চুক্তি স্থগিত রাশিয়ার, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে বাইডেনের বৈঠক
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:৪৫
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রচুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে পোল্যান্ডে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে তিনি কিয়েভের জন্য ‘অটল সমর্থন’ ঘোষণা করেছেন।
পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, তিনি ২০১০ সালে আমেরিকার সঙ্গে স্বাক্ষরিত নিউ স্টার্ট পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি স্থগিত করছেন। ওই ঘোষণার পর ব্রিটেনের নেতারা পুতিনকে তার ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বার্ষিকীতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তব্যের পর বাইডেন তাকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বাইডেন বলেন, ‘স্বৈরাচারীরা কেবল একটি শব্দ বোঝে। সেটা হলো– না, না, না!’
তিনি আরও বলেন, ‘পুতিন ভেবেছিলেন বিশ্বশক্তি গুটিয়ে যাবে। তিনি ভুল ভেবেছিলেন। ন্যাটো আগের চেয়ে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ। কিয়েভ শক্তিশালী এবং স্বাধীনভাবে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনের জন্য পশ্চিমা সমর্থন ব্যর্থ হবে না।’
বাইডেন বুধবার (২২ ফ্রেব্রয়ারি) ন্যাটোর পূর্বদিকে নয়টি দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে হস্তক্ষেপের জন্য ন্যাটোকে স্বাগত জানানোর বিষয়টি অনেকটাই পরিষ্কার করেছেন।
ওই বৈঠকে বাইডেন আর্টিকেল ৫-এর কথা উল্লেখ করেন। ওই আর্টিকেল ৫-এর অধীনে ন্যাটো সদস্যরা অন্য যেকোনো সদস্য দেশ আক্রমণের শিকার হলে তাকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করে। বাইডেন বলেন, ন্যাটো জোট এবং এর অনুচ্ছেদ ৫- উভয়ের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি সুদৃঢ়।
বাইডেন বলেন, ‘ন্যাটোর প্রতিটি সদস্য এবং রাশিয়াও জানে যে, একজনের বিরুদ্ধে আক্রমণ মানে সবার বিরুদ্ধে আক্রমণ।’
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি গত মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কিয়েভে প্রথম সফর করে বুচা এবং ইরপিন শহর পরিদর্শন করেন। সেখানে রাশিয়ান সেনারা শত শত বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছিল।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনীয়রা ইতালির ওপর নির্ভর করতে পারে। আমরা শুরু থেকেই তাদের সঙ্গে ছিলাম এবং শেষ পর্যন্তও থাকব।’
এদিকে, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের বার্ষিকীকে সামনে রেখে গত শুক্রবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বক্তব্য রাখেন। ওই বক্তব্যে তিনি পশ্চিমা শক্তির প্রতি তার তিক্ততা তীক্ষ্ণ করেছেন। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমারা নাৎসি জার্মানিকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল এবং ইউক্রেনকেও ‘রাশিয়া বিরোধী’ এক নব্য-নাৎসি শাসনে পরিণত করেছে।
রাশিয়ার পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে তার ভাষণে প্রেসিডেন্ট পুতিন জোর দিয়ে বলেছেন, ‘তারা যুদ্ধ শুরু করেছিল। আমরা এটি বন্ধ করতে শক্তি প্রয়োগ করছি।’
ইউডি/এ

