১৩০০ কিডনি প্রতিস্থাপনের মাইলফলক ছুঁলেন ডা. কামরুল
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৫ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১৯:১৫
বিনা পারিশ্রমিকে ১৩০০তম কিডনি প্রতিস্থাপন করে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন স্বাধীনতাপদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম।
বুধবার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে নিজের প্রতিষ্ঠিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে এক রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে তিনি এই মহৎ কীর্তি গড়েছেন।
এর আগে সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আজ দুপুর ১টায় ১৩০০তম কিডনি প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছি। দোয়া করবেন যেন, আপনাদের সেবায় কাজটি চালিয়ে নিতে পারি।’
অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সফলভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসছেন। সাফল্যের হার শতকরা ৯৫ শতাংশ, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সমকক্ষ। অধ্যাপক কামরুল ইসলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৪০ ব্যাচের শিক্ষার্থী। ১৯৯৩ সালে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। তিনি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। ২০১১ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে প্রতিষ্ঠা করেন সিকেডি হাসপাতাল।
নির্ধারিত ন্যূনতম খরচ বাদে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য বিশেষজ্ঞ সার্জনের কোনো ফি নেন না অধ্যাপক কামরুল। রোগীদের ফলোআপ পরীক্ষার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ ও রিপোর্ট দেখার ফিও নেওয়া হয় না তার হাসপাতালে। এ ছাড়া, খরচ কমাতে কিডনি সংরক্ষণের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা এক ধরনের দামি তরলের বিকল্প তৈরি করেছেন তিনি। এভাবে নিজ পেশার মাধ্যমে সমাজের নিম্নআয়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার অনন্য নজির স্থাপন করে চলেছেন এই অধ্যাপক।
২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর ডা. কামরুল ১২০০ তম রোগীর কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন ২০২১ সালে বিনা পারিশ্রমিকে এক হাজার কিডনি প্রতিস্থাপনের পর। চিকিৎসাবিদ্যায় অবদান রাখার জন্য ২০২২ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম।
অধ্যাপক ডা. কামরুলের বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বাবা আমিনুল ইসলাম ঈশ্বরদীর পাকশী ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউটে কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধকালীন তিনি প্রত্যক্ষভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করার কারণে স্থানীয় রাজাকার বাহিনী ও বিহারীরা অধ্যাপক ডা. কামরুলের বাবাকে হত্যা করে।
ইউডি/এ

