রাজশাহীতে আম পাড়া শুরু, ২০০ কোটি টাকার রপ্তানির সম্ভাবনা
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০২৩ । আপডেট ১৮:০০
রাজশাহীর আম খুবই সুমিষ্ট। দেশ-বিদেশে এর চাহিদাও ব্যাপক। আমের রাজ্য খ্যাত বরেন্দ্র অঞ্চলজুড়ে শুরু হয়ে গেছে চলতি বছরের আম পাড়া উৎসব। বৃহস্পতিবার (৪ মে) সকাল থেকেই নানা প্রতীক্ষার পর আম পাড়া শুরু করেছে রাজশাহীর চাষী ও বাগান মালিকরা। এবারও ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে কয়েকগুণ বেশি আম উৎপাদন করা হয়েছে। ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত আমগুলো বিদেশের বাজারে বিক্রি করা গেলে এ বছর আয় হবে ২০০ কোটি টাকারও বেশি।
শুরুর দিন হওয়ায় আম পাড়ার আমেজ লক্ষ্য করা যায় নি তেমন। ভালো দাম আর ঝড়-বৃষ্টির ক্ষতি এড়াতে গুটি আম গাছ থেকে নামাতে চাষিদের প্রস্তুতি চলছে দিনভর। রাজশাহীর অন্যতম আমের মোকাম বানেশ্বর বাজারেও জমে নি আম বেচা-বিক্রি। তবে দু একের মধ্যেই হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে নতুন রূপ পাবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আম পাড়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। অসময়ে আম সংগ্রহ বন্ধ রাখতে প্রকাশ করা হয়েছে ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’। ভোক্তা পর্যায়ে মানসম্মত ও পরিপক্ব আম নিশ্চিত করার পাশাপাশি চাষীদের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে বাড়ানো হয়েছে প্রশাসনিক মনিটরিংও।
জেলা প্রশাসনের ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৪ মে) গুটি আম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এবারের আম পাড়া উৎসব চলবে আগস্টের শেষ ভাগ পর্যন্ত। বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে গাছ থেকে আম নামাতে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
জানানো হয়, ১৫ মে গোপালভোগ, ২০ মে লকনা বা লক্ষণভোগ ও রানীপছন্দ, ২৫ মে হিমসাগর ও খিরসাপাত, ৬ জুন ল্যাংড়া আম, ১০ জুন আম্রপালী, ১৫ জুন ফজলি আম, ১০ জুলাই গৌড়মতি, আশ্বিনা ও বারি-৪ আম এবং ২০ আগস্ট ইলামতি জাতের আম নামাতে পারবেন চাষিরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, গত মৌসুমে রাজশাহী জেলায় আম উৎপাদন হয়েছিল ১৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে। এ বছর জেলায় আম চাষ হচ্ছে ১৯ হাজার ৫৭৮ হেক্টর জমিতে। অর্থ্যাৎ এবার বাগান বেড়েছে ১ হাজার ৬৩ হেক্টর জমিতে।
গত বছর জেলায় আম উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬ হাজার ১৫৬ মেট্রিক টন। এ বছর জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন। অর্থ্যাৎ প্রতি হেক্টরে ১৩ দশমিক ২০ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
এবার প্রায় ৯০০-র মতো গাছ কিনছি। বুধবার আমি নিজে কয়েকটা গাছ পাকা আম (গুটি আম) নিজে পেড়ে বানেশ্বর বাজারে নিয়ে গিয়েছি, একটা আড়তদারও নিতে চায় নি। সেই উপযোগী এখনও হয় নি। তাই আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি।
একই বাজারের আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। এখনও খুব একটা আম চোখে পড়ছে না। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই বেচাবিক্রি জমবে বলেও আশা তাদের।
এর আগে গতকাল (বুধবার) জেলার কৃষিবিদ, ফল গবেষক, আম চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে ম্যাংগো ক্যালেন্ডার প্রকাশ করে জেলা প্রশাসন। সভা শেষে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, রাজশাহীর ঐতিহ্য হচ্ছে আম। বাজারে পরিপক্ব ও নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে তাই প্রতি বছরই তারিখ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এবারও কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতেই ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউডি/কেএস

