ঢাকায় অগ্নিকাণ্ড : বাড়ছে মৃত্যু, পুড়ছে স্বপ্ন
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৫:০০
অগ্নিকাণ্ডের কারণে একটি দেশ বিভিন্ন দিক দিয়ে ক্ষতির শিকার হয়। অসংখ্য মানুষের প্রাণ চলে যায়। জীবন্ত দগ্ধ হওয়ার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা নিয়ে যারা কোনো রকমে বেঁচে যান, তারা আজীবন মানসিক সংকট নিয়ে দিনাতিপাত করেন। শারীরিক অপূর্ণাঙ্গতা তো আছেই। মানসিক ও শারীরিক জটিলতা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া তাদের জন্য দুরূহ হয়ে ওঠে। এর ফলে একটি দেশের মানবসম্পদ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
একেকটি অগ্নিকাণ্ডের কারণে একটি দেশ বিপুল পরিমাণে আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়। চূড়ান্ত বিচারে তা দেশটিকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশটি বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতির সম্মুক্ষিন হয়। আহত- নিহত হন অনেক মানুষ।
বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০০৮ সালে সারা দেশে মোট ৯ হাজার ৩১০টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আর ২০১৮ সালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ১৯ হাজার ৬৪২টি (বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৯)। এ হিসাব অনুসারে দেখা যাচ্ছে, ১০ বছরে বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ১১১ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে সারা দেশে প্রায় দুই লাখ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। এতে অন্তত ১ হাজার ৯৭০ জন নিহত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিহত ও আহত হয় ২০১১ সালে। সে বছর নিহতের সংখ্যা ছিল ৩৬৫। আহত হয়েছিল ১ হাজার ৩৮৫ জন। আর আর্থিক ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে বছর সংঘটিত মোট ১৭ হাজার ৪৮৮টি অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশের মোট আর্থিক ক্ষতি হয় ৮৫০ কোটি টাকা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ‘বার্ষিক পরিসংখ্যান ডাটা-২০২২’ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে মোট ২৪ হাজার ১০২টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে মোট আর্থিক ক্ষতি হয় ৩৪২ কোটি ৫৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৮৯ টাকা। এ সংস্থার ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ২৩৩। মোট আর্থিক ক্ষতি ২৮৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ২০২০ সালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে মোট ২৪ হাজার ৭৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে ১৮৪ জন নিহত হয়। আহতের সংখ্যা ৫৬০।
কীভাবে এত অগ্নিকাণ্ড
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের বার্ষিক পরিসংখ্যান ডাটা-২০২২ অনুসারে, সে বছর বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে। এ কারণে মোট ৯ হাজার ২৭৫টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। শতকরা হার ৩৮ দশমিক ৪৮। এতে মোট ক্ষতি হয় ১৩৩ কোটি ৬৭ লাখ ৪৮ হাজার ৪৯৭ টাকা।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে। মোট অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ৩ হাজার ৮৭৮। শতকরা হার ১৬ দশমিক শূন্য ৮। এ কারণে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ড থেকে এক বছরে মোট আর্থিক ক্ষতি হয় ৩৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৬৪ টাকা।
অগ্নিকাণ্ডের তৃতীয় প্রধান কারণ হলো চুলা (ইলেকট্রিক, গ্যাস ও মাটির চুলা ইত্যাদি)। এ কারণে মোট ৩ হাজার ৩৬৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শতকরা হার ১৩ দশমিক ৯৮। এ কারণে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৩ কোটি ৫১ লাখ ২০ হাজার ৮২৯ টাকা।
চতুর্থ সর্বোচ্চ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে গ্যাস সরবরাহ লাইনের আগুনের কারণে। এ কারণে মোট ৭৯৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শতকরা ৩ দশমিক ৩০। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ৮১ লাখ ৫৩ হাজার ৯০৩ টাকা।

অগ্নিকাণ্ডের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কারণ ছিল ছোটদের আগুন নিয়ে খেলা। এ কারণে এক বছরে মোট ৬০২টি অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। শতকরা হার ২ দশমিক ৫০। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি ৫৬ লাখ ৪৩ হাজার ১২৫ টাকা।
এছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে খোলা বাতি ব্যবহার (৩২৭টি), উত্তপ্ত ছাই বা জ্বালানি (৪৮৮টি), যন্ত্রাংশের ঘর্ষণজনিত (১৬৭টি), শত্রুতামূলক ও উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক অগ্নিসংযোগ (১৫৭টি), বজ্রপাত ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ (৪৮টি), বাজি পোড়ানো (৯৪টি), মাত্রাতিরিক্ত তাপ (১৬৫টি), মেশিনের মিসফায়ার (১৬০টি), স্বতঃস্ফূর্ত প্রজ্বালন (২৯টি) ইত্যাদি।
কোথায় হয়েছে অগ্নিকাণ্ড
২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি আগুন লেগেছে বাসাবাড়ি বা আবাসিক ভবনে। অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ৬ হাজার ৫৫৮। আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৬৫ কোটি ১৮ লাখ ৫৫ হাজার ৩৭৫ টাকা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে রান্নাঘরে। সংখ্যা ২ হাজার ২৮৭। আর্থিক ক্ষতি ২০ কোটি ১৪ লাখ ৯২ হাজার ৬২৬ টাকা।
তৃতীয় সর্বোচ্চ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বিভিন্ন দোকান ও টংয়ে। অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা ২ হাজার ১১৪। আর্থিক ক্ষতি ২৭ কোটি ৫০ লাখ ৯১ হাজার ২৫৫ টাকা। ২০২২ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়) মোট ১৫৫টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আর্থিক ক্ষতি হয় ২ কোটি ৪৫ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে (মসজিদ-মন্দির-গির্জা ইত্যাদি) ১২১টি অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হয়। আর্থিক ক্ষতি হয় ১০ লাখ টাকার কিছু বেশি।
আগুন নেভাতে যত প্রতিবন্ধকতা
এ দেশের নগরগুলো অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। সেখানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। বাসাবাড়ি ও আবাসিক ভবনগুলোয় যথেষ্ট অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নেই। আবার অনেক এলাকায়, বিশেষত পুরান ঢাকায় রাস্তাগুলো অনেক সরু। ভবনগুলোও একটি অন্যটির গা ঘেঁষা। খোলা জায়গা নেই বললেই চলে। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। এক ভবন থেকে সহজেই অন্য ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ সালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ঢাকা শহরে প্রতি ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৭০ অধিবাসীর জন্য মাত্র একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন আছে। অথচ দিল্লিতে প্রতি ৩৩ হাজার ৬০০ অধিবাসীর জন্য একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন আছে। ব্যাংককে প্রতি ১৬ হাজার ২৯০ অধিবাসীর জন্য একটি ও ওকলাহামো সিটিতে প্রতি ১৪ হাজার ৯২৫ জন অধিবাসীর জন্য একটি করে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন আছে।
আবার বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক ভবনেই কিংবা আবাসিক ভবনের পাশেই স্থাপিত হয়েছে রাসায়নিক কারখানা। এ থেকেও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে। নিমতলী (২০১০ সাল) ও চকবাজারের (২০১৯ সাল) অগ্নিকাণ্ড তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
১০ বছরে নিহত ১৫৯০ জন
ফায়ার সার্ভিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালে সারা দেশে ১৪ হাজার ৬৮২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৭১ জন নিহত ও ৭৯৪ জন আহত হন। ২০১১ সালে ১৫ হাজার ৮১৫টি দুর্ঘটনায় ৩৬৫ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৭৯ জন আহত হন।

একইভাবে ২০১২ সালে ২১০ জন নিহত ও ৮০৩ জন আহত, ২০১৩ সালে ১৬১ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৭১ জন আহত, ২০১৪ সালে ৭০ জন নিহত ও ২৫০ জন আহত, ২০১৫ সালে ৬৮ জন নিহত ও ২৫৪ জন আহত, ২০১৬ সালে ৫২ জন নিহত ও ২৬৭ জন আহত, ২০১৭ সালে ৪৫ জন নিহত ও ২৮৪ জন আহত এবং ২০১৮ সালে ১৩০ জন নিহত ও ৬৭৭ জন আহত হন। এতে ৪ হাজার কোটি টাকার ওপর আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এক বছরে ১৯ হাজার অগ্নিকাণ্ড
২০১৮ সালে সারা দেশে ১৯ হাজার ৬৪২টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এগিয়ে রাজধানী ঢাকা। ৩ হাজার ১০৮টি ঘটনায় আগুনের সূত্রপাত হয়েছে সিগারেটের টুকরা থেকে।
বাংলাদেশে দুর্ঘটনা ও অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতর বলছে, বাংলাদেশের সংগঠিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার ১৫ শতাংশের কারণ সিগারেটের টুকরা।
২০১৮ সালে ৮ হাজার ৪৬১টি আবাসিক ভবনে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, এর ২০৮৮টি ঢাকায়, চট্টগ্রামে ২৮৫ ও রাজশাহীতে ১১৬টি। সারাদেশে ৫০৮টি নৌ দুর্ঘটনার মধ্যে ঢাকায় ১৯৫টি, চট্টগ্রামে ৫৪ ও খুলনায় ৪০টি। এসব ঘটনায় শুধুমাত্র ঢাকায় প্রাণ হারায় ১২১ জন।
উল্লেখযোগ্য কিছু অগ্নিকাণ্ড
বসুন্ধরা সিটি: ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ বসুন্ধরা সিটিতে আগুন লাগে। এ আগুনে প্রাণহানী না ঘটলেও পুরো ঢাকা শহরকে নাড়িয়ে দিয়েছিল তীব্রভাবে।
নিমতলী: ২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীর নবাব কাটরায় রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত হন নারী ও শিশুসহ ১২৪ জন। নিমতলীর ৪৩ নম্বর বাড়িতে রাত ৯টায় ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ছয়তলা বাড়ির নিচতলায় দুই বোন রুনা আর রত্মা এবং পাশের বাড়িতে আসমা নামে এক মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছিল। কনেরা পার্লারে সাজছিল। আর বাড়ির নিচতলায় রান্না চলছিল। রান্নার জায়গার পাশেই ছিল কেমিক্যালের গুদাম। প্রচণ্ড তাপে গুদামে থাকা কেমিক্যালের প্লাস্টিক ড্রাম গলে যায়। এরপর মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে দরজা-জানালা ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

তাজরীন ফ্যাশন: ২০১২ সালে ২৪ নভেম্বর তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১১১ জন নিহত হন। ঢাকা মহানগরীর উপকণ্ঠ আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবস্থিত তাজরীন ফ্যাশনস লিমিটেড কারখানায় ভয়ানক এ দুর্ঘটনায় নয়তলা ভবনের ছয়তলা ভস্মীভূত হয়ে যায়। এতে সরাসরি আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যায় ১০১ জন পোশাকশ্রমিক। আগুন থেকে রেহাই পেতে উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে মৃত্যু হয় আরও ১০ জনের।
রাজধানীর বস্তি: ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। এরআগে ২০১৬ সালের ০৫ অক্টোবর হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে বউবাজার বস্তিতে আগুনে পুড়ে যায় ৫০টি ঘর। এছাড়া ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর একই বস্তিতে লাগা আগুনে প্রাণ হারান ১১ জন। একই বছর ১২ মার্চ রাজধানীর পল্লবীর ইলিয়াস আলী মোল্লা বস্তিতে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে বস্তির প্রায় ৫ হাজার ঘরের সব পুড়ে যায়। এছাড়া মাঝে মাঝেই বস্তিগুলোতে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে থাকে।

ডিএনসিসি মার্কেট: ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি ভোরবেলা গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে মার্কেটটির বহু দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর অস্থায়ীভাবে দোকান তৈরি করে মার্কেটটি চালু করা হয়। এরপর ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ ভোরে আবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ভোর ৫টা ৪৮ মিনিটে মার্কেটের কাঁচাবাজারের পূর্ব পাশে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টা চেষ্টার পর সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
চকবাজারের চুড়িহাট্টা: ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। রাত পৌনে ১১টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। জানা যায়, সেখানে কেমিক্যালের গোডাউন থাকায় আগুন বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এ অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জন নিহত হন। আহত হন অনেকেই।
বনানী এফআর টাওয়ার: ২০১৯ সালের ২৮ মার্চ রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে ২৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন প্রায় ৭০ জন। ফায়ার সার্ভিস, সেনা, নৌ, বিমান এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ৬ ঘণ্টা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

গার্মেন্টস শিল্প: ২০১২ সালে গরীব অ্যান্ড গরীব গার্মেন্টসে লাগা আগুনে নিহত হন ২১ জন। এছাড়া হামীম গ্রুপের অগ্নিকাণ্ডে ২৯ জনের প্রাণহানী ঘটে। ২০১৩ সালের ২৮ জুন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্মার্ট এক্সপোর্ট গার্মেন্টস লিমিটেডে আগুনে পুড়ে ৭ নারী পোশাকশ্রমিক নিহত হন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে গার্মেন্টসগুলোতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়।
বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ড: মঙ্গলবার (০৪ এপ্রিল) রাজধানীর বঙ্গবাজারে সকাল ৬টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে ঘটনা ঘটে। এতে পুরো মার্কেটটি পুড়ে ভষ্ম হয়ে যায়। ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা তাদের তাদের সর্বস্ব লগ্নি করে ব্যবসার অপেক্ষায় ছিলেন। আজকের আগুনে তাদের সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ইউডি/এ

