বিশ্বে প্রথম আরএসভি টিকার অনুমোদন আমেরিকায়
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৪ মে ২০২৩ । আপডেট ২১:০০
বিশ্বের প্রথম রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল ভাইরাস বা আরএসভি ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিয়েছে আমেরিকা। শিশুদের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের এ সংক্রমণ বেশি দেখা গেলেও আপাতত বেশি বয়সীদের জন্য এ অনুমতি প্রযোজ্য। খবর লাইভ মিন্ট। বুধবার জিএসকের আরেক্সভি নামের টিকার অনুমোদন দেয় ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। এ ধরনের আরো কিছু টিকা বর্তমানে কর্তৃপক্ষের সম্মতির অপেক্ষায় রয়েছে।
সাধারণত শরতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ে। নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে সামনের মৌসুমে ৬০ বা বেশি বয়সীরা এই টিকা নিতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। অবশ্য এর আগে জুনে প্রতিষেধকটি নিয়ে আলোচনা করবেন সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) উপদেষ্টারা। তারপরই আসবে সাধারণ মানুষের নাগালে। ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইনফেকশাস ডিজিজেসের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. উইলিয়াম শ্যাফনার জানান, বয়স্ক ব্যক্তিদের গুরুতর আরএসভি রোগ থেকে রক্ষা করার জন্য এটি প্রথম কোনো দুর্দান্ত পদক্ষেপ। এর ধারাবাহিকতায় অন্য বয়সীদের জন্যও তারা কাজ করতে যাচ্ছেন।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিশুরা আরএসভি মৌসুমে প্রতিরক্ষামূলক মাসিক ডোজ নিলেও এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো ভ্যাকসিন নেই। ইউরোপীয় নিয়ন্ত্রকরাও এ ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষামূলক ডোজের বিকল্প অনুমোদন করেছে। সানোফি ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার এক ডোজের ওষুধকেও বিবেচনায় রেখেছে এফডিএ। এক সময় গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লেইন নামে পরিচিত ছিল জেএসকে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিদ্বন্দ্বী ফাইজারের একটি টিকা এফডিএর বিবেচনায় রয়েছে। তারা গর্ভবতীদের টিকা দেয়ার অনুমোদন চাইছে। এর মধ্যে বাচ্চারা কিছু পরিমাণ সুরক্ষা নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে।
সিডিসি অনুসারে, এটি প্রতি বছর আমেরিকায় ৫ বছরের কম বয়সী ১০০ থেকে ৩০০ শিশু আরএসভিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। ৬৫ বছরের বয়সীদের ক্ষেত্রে এ হার ছয় হাজার থেকে ১০ হাজার। হাসপাতালে ভর্তি হন ৬০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার প্রবীণ। গুরুতর পর্যায়ে এই ভাইরাস ব্রঙ্কিওলাইটিস সৃষ্টি করতে পারে। এর কারণে ফুসফুসে প্রদাহ হয় ও শ্বাস কষ্টে ভোগেন রোগী। শিশুরা আরএসভিতে আক্রান্ত হলে নাক বন্ধ বা সর্দি নিয়ে লক্ষণ শুরু হয়। সঙ্গে শুকনো কাশি, জ্বর ও কখনো কখনো শ্বাসকষ্টের সমস্যা হতে পারে। বেশির ভাগ শিশুর জন্য রোগীটি গুরুতর নয়। সাধারণ প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধের মাধ্যমে বাড়িতে চিকিৎসা নেয়া যায়।
মানুষের বুকের দুপাশে দুটো ফুসফুস। দেখতে ঠিক ওল্টানো গাছের মতো। গাছের যেমন ডালপালা ও পাতা থাকে, ফুসফুসেও তেমনি গাছের ডালপালার মতো শ্বাসনালি আছে, যার ভেতর দিয়ে শ্বাসের সঙ্গে আসা অক্সিজেন ফুসফুসের অ্যালভিওলাসে (বাতাসের থলি) পৌঁছে যায়। এখানেই ঘটে আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন এবং বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইডের বিনিময়। অ্যালভিওলাসে থাকা অক্সিজেন যায় রক্তে আর রক্ত থেকে বেরোনো বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড আসে অ্যালভিওলাসে, যা শ্বাসনালি দিয়ে অবশেষে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।
এই ওল্টানো গাছের পাতার বোঁটাসদৃশ শ্বাসনালির শেষ অংশে প্রদাহ হলে তাকে বলা হয় ব্রঙ্কিওলাইটিস আর পাতাসদৃশ অ্যালভিওলাসে প্রদাহ হলে তাকে বলা হয় নিউমোনিয়া। ব্রঙ্কিওলাইটিস বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হয় আরএসভি (রেসপিরেটরি সিনসিটিয়াল) নামের একরকম ভাইরাস দিয়ে; নিউমোনিয়া হয় মূলত ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে।
ইউডি/এ

