ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের রেসপন্স টাইম ৩০ সেকেন্ড : মহাপরিচালক
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০২৩ । আপডেট ২০:০০
অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার সার্ভিস বিশ্বমানের সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। যেকোনো অগ্নিদুর্ঘটনার সংবাদপ্রাপ্তির ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা রেসপন্স (সাড়া) করে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গত বছর ১৩ জন ফায়ার ফাইটার প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকার মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের জন্য একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যে চালু হতে পারে।’ বৃহস্পতিবার (০৪ মে) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) অগ্নিদুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থা ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। অনুষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট, মশার কয়েল, সিগারেট ও চুলার আগুনসহ সচেতনতার অভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে। উৎসুক জনতার ভিড় ও পানির উৎসের অভাবে অগ্নিনির্বাপণ ব্যাহত হয়। ১৩ বছর আগের প্রস্তাবিত জাতীয় বিল্ডিং কোড পাস হয়েছে গত বছর, যার সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে কার্যকর ২০০৩ সালের অগ্নিনিরাপত্তা আইনে বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে। এ আইনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে নোটিস প্রদান করা ছাড়া ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের আর কোনো এখতিয়ার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবাজারে অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ভবনে হামলার ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এ হামলায় ১৪টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। যার প্রতিটির মূল্য ৮ কোটি টাকা। এ ঘটনায় সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ভবন নির্মাণে ২ শতাংশ অগ্নিনিরাপত্তার জন্য ব্যয় করলে অগ্নিঝুঁকি কমানো সম্ভব।’ সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমাদের অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ে আতঙ্ক আছে, কিন্তু সচেতনতা নেই। নেই তেমন কোনো সরকারি-বেসরকারি সঠিক উদ্যোগ। ঢাকা শহরের ৯৮ শতাংশ বিপণি-বিতানে অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা নেই। নিয়মনীতি না মেনেই গড়ে উঠেছে মার্কেটগুলো। কিছু কিছু মার্কেটে লোক দেখানো ফায়ার এস্টিংগুইশার, পানি রিজার্ভ ট্যাংক, বালুর বালতি, রেসকিউ সিঁড়ি থাকলেও বড় কোনো অগ্নিদুর্ঘটনা মোকাবিলায় তা মোটেই পর্যাপ্ত নয়।’
তিনি আরও বলেন, ’ঢাকা শহরে অপরিকল্পিতভাবে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন নেওয়া হয়েছে। ছোটখাটো কোনো ভূমিকম্প অথবা অন্য যেকোনো দুর্ঘটনায় মাটির নিচ দিয়ে যাওয়া অপরিকল্পিত এসব বিদ্যুৎ ও গ্যাসের লাইন এই শহরকে ভয়াবহ পরিণতির সম্মুখীন করতে পারে। জনসংখ্যার ঘনত্ব, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ, অপ্রশস্ত সড়ক, ভবনমালিকদের উদাসীনতা, সচেতনতার অভাব, ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতার ঘাটতিসহ নানা কারণে দেশে আগুন লাগার ঝুঁকি কমানো যাচ্ছে না। তাই তাজরিন ফ্যাশন, নিমতলী, ছুরিহাট্টা, হাসেম ফুড, বিএম কন্টেইনার, বঙ্গবাজারের অগ্নিকাণ্ডের কথা মাথায় রেখে ভবন ব্যবহারকারী ও সরকারি সংস্থাগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
‘ভবন ব্যবহারকারীদের অসচেতনতাই অগ্নিদুর্ঘটনার প্রধান কারণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদে বিরোধী দল স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয সরকারি দল প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, ড. এসএম মোর্শেদ, সাংবাদিক মোরছালীন বাবলা, সাংবাদিক সবুজ ইউনুস ও সাংবাদিক ফারাবী হাফিজ। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
ইউডি/এ

