গরমে জাম খেলে শরীরে যা ঘটে

গরমে জাম খেলে শরীরে যা ঘটে

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৬ মে ২০২৩ । আপডেট ১৫:৩৫

জাম অতি সুপরিচিত একটি ফল। এটি দেখতে কালো ও ভেতরে রসালো। জাম পুষ্টিকর একটি ফল। এই ফল ও বীজ দুটোই খুব উপকারী। জামে আছে ভিটামিন এ, সি, ফাইবার, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, স্যালিসাইলেট, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ ও ফুকটোজসহ অসংখ্য উপাদান।

এছাড়া এতে আছে অনেক খনিজ উপাদান, যেমন- পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম। জামের এই উচ্চ পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন উপকার করতে পারে।
জাম খেলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে থাকা পটাশিয়াম হার্টের স্পন্দন ঠিক রাখতে সাহায্য করে ও স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়তা করে। এই ফল অ্যান্টি অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ, যা ফ্রি র্যাডিক্যাল কোষগুলোর বিরুদ্ধে কাজ করে (যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিকে ট্রিগার করে)।

জাম থেকে কিছু নির্যাস যেমন- সায়ানিডিন কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে পরিচিত। এতে থাকা পুষ্টি উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

এছাড়া জামে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি আছে, যা কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। এছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতাও বাড়ায়। জামে থাকা অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট পদার্থ মাথাব্যথা উপশম করে। ব্যাকটেরিয়ার কারণে শরীরে বিভিন্ন অসুখ হয়ে থাকে। জামে এক্ষেত্রে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে।

জাম দাঁত ও মাড়ির জন্য উপকারী। এতে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজ উপাদান আছে, যা সুস্থ দাঁতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ।

জামে থাকা পলিফেনল অ্যান্টি অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে ও কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এতে থাকে ম্যালিক অ্যাসিড, ট্যানিন, গ্যালিক অ্যাসিড, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড ও অক্সালিক অ্যাসিড। যার অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য বিভিন্ন সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভুমিকা রাখে।

এছাড়া জাম ডায়াবেটিসের লক্ষণ যেমন- অতিরিক্ত প্রস্রাব ও তৃষ্ণার জন্য ভালো প্রতিকার হিসেবে কাজ করতে পারে। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এছাড়া জামে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট মাইগ্রেন ও ওজন কমাতে, রক্তস্বল্পতা দূর করতে এবং অন্ত্রের উন্নতি করতে সাহায্য করে।

সতর্কতা: অতিরিক্ত কিছুই ভালো হয়, তেমনই জামও পরিমাণে অতিরিক্ত খেলে দেখা দিতে পারে বমি ভাব ও হজমের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্য। এছাড়া অতিরিক্ত খেলে রক্তচাপও কমে যেতে পারে।

তাই পরিমিত পরিমাণে খেতে পারেন। তবে তা ১০০ গ্রাম এর বেশি না হওয়াই ভালো ও জুস করে খেলে ৩/৪ চা চামচ জামের জুসের বেশি পান না করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading