বাড়ছে তেলের দাম, প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশে

বাড়ছে তেলের দাম, প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশে

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৫:৩০

বিশ্বের বৃহত্তম তেল রফতানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের প্রতি ব্যারেলের দাম ১৫ শতাংশের বেশি বেড়ে হয়েছে ৮৪ ডলার।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, তেলের উচ্চমূল্যের কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। তবে আরএসি মনিটরিং গ্রুপ বলছে, বেশ কিছু দিন যদি তেলের দাম চড়া না থাকে তাহলে পেট্রোলের দাম বাড়ার আশঙ্কা কম। এদিকে তেলের দামবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি, তেলের উচ্চমূল্য বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।

সৌদি আরব, ইরাক ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ রবিবার প্রতিদিন দশ লাখ ব্যারেলের বেশি উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দেওয়ার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ঘোষণা দিয়েছে, বছরের শেষ পর্যন্ত তারাও ৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাবে।

জ্বালানি জায়ান্ট বিপি ও শেল জানিয়েছে, সোমবার তাদের তেলের দাম বেড়েছে। উভয় কোম্পানির দাম বৃদ্ধির হার ছিল ৪ শতাংশের বেশি।

গত বছর ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে আক্রমণের পর তেলের দাম বেড়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে দাম চলে এসেছে।

তবে তেলের দাম কম রাখতে সরবরাহকারীদের উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের এক মুখপাত্র বলেছেন, বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে আমরা মনে করি এই মুহূর্তে উৎপাদন কমানো যৌক্তিক না, আমরা বিষয়টি স্পষ্ট করেছি।

কেপিএমজি-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়ালে সেলফিন সতর্ক করে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করার উদ্যোগ কঠিন হয়ে যেতে পারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে। তবে তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বাসাবাড়ির বিদ্যুতের দাম বাড়ার আশঙ্কা কম।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খাতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আরএসি বলছে, স্বল্পমেয়াদে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে এমন প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম।

তেলের উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেকপ্লাস সংস্থার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এসব দেশের নিয়ন্ত্রণে।

সৌদি আরব প্রতিদিন পাঁচ লাখ এবং ইরাক দুই লাখ ১১ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, আলজেরিয়া ও ওমানও কমাচ্ছে উৎপাদন।

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ।

প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়বে দেশের বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি তেল এবং এলএনজি কেনাকাটায় সরকারের খরচ বেড়ে যাবে। তবে আপাতত গ্রাহক পর্যায়ে এর প্রভাব পড়বে না। কেননা সোমবারও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি এমএমবিটিউ এলএনজির দাম ছিল প্রায় ১৪ আমেরিকান ডলার।

গত বছরের আগস্টে এলএনজির দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রায় ৭৩ ডলার। গত বছরের জুনে এ দাম ছিল ১২২ ডলার। এই মধ্যবর্তী সময়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে কমানো হয়নি। বরং বেড়েছে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। তাই এখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার ফলে সম্প্রতি তেল ও এলএনজি কেনাকাটায় সরকার যে স্বস্তি পাচ্ছিল তা এখন হ্রাস পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি পরিমাণে বাড়লে গ্রাহক পর্যায়েও প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বদরুল ইমাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমাদের দেশে বাড়ানো হয়। কিন্তু বিশ্ববাজারে কমলে আমাদের দেশে দাম কমানো হয় না। এটি নিয়ম হয়ে গেছে। তেলের দামের সঙ্গে এলএনজির দামও সম্পৃক্ত। দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান তেমন না থাকায় আমাদের এলএনজি নির্ভরশীলতা বেড়েছে, বাড়ছে। তাই এখন দাম বাড়ায় শুধু তেল নয়, এলএনজি কিনতেও খরচ বেড়ে যাবে সরকারের।’

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, তেলের উচ্চমূল্য বৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। তবে আরএসি মনিটরিং গ্রুপ বলছে, বেশ কিছু দিন যদি তেলের দাম চড়া না থাকে তাহলে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা কম।

সৌদি আরব, ইরাক ও কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ গত রবিবার প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেলের বেশি উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দেওয়ার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। একই সঙ্গে রাশিয়াও ঘোষণা দিয়েছে—বছরের শেষ পর্যন্ত তারাও ৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন কমাবে। জ্বালানি খাতের শীর্ষ কোম্পানি বিপি ও শেল জানিয়েছে, গতকাল তাদের তেলের দাম বেড়েছে। উভয় কোম্পানির মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৪ শতাংশের বেশি।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading