জাপানে নারী বিদ্বেষ, পুরুষরা ‘মানতে চান না’ নারী মেয়রের সিদ্ধান্ত
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৮ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১৫:৪৫
সাতোকো কিশিমোতো একজন নারী। তবে সাধারণ নারী নন তিনি। জাপানের সুগিনামি জেলার নির্বাচিত মেয়র তিনি। গত বছরের জুনে ওই জেলার ইতিহাসের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন ৪৮ বছরের সাতোকো।
বিবিসির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচিত হয়েও জাপানের মতো একটি উন্নত দেশেও পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোপানলে পড়তে হচ্ছে সাবেক এই পরিবেশ ও গণতন্ত্রকর্মীকে। রাজনীতির পাশাপাশি সামলাতে হচ্ছে দেশটির পুরুষতান্ত্রিক বিদ্বেষ ও বৈরী মানসিকতাকেও।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা জানান। প্রথম কয়েক মাসকে ‘কঠিন পথ পাড়ি’ বলে উল্লেখ করেন সাতোকো। দেশটির পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির দিকে উল্লেখ করে তিনি বলেন ‘একজন সুন্দরী নারীর জন্য এটি (রাজনীতি) স্বভাবতই কঠিন’
‘আমার কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই, আমি কোনো কূটনৈতিক নই। আমার যারা সহকর্মী বা আমার পরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে যারা আছে তারা সবাই পুরুষ। তাই আমি যা বলি তা তারা শোনে কিন্তু মানতে চায় না’, বলেন এই মেয়র।

এই সংস্কৃতিকে ‘পুরুষ ক্লাব পলিটিক্স’ নামে আখ্যা দিয়ে সাতোকো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, লিঙ্গ সমতা, বৈচিত্র্য এসব বিষয়ে অহরহই পুরুষদের বিরোধিতার শিকার হতে হয়।
‘আমি নীতি পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক করতে চাই। কিন্তু কাউন্সিলে সেসবের চেয়ে আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারে আক্রমণ ও আলোচনা বেশি হয়,’ বলেন তিনি।
নারী বলেই তার সাফল্য ও শিক্ষার চেয়ে চরিত্র নিয়ে এমনটি করা হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নারীরা ঘরগৃহস্থালির কাজ ও সেবা দেবে এটিই জাপানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত সামাজিক প্রথা, মানসিকতা ও আচরণ বলেও জানান তিনি।
জাপানের রাজনীতিতে নারীদের কম অংশগ্রহণের হারকে ‘সামাজিক সংকট’ বলে উল্লেখ করে দেশটির রাজনীতিতে পুরুষতন্ত্রের প্রভাব ভাঙতে অন্য নারীদের এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান সাতোকো।
শুধু সাতোকোই নন, জাপানের রাজধানী টোকিওর মাচিদা জেলার আরেক নারী কাউন্সিলর নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও জানান।

সম্প্রতি জাপানের স্থানীয় সংবাদ সংস্থা কিয়োডোর এক জরিপে দেখা যায়, পুরুষদের চেয়ে নারী রাজনীতিবিদরা বেশি যৌন হেনস্থা ও লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার হন।
জাপান বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্ততম অর্থনীতির দেশ হলেও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম প্রকাশিত ২০২২ সালের বৈশ্বিক লিঙ্গ বিভাজন সূচকে (গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ ইনডেক্স) ১৪৬ দেশের মধ্যে দেশটির অবস্থান ১১৬তম।
ইউডি/এ

