চীনকে মোকাবিলায় পারমাণবিক সাবমেরিন তৈরির তথ্য তুলে ধরল তিন দেশ
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১৪:৩০
পারমাণবিক শক্তিচালিত পরবর্তী প্রজন্মের সাবমেরিনের একটি বহর তৈরির যে পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে আমেরিকা, ব্রিটেন আর অস্ট্রেলিয়া, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ মার্চ) ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে ওই চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ করেন আমেরিকা, ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার নেতারা।
সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাবমেরিনের নতুন একটি বহন তৈরিতে কাজ করবে এই তিন দেশ। এই প্রযুক্তির মধ্যে থাকবে ব্রিটেনের রোলস রয়েসের বানানো পারমাণবিক রিয়্যাক্টরও।
তিন দেশের এই সমঝোতার প্রধান লক্ষ্য, ইন্ডিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবেলা করা।
সোমবার ঘোষণা করা ওই চুক্তি অনুযায়ী, রয়্যাল অস্ট্রেলিয়ান নৌবাহিনীর সদস্যরা এ বছর থেকে আমেরিকা এবং ব্রিটেনের নৌঘাটিগুলোয় সাবমেরিনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করবে।
আমেরিকা এবং ব্রিটেন ২০২৭ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে ছোট একটি সাবমেরিন ঘাঁটি তৈরি করবে। ২০৩০ সাল নাগাদ ভার্জিনিয়া ক্লাস তিনটি আমেরিকান সাবমেরিন কিনবে অস্ট্রেলিয়া। তাদের জন্য আরও দুটি সাবমেরিন কেনার সুযোগ খোলা থাকবে।
এরপর থেকে ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর জন্য পুরোপুরি নতুন ধরনের পারমাণবিক শক্তি চালিত সাবমেরিন তৈরি করা হবে, যার নাম হবে এসএসএন-আকুস।
ব্রিটেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় এই আক্রমণকারী সাবমেরিনগুলো তৈরি করা হবে ব্রিটিশ নকশায়। তবে এগুলো তৈরিতে তিন দেশ থেকেই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।
বর্তমান অস্ট্রেলিয়ার যে সাবমেরিন বহর রয়েছে, তার তুলনায় নতুন সাবমেরিনগুলো দ্রুত এবং অনেক দূর পথ চলাচল করতে পারবে। এসব সাবমেরিনে ভূমি এবং সাগরে আঘাত হানতে সক্ষম ক্রুজ মিসাইল থাকবে।
তিন দেশের সাবমেরিন তৈরির এ পরিকল্পনায় আগামী কয়েক বছর ধরে ৪৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে আমেরিকা। বিশেষ করে ভার্জিনিয়া ক্লাস সাবমেরিন উন্নতিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানেজ বলেন, ‘ডুবোজাহাজ তৈরির এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাজার হাজার নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে গত ৬৫ বছরের মধ্যে প্রথমবার আর ইতিহাসে দ্বিতীয় বারের মতো আমেরিকা তাদের পারমাণবিক প্রযুক্তি অন্য কোন দেশের সঙ্গে বিনিময় করছে।’
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, ‘যখন আঠারো মাস আগে এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তখন থেকে সারা বিশ্বে অস্থিরতা বেড়েই চলেছে।’
তবে এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে চীন। গত সপ্তাহে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেছেন, ‘এই চুক্তির ফলে অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হবে।’
ইউডি/এ

