৪২ ঘণ্টার ‘অবিশ্বাস্য’ তদন্ত: সেই এসআইকে বরখাস্তের নির্দেশ

৪২ ঘণ্টার ‘অবিশ্বাস্য’ তদন্ত: সেই এসআইকে বরখাস্তের নির্দেশ

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৭:০০

একটি হত্যা মামলায় ‘অবিশ্বাস্য’ তদন্তের ঘটনায় ভর্ৎসনার শিকার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের সামনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় তাকে এই শাস্তি দেওয়া হয়। এছাড়া ঘটনাটি তদন্ত করতে পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

সোমবার (০৩ এপ্রিল) বিকেলে বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে শুনানি চলাকালে মানিকগঞ্জের মো. রুবেল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানাকে ভর্ৎসনা করেন হাইকোর্ট। আদালত বলেন, ‘আদালতের কাছে বেশি স্মার্টনেস দেখাবেন না। একদম কারাগারে পাঠিয়ে দেব।’

শুনানির শুরুতে ‘হত্যা মামলা ৪২ ঘণ্টার অবিশ্বাস্য তদন্ত’ প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে হাইকোর্ট বলেন, ‘আপনার মতো পুলিশ অফিসার দরকার। আপনি মাত্র ৪২ ঘণ্টায় হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করলেন? এ সময়ের মধ্যে কখন সাক্ষী নিলেন, কখন ঘুমালেন, কখন খাওয়া-দাওয়া করলেন তা আমাদের দেখান। আর কতটি মামলা আপনি তদন্ত করেছেন, সেগুলো কত সময়ে শেষ করেছেন তার তালিকা জমা দেন।’

জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘এটা আমার প্রথম তদন্ত।’ এরপর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী বলেন, ‘অভিযোগপত্র দ্রুত দিলেও সমস্যা। আবার দেরি করে দিলেও সমস্যা।’

তখন আদালত বলেন, ‘তাহলে আমরা একটা মক ট্রায়াল করি। কত দ্রুত অভিযোগপত্র দিতে পারেন, সেটা আমরা দেখতে চাই।’

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘সেটা দেখার এখতিয়ার আপনাদের আছে।’ একপর্যায়ে দাখিল করা নথিতে আদালত দেখতে পান মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানার মামলার একটি তদন্ত প্রতিবেদন রেফারেন্স হিসেবে নথিতে সংযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানাকে ভর্ৎসনা করে আদালত বলেন, ‘কেন আপনি এটা দিলেন। আপনার কাছে তো রেফারেন্স চাওয়া হয়নি। বেশি স্মার্টনেস দেখাচ্ছেন। নিজেকে বেশি স্মার্ট মনে করেন? কোর্টের সঙ্গে বেশি স্মার্টনেস দেখাবেন না। একদম কারাগারে পাঠিয়ে দেব।’

এরপরে আদালত এই মামলার শুনানি দুপুর ২টা পর্যন্ত মুলতবি করেন। দুপুর ২টার পর আদালত তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন।

এর আগে গত ২ মার্চ ‘লাশ উদ্ধার থেকে অভিযোগপত্র, ৪২ ঘণ্টার অবিশ্বাস্য তদন্ত’ শিরোনামে প্রতিবেদন ছাপে একটি জাতীয় দৈনিক। সেই প্রতিবেদনটি যুক্ত করে ওই মামলার নথি তলবের নির্দেশনা চেয়ে আসামি সোহেল ওরফে নুরুন্নবী ও বাদী চম্পা আক্তার ওরফে অঞ্জনা ৫ মার্চ ওই আবেদন করেন। সোহেল ও চম্পা সম্পর্কে ভাই–বোন। আর নিহত রুবেল সোহেলের ভগ্নিপতি।

আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মিজানুর রহমান।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading