২২তম ‘মহামান্য’

২২তম ‘মহামান্য’

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:১৫

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই আলোচনা ছিলো তুঙ্গে। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় প্রার্থী হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু’র নাম চূড়ান্ত করেছেন। রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিনে একক প্রার্থী হিসেবে তার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেয় আওয়ামী লীগ। আর কোনও প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা না দেয়ায় একক প্রার্থী হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। এ নিয়ে আরেফিন বাঁধনের প্রতিবেদন

অবিশ্বাস্য গোপনীয়তার পর চমক: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কাছে গত ৭ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের ভার সর্বসম্মতিক্রমে অর্পণ করা হয়। অসমর্থিত সূত্রে আলোচনায় থাকা প্রার্থীদের বাইরে ক্ষমতাসীন দলের প্রধান প্রার্থী নির্বাচনে দিলেন চমক। রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর নাম নির্বাচন কমিশনে দাখিল করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়েছে। আর কোনো প্রার্থী না থাকায় এখন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত ঘোষণার অপেক্ষা। বিধান অনুযায়ী, আজ সোমবার প্রার্থিতা বাছাইয়ে সাহাবুদ্দিন চুপ্পু’র মনোনয়ন বৈধ বিবেচিত হলে নির্বাচন কমিশন তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করবে। এখন শুধু প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পালা। আইনি বাধ্যবাধকতা অনুসারে একক প্রার্থী থাকলে এবং তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করলে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় (১৪ফেব্রুয়ারি) শেষে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষিত হবেন। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে সংবিধান অনুযায়ী, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে শপথ না নেওয়া পর্যন্ত বর্তমান রাষ্ট্রপতি নিজ পদে বহাল থাকবেন।

ছাত্রনেতা থেকে বঙ্গভবনের পথে: মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হন। তিনি ১৯৪৯ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ছাত্রজীবনে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবং ১৯৭৪ সালে পাবনা জেলা যুবলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সাহাবুদ্দিন ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৯৫ সালে জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আইন মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিযুক্ত সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে সংঘটিত হত্যা, ধর্ষণ ও লুণ্ঠন এবং মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অনুসন্ধানে গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইতিপূর্বে জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের একজন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা

ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী: দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি ) সকালে গণভবনে তিনি সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন। নিজের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, সবকিছু আল্লাহর ইচ্ছা। সব সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ, তিনি আমাকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করেছেন। এ মুহূর্তে আমার প্রতিক্রিয়া এটুকুই। আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশের প্রাচীনতম এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে সাহাবুদ্দিনকে মনোনয়ন দিয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা কাছে গত ৭ ফেব্রুয়ারি পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। তিনি এ মনোনয়ন চ‚ড়ান্ত করেছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান গণমাধ্যমকে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে তিনি যুবক বয়সেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তথ্য সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. সাহাবুদ্দিন মাঠের রাজনীতি করেছেন। রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি ঝুঁকি নিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছেন। যিনি মুক্তিযোদ্ধা, যার মধ্যে ভদ্রতা, নম্রতা একইসঙ্গে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা সব কিছুরই সমন্বয় আছে।

ইউডি/এজেএস

Taanjin

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading