গুলিস্তানে বিস্ফোরণ: নিখোঁজদের জন্য দুর্ঘটনাস্থলে স্বজনদের অপেক্ষা
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৮ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১১:৪৫
রাজধানীর গুলিস্তানে বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডের পাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন। তাদের উদ্ধারের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন স্বজনরা।
মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজে সাময়িক বিরতি টানে। বুধবার (০৮ মার্চ) সকালে তারা আবার উদ্ধারকাজ শুরু করে। এর আগে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরকের কোনো আলামত পায়নি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদপুর উজ্জ্বল কুমার হালদার বলেন, ‘রাতে স্বজনরা পাঁচজন নিখোঁজ থাকার দাবি করেন। পরে দুইজনের খোঁজ পাওয়া যায়। নিখোঁজ তিনজন হলেন- মো. মেহেদী হাসান, ইমতিয়াজ মোহাম্মদ ভূইয়া (সেলিম) ও রবিন হোসেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ২০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ১১ জনের মধ্যে একজনকে ওয়ার্ডে পাঠানোর কথা রয়েছে।’
যাদের লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে তারা হলেন, মুনসুর, আলামিন, আবু বক্কর সিদ্দিক, নাজমুল হোসেন, রাহাত, ওবায়দুল হাসান বাবুল, নুরুল ইসলাম, হৃদয়, মাইনুদ্দিন, মমিনুল, নদী, আকুতি বেগম আছিয়া, ইসমাইল হোসেন, ইছহাক মৃধা, সুমন, আব্দুল হাকিম সিয়াম।
দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা হয় আব্দুল মান্নানের সঙ্গে। তার মেয়ের স্বামী মেহেদি হাসান (স্বপন) এখানে একটি দোকানে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেখানে ছিলেন স্বপনের ভাই সোহাগ। তাকে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন মান্নান। সোহাগ কাল থেকে হাসপাতালে হন্যে হয়ে ভাইকে খুঁজেছেন। কিন্তু পাননি।
মঙ্গলবার (০৭ মার্চ) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সিদ্দিকবাজারের নর্থ সাউথ রোডের সাততলা ভবনটিতে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ১৮ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বিধ্বস্ত ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধারকাজের জন্য ভেতরে ঢুকতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের ভয়াবহতা এত বেশি ছিল যে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো এলাকা। দেয়াল ভেঙে এসে পড়ে রাস্তায়। সড়কে থাকা বহু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্শ্ববর্তী ভবনগুলোও। ভেঙে পড়েছে অনেক ভবনের কাঁচ।
বাসযাত্রী থেকে শুরু করে পথচারী পর্যন্ত আশেপাশে থাকা সবাই হতাহত হয়েছেন। ঘটনার পর রিকশা, ঠেলাগাড়ি, ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সসহ যে যেভাবে পেরেছেন আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছেন।
ইউডি/এ

