জেসমিনের মৃত্যু: বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ০১ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৭:১৫
র্যাব হেফাজতে সুলতানা জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন রাজশাহীর সচেতন নাগরিকরা। শনিবার (০১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার রাজশাহীর ‘বিশিষ্টজনরা’ নওগাঁয় সুলতানা জেসমিনের বাড়ি পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে দেখা করে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে শনিবার এই সংবাদ সম্মেলন করেন। এসময় তারা সুলতানা জেসমিনকে র্যাব তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে অপহরণ উল্লেখ করেন।
নওগাঁ পরিদর্শনকারী দলের মধ্যে ছিলেন লেখক ও হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলন রাজশাহীর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত বেগ, যুব অধিকার পরিষদ রাজশাহীর নেতা ওমর ফারুক।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, ‘সুলতানা জেসমিনের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে তা সভ্য সমাজে কল্পনা করা যায় না। একজন নাগরিক যদি অপরাধের সঙ্গেও সম্পৃক্ত হন তার বিচার পাবার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সেখানে কোনো রকম আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই একজন নাগরিককে সরকারি একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মৌখিক কথায় এবং তার উপস্থিতিতে উঠিয়ে নিয়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল যার পরিণতিতে তিনি মৃত্যু বরণ করেন, এটি নিঃসন্দেহে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। জেসমিনের ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হয়েছে এদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানবাধিকার রক্ষায় দুঃখজনকভাবে উদাসীন। রাষ্ট্রযন্ত্র মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েও তা রক্ষায় বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন,‘নিহত জেসমিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাদের ধারণা জন্মেছে তারা ভীত সন্ত্রস্ত এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।’
মাহবুব সিদ্দিকী বলেন,‘জেসমিনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার না করে সরাসরি তুলে নিয়ে যাওয়া অপহরণের শামিল। পরে সরকারি বাহিনীর হেফাজতে তাঁর মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত রহস্যময়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমেই এর পেছনের মূল কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে। যুগ্ম সচিব পদ মর্যাদার একজন ব্যক্তির এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার যে বর্ণনা ইতিমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তার যথাযথ তদন্ত হওয়া দরকার। কেননা নিহত জেসমিনও প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী ছিলেন। সুতরাং, জেসমিন অপরাধ করে থাকলে খুব সহজেই বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেত। তা না করে র্যাবকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ব্যবহার করে একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যে ভূমিকা নিয়েছেন তা আইনের ব্যত্যয় এবং অত্যন্ত দুঃখজনক।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলন রাজশাহীর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত বেগ, সিনিয়র সাংবাদিক জামাল কাদেরী, অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান।
ইউডি/এ

