পশ্চিমাদের মধ্যে বাড়ছে ‘নো ওয়াশ’ কাপড়ের অভ্যাস
উত্তরদক্ষিণ রবিবার, ১১ জুন ২০২৩ । আপডেট ১৩:০০
পশ্চিমাদের মধ্যে বাড়ছে কাপড় না ধুয়ে মাসের পর মাস পরার প্রবণতা। এমন নোংরা কাপড় পরেন কারণ তারা কাপড় ধোয়াতে বিশ্বাস করেন না। অনেকে আবার কাপড় খুবই কম ধোয়ায় বিশ্বাসী। পশ্চিমাদের মধ্যে এই ক্রমবর্ধমান অভ্যাসের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘নো-ওয়াশ’ এবং ‘লো-ওয়াশ’। এমন ধারণায় বিশ্বাসীদের সঙ্গে কথা বলে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি।
দ্য ইন্ডিগো ইনভাইটেশনাল নামের একটি প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ অংশ নেন। এই জন্য তাদেরকে ডেনিম জিনস এক বছর পানিতে না ধুয়ে পরতে হয়। ডেনিমের পোশাকে চকচকে বিভিন্ন নকশাগুলো তৈরি করার একটি বড় উপায় হলো এগুলোকে পানিতে না ধোয়া। তাই বর্তমানে বিশ্বে ‘নো-ওয়াশ মুভমেন্ট’ ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এমনকি বড় বড় ব্র্যান্ডেও আজকাল এ কৌশল অনুসরণ করা হয়।
এ ধরনের না ধোয়া জিনসের প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে থাকেন ব্রায়ান জাবো। নিজের ব্যাপারে তিনি বলেন, ২০১০ সালে তার প্যান্ট না ধোয়ার অভ্যাস শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘খুবই বাজে গন্ধ হয়েছিল প্যান্টগুলো থেকে।’ ব্রায়ান জাবো বলেন, ‘আমার জিন্সগুলো বিছানার পায়ের কাছে মেঝের ওপর স্তূপ হয়ে পড়ে থাকত। ঘরের ভেতর ঢুকলেই জিনসগুলো থেকে মারাত্মক গন্ধ নাকে আসত।’ তবে এ নিয়ে তার বউয়ের কোনো আপত্তি না থাকায় বেগ পেতে হয়নি ব্রায়ানকে। তার কথায়, ‘আমার বউয়ের অবশ্য এতে আপত্তি ছিল না, সেটা আমার জন্য ভালোই হয়েছিল।’
আগামী জানুয়ারিতে ইন্ডিগো ইনভাইটেশনাল তিন বছর পূর্ণ করবে। এ প্রতিযোগিতায় যারা অংশগ্রহণ করেন, তাদের প্রতি ১০ জনের নয়জনই ট্রাউজার ১৫০ থেকে ২০০ বার পরার পরই কেবল প্রথমবার পানি ব্যবহার করে পরিষ্কার করেন। র’ ডেনিম পরিধানকারীরা অনেকক্ষেত্রে পানির বদলে অন্যভাবে তাদের ডেনিম পরিষ্কার করেন। এজন্য তারা অতিবেগুনি রশ্মির ব্যবহার বা কেবল বাতাসে মেলে রাখার মতো পদ্ধতি অবলম্বন করেন।
তবে কেবল জিনস পরিধানকারীরা নয়, আরও অনেক সেলিব্রিটিই ধৌতকরণ নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা জানিয়েছেন। ২০১৯ সালে ডিজাইনার স্টেলা ম্যাককার্থি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘আপনার যদি কোনো কিছু ধোয়ার খুব একটা প্রয়োজন না হয়, তাহলে সেটা ধোবেন না। কেবল পরেছি বলেই কোনো পোশাক ওয়াশিং মেশিনে ফেলার পক্ষে নই আমি।’
অনেকে আবার পরিবেশ বা বিদ্যুৎ বিলের কথা চিন্তা করে ধোয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। কিছু কিছু কোম্পানি পোশাক না ধোয়ার পক্ষে ক্যাম্পেইন চালানোর জন্য পরিবেশ রক্ষার সাফাই দিয়েছে। নারীদের পোশাকের কোম্পানি উলঅ্যান্ড বর্তমানে পোশাক বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের একটি চ্যালেঞ্জ দেয়। এ চ্যালেঞ্জে অনুযায়ী ক্রেতাকে একই পোশাক টানা ১০০ দিন পরতে হয়।
এ ব্র্যান্ডটির একজন ক্রেতা আমেরিকার কানেকটিকাটের চেলসি হ্যারি। তিনি এমন পরিবারে বেড়ে উঠেছেন যেখানে কোনো একটি পোশাক একবার পরার পর অবশ্যই ধুতে হতো। তবে ধীরে ধীরে এখন তিনি ‘নো ওয়াশ’ জীবনযাপন করছেন। চেলসি হ্যারি অবশ্য তার পোশাকের গন্ধ নিয়ে বিশেষ ভাবেন না। তার কথায়, ‘আমি আমার নাককে বিশ্বাস করি’।
পানির বদলে হ্যারি আজকাল বাতাসে মেলে রেখে অথবা বগলে ভিনেগার বা ভদকা লাগিয়ে পোশাক পরিষ্কার রাখার পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। ইউনিভার্সিটি অভ লিডস-এর টেকসই ফ্যাশনবিদ্যার লেকচারার মার্ক সামনার বলেন, ‘পোশাকের স্থায়িত্ব নষ্ট করার ক্ষেত্রে অন্যতম একটা কারণ হচ্ছে পোশাক ধোয়া।’
তবে কম পরিমাণ ধোয়ার বিষয়টি সমর্থন করলেও পোশাক একেবারে ধোয়া বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নন সামনার। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না মানুষ ভাবুক তারা পোশাক ধোয়ার মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংসের কারণ হচ্ছে। ব্যাপারটা বরং একটা ভারসাম্য তৈরির বিষয়। জামাকাপড় ধোয়া চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
একজন ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট সময়ে কতবার তার পোশাক ধোবেন, সেটার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। তবে পানির তাপমাত্রা, পোশাকের রং, সুতা ও ব্যবহারের ভিত্তিতে এটি করা উচিত বলে মনে করেন সামনার ও টেইলর। তবে এই দুই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ- কাপড় ধোয়ার বিষয়টি নিয়ে নমনীয় থাকা। পোশাক থেকে দুর্গন্ধ বের না হলে এবং ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী না হলে কষ্ট করে ধোয়ার প্রয়োজন মনে করেন না তারা।
ইউডি/এ

