‘গণতান্ত্রিক অধিকার ফেরাতে ভাষা শহীদদের আত্মদান প্রেরণা জোগাবে’
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:১৫
বর্তমানে দেশের মানুষকে নানাভাবে অধিকারহীন করে একুশের স্বপ্নকে তমসাচ্ছন্ন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ’৫২-এর ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ও রুহের মাগফেরাত কামনা করে এই বিবৃতি দেওয়া হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একুশের অম্লান চেতনা জনগণের মৌলিক অধিকার হরণকারী নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শক্তিকে রুখতে আমাদের উদ্বুদ্ধ করবে। তাই এই দুঃসময়ে জনগণের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে আমাদের প্রেরণা জোগাবে ’৫২-এর মহান একুশের শহীদদের আত্মদান।’
তিনি বলেন, ‘অধিকার আদায় এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে ভাষাশহীদরা আমাদের প্রেরণার উৎস। প্রকৃতপক্ষে এই মহান ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতিসত্তার বিকাশে এবং একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রথম সোপান হিসেবে কাজ করেছে।
‘২১ ফেব্রুয়ারি শুধু মাতৃভাষা প্রতিষ্ঠার দিনই নয়, আমাদের স্বাধিকার, স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রথম সংগ্রামের দিন। মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করে তারা আত্মত্যাগের যে গৌরবদীপ্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনের পথ বেয়ে আমরা অবতীর্ণ হয়েছি স্বাধীনতা যুদ্ধে। প্রতিষ্ঠা করেছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্বজাত্যবোধ ও অধিকারবোধের চেতনা পরিপূর্ণতাদান করেছিল মহান ২১ ফেব্রুয়ারি।
‘সেই চেতনা নস্যাৎ করে একদলীয় শাসনের জগদ্দল পাথর আজ জনগণের কাঁধের ওপর চাপানো হয়েছে। মধ্যরাতের নির্বাচনে ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে জনগণকে প্রতারিত করা হয়েছে, যা খোলাখুলি কারচুপির এক নিকৃষ্টতম দৃষ্টান্ত। গণতন্ত্রকে সমাহিত করে এই দুঃশাসন দীর্ঘায়িত করতে অবৈধ শক্তির জোরে সাজানো মিথ্যা মামলায় খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে বন্দি করে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়েছে’, দাবি করেন ফখরুল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একুশের চেতনার উত্তরাধিকারী হয়ে এ দেশের সংগ্রামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমরা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী একনায়কতান্ত্রিক সরকারকে পরাজিত করে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করব।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শহীদের মহিমান্বিত অবদানের কারণে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে। জাতি হিসেবে এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমাদের ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে অধিকতর সমৃদ্ধশালী করে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। যাতে সমৃদ্ধ সংস্কৃতিসম্পন্ন জাতি হিসেবে আমরা বিশ্ব সভায় মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে পারি।’
ইউডি/এ

