শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৭ মে ২০২৩ । আপডেট ১১:৩০

৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশ। বাবা-মাসহ পরিবারের সকল সদস্যকে হারিয়ে প্রায় ছয়-বছর পরবাসে থাকতে হয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানাকে। এরপর নানা চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরেন শেখ হাসিনা।

হাল ধরেন বিভক্তপ্রায় খেই হারিয়ে ফেলা আওয়ামী লীগের। দলকে তৃণমূল পর্যন্ত গুছিয়ে তুলতে চষে বেড়ান পথ প্রান্তর। ফলশ্রুতিতে ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ।

দলটির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর মতে, সেদিন শেখ হাসিনার দেখানো পথেই দিশা খুঁজে পেয়েছে আওয়ামী লীগ।

শেখ হাসিনার ফিরে আসাই বাঙ্গালীর ভাগ্য ফিরিয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তার মতে বাংলাদেশের যা উন্নয়ন তার সবই বঙ্গবন্ধু কন্যার অবদান।

নেতারা মনে করেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হাঁটবে আরও সমৃদ্ধির পথে।

ফিরে দেখা ১৯৮১

১৯৮১ সালের ১৬-১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দলের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরার পরদিনই ১৮ মে শেখ হাসিনা যান ধানমন্ডির বাড়িতে। তবে তাকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে ৩২ নম্বরের মূল ফটকের সামনে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করেন এবং মিলাদ মাহফিল করেন।

ঐ দিন তিনি আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে বলেছিলেন, যে বাড়িতে আমি বড় হয়েছি, যে বাড়িতে আমার পিতাকে হত্যা করা হয়েছে, সেখানে আমাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না, এ কেমন বিচার? একদিন নিশ্চয়ই এসব অন্যায়ের বিচার হবে বলে তিনি মন্তব্য করেছিলেন।

শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িটি খুলে দেওয়ার জন্য এবং উত্তরাধিকারী হিসেবে বাড়ির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করলেও জিয়াউর রহমান সরকার তাতে সাড়া দেয়নি বলে শেখ হাসিনা তার স্মৃতিচারণমূলক ‘স্মৃতি বড়ো মধুর, স্মৃতি বড়ো বেদনার’ কলামে উল্লেখ করেছেন। তবে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রপতি সাত্তার ১৯৮১ সালের ২১ জুন ঐ বাড়িটি বুঝিয়ে দেন বলে শেখ হাসিনা তার লেখায় উল্লেখ করেন।

আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বেশ কয়েক বার হামলার শিকার হন শেখ হাসিনা। তাকে অন্তত ২৪ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি সবচেয়ে নৃশংস হামলার শিকার হন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। ঐ সময় নেতাকর্মীদের তৈরি মানববর্মে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। এদিন প্রাণ হারান ২৪ জন নেতাকর্মী।

১৯৮১ সালের ১৭ মে সব হারিয়ে দেশে ফিরে দেশের মানুষকে যে কথা দিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সেই কথা রেখেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, রায়ও কার্যকর হয়েছে। টানা তৃতীয় বারসহ চতুর্থ বার প্রধানমন্ত্রীর আসনে থেকে ক্লান্তিহীন পরিশ্রম করে দেশকে সারা বিশ্বের সামনে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়ক দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়, উন্নয়নের রোল মডেল। একের পর এক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে এরই মধ্যে মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও স্বীকার করেছেন, সরকারের যা কিছু সাফল্য এর সবই অর্জিত হয়েছে শেখ হাসিনার ঐকান্তিক চেষ্টা ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading