‘প্রভুভক্তের কারণে’ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হচ্ছে না : মেজর হাফিজ
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩ । আপডেট ১৫:৪৫
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘প্রভুভক্তের কারণে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুর সমাধান করতে পারছে না। জাতিসংঘের রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান নিয়ে কথা উঠলে সেখানে চীনসহ ইন্ডিয়া ও রাশিয়া মিয়ানমারের পক্ষ অবলম্বন করায় বাংলাদেশ এই সংকট সমাধান করতে পারছে না। বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পার্শ্ববর্তী দেশপ্রীতির কারণে এটা হচ্ছে।’
সোমবার (২০ মার্চ) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জাতীয় কমিটি। সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কলামিস্ট কালাম ফয়েজী।
আয়োজক সংগঠনের সভাপতি হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য দেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, জাসদের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এম জাবির, সাবেক ছাত্রনেতা নুরুর রহমান জামিল, সাইফুল ইসলাম শিশির প্রমুখ।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ বন্ধুশূন্য একটি দেশ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে পৃথিবীর দু-একটি মুসলিম রাষ্ট্র ছাড়া কেউ সরাসরি বাংলাদেশকে সমর্থন করেনি। সেই দু-একটি রাষ্ট্রও তেমন ক্ষমতাধর নয়।’
তিনি বলেন, ‘ইন্ডিয়া সীমান্তে কোনো রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া হয়নি। অথচ এই সরকার (আওয়ামী লীগ) বলছে ইন্ডিয়া না চাইতেই আমরা সব দিয়েছি। এই সরকার যা কিছু করছে, তা প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে খুশি করার জন্য।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো স্বাধীন নই। যে দেশে গণতন্ত্র থাকে না, ভোটাধিকার থাকে না, তাদের কাছ থেকে জনকল্যাণমূলক ও দেশের স্বার্থে কোনো কিছু আশা করা যায় না।’
রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে বাংলাদেশে অবস্থানরত ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তখন তারা নিজেদের অধিকার নিজেরাই আদায় করতে পারবে।’
আজকে এই বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বারবার বলা হচ্ছে, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিন। কিন্তু তারা ভ্রুক্ষেপ করছে না, বরং ইভিএমের মাধ্যমে কারচুপি করে আবার একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়—যোগ করেন তিনি।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ২০২৩ সালে আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে। আর এই যুদ্ধের নেতৃত্ব দেবে বিএনপি এবং তারেক রহমান। এ যুদ্ধের মাধ্যমে গণতন্ত্র মুক্ত করা হবে। আমরা যে বীরের জাতি, তা আবার প্রমাণ করতে হবে।
ইউডি/এ

