নারী শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

লাশ হয়ে ফেরা ৭১৪ অভিবাসী নারী শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ০৮:০০

লাশ হয়ে ফেরা ৭১৪ অভিবাসী নারী শ্রমিকের পরিবারের জন্য পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসী নারী শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ তদন্ত, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের বেঞ্চে থেকে অনুমতি নিয়ে রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আঞ্জুমান আরা লিমা।

রিট আবেদনের সঙ্গে “লাশ হয়ে ফিরলেন ৭১৪ নারী” শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, বিএমইটির মহাপরিচালক ও পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

এই রিটে বিদেশে নারী শ্রমিকের অমানবিক নির্যাতন বন্ধ, তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদে দেশে ফেরার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবাসে মৃত্যুবরণ করা শ্রমিকদের মৃত্যুর কারণ তদন্ত করে যথাযথভাবে জানানোর পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে মালিক পক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনাও এই রিটে চাওয়া হয়েছে।

“লাশ হয়ে ফিরলেন ৭১৪ নারী” শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিন বছরে ৪০৪ জন নারী শ্রমিকের লাশ দেশে এসেছে। তাদের মধ্যে ২২৭ জনের ক্ষেত্রে “স্বাভাবিক মৃত্যু” লেখা ছিল।

আর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের তথ্য বলছে, ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সাত বছরে ৭১৪ নারী শ্রমিকের লাশ দেশে এসেছে। তাদের মধ্যে “স্বাভাবিক” মৃত্যুর সনদ লেখা লাশের সংখ্যা ২৬২। আর ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৩ বছরে ৩১৯ নারী শ্রমিকের লাশ দেশে আসে। যাদের মধ্যে ২২০ জনের ক্ষেত্রে লেখা ছিল “স্বাভাবিক মৃত্যু”।

অন্যদিকে ব্র্যাকের গত সাত বছরের পরিসংখ্যান বলছে, এই সময়ে যেসব নারী শ্রমিকের লাশ দেশে এসেছে তাদের মধ্যে ১৩৮ জনের মৃত্যুর কারণ লেখা ছিল “স্ট্রোক”; ১১৬ জনের ক্ষেত্রে “আত্মহত্যা”; ১০৮ জনের ক্ষেত্রে “দুর্ঘটনা”; ১৬ জনের ক্ষেত্রে “হত্যা” এবং এর বাইরে করোনাভাইরাস, ক্যান্সার, অজানা রোগ বা কোনো কারণ উল্লেখ না করেই দেশে নারী শ্রমিকের লাশ পাঠানোর ঘটনা ঘটেছিল।

অভিবাসন নিয়ে কাজ করা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু) ২০১৭ সাল থেকে দেশে আসা ৫৪৮ নারী শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ ও করণীয় বিষয়ে একটি গবেষণা করেছে।

“ডেথ অব ফিমেল মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স ইন ডেসটিনেশন কান্ট্রিজ” শিরোনামের সেই গবেষণায় সনদে থাকা মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, ৬৯% নারী শ্রমিকের “স্বাভাবিক” ও ৩১% “অস্বাভাবিক” মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading