রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আফ্রিকান নেতাদের শান্তি উদ্যোগের নেপথ্যে কী

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আফ্রিকান নেতাদের শান্তি উদ্যোগের নেপথ্যে কী

কিফায়েত সুস্মিত । রবিবার, ১৮ জুন ২০২৩ । আপডেট ১৫:৩৫

ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্য নিয়ে সাতটি আফ্রিকান দেশের নেতা মিলে শান্তি মিশন শুরু করেছেন। তাদের এই উদ্যোগ কতটা সাফল্য পাবে? এই প্রতিনিধিদলে আছেন দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, সেনেগাল, কঙ্গো-ব্রাজাভিল, কমোরোস, জাম্বিয়া আর উগান্ডার নেতারা।

ক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গত মাসে যখন এই আফ্রিকান শান্তি মিশনের কথা ঘোষণা করেছিলেন, তখন তিনি কোন সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা সময়সীমার কথা বলেননি। বরং খো যাচ্ছে এরকম সম্ভাব্য শান্তি-স্থাপনকারীদের ময়দানে ইতোমধ্যেই অনেক লোকের ভিড় জমে গেছে। চীন ও তুরস্কের নেতারা এবং পোপ ফ্রান্সিস – এরকম অনেকেই আছেন সেখানে।
ক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কূটনীতিক ও বিশ্লেষক কিংসলে মাখুবেলা প্রশ্ন তোলেন, আফ্রিকান নেতারে এই উদ্যোগের ‘কৌশলগত কেন্দ্রবিন্দুটা কী? এটা স্পষ্ট নয়। এটা কি আফ্রিকান রাষ্ট্রপ্রধানদের একটা ফটো-অপ?’

আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে সাধারণত আফ্রিকার নেতাদের এরকম সক্রিয়তা দেখা যায়না। সেদিক থেকে এই উদ্যোগ একটা বিরল ঘটনা। কারণ ইউক্রেন সংকটকে সাধারণত দেখা হয় রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যেকার একটা সংঘাত হিসেবে।

গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) আফ্রিকা বিষয়ক পরিচালক মুরিথি মুথিগা বলছেন, আফ্রিকা মহাদেশের বাইরে ঘটনা নিয়ে এ কূটনৈতিক উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান, কারণ আফ্রিকা অনেক দিন ধরেই জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে আরো জোরালো ভূমিকা পাবার জন্য াবি জানিয়ে আসছে।এই উদ্যোগের ভিত্তি স্থাপন করেছেন ব্রাজাভিল ফাউন্ডেশন নামে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান জঁ-ইভেস অলিভিয়ের। তিনি অবশ্য খুব বেশি বড় কোন লক্ষ্যের কথা বলছেন না। তার মতে লক্ষ্যটা হচ্ছে একটা সংলাপ শুরু করা, তা ছাড়া রুশ ও ইউক্রেনীয় যুদ্ধব›ী বিনিময়ের জন্য কাজ করা।

বিবিসির বিশ্লেষক অ্যারন আকিনিয়েমি বলছেন, আফ্রিকান নেতাদের এই ইউক্রেন শান্তি মিশন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন আফ্রিকান দেশগুলোর অনেকে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে সংশয় প্রকাশ করছেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ওপর প্রভাব ফেলার মতো কোন ক্ষমতা বা সুবিধা এই নেতাদের আছে কিনা। অন্য অনেকে বলছেন, এই সংকটের ক্ষেত্রে আফ্রিকার দেশগুলো যে অবস্থান নিয়েছে তা ‘অস্পষ্ট বা ধোঁয়াটে’, এবং তা এই মিশনের কোন অর্থপূর্ণ প্রভাব ফেলার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে না।

অনেকে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন, যখন সুদানসহ আফ্রিকার নানা স্থানে সংঘাত চলছে, এবং মহাদেশ জুড়ে চলছে অর্থনৈতিক সংকট – তখন এই রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি উদ্যোগের পেছনে সম্পদ ব্যয় করাটা কতটা যৌক্তিক। একজন উগান্ডার বিশ্লেষক অবশ্য বলেছেন, আফ্রিকার ভুমিকা ছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়।

আফ্রিকার নেতাদের এই প্রতিনিধিদলটি তৈরি করা হয়েছে ব্যাপ্তি এবং ভারসাম্যের কথা মাথায় রেখে। এখানে আছেন আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্তের দেশগুলোর নেতারা – যাদের এই সংকট সম্পর্কে ৃষ্টিভঙ্গীও ভিন্ন। এতে আছেন চারজন প্রেসিডেন্ট, মিশরের প্রধানমন্ত্রী, আর উগান্ডা ও কঙ্গো-ব্রাজাভিলের ু জন প্রতিনিধি। এখানে ক্ষিণ আফ্রিকা ও উগান্ডাকে খো হয় রাশিয়ার প্রতি নমনীয় হিসেবে। অন্যদিকে জাম্বিয়া ও কমোরোস হচ্ছে অপেক্ষাকৃত পশ্চিমা-ঘনিষ্ঠ। মিশর, সেনেগাল ও কঙ্গো-ব্রাজাভিল মোটামুটি নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়েছে। তবে সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু ঘটনাবলী এই উদ্যোগের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

লন্ডনের গবেষণা সংস্থা চ্যাটহ্যাম হাউসের আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক অ্যালেক্স ভাইন বলছেন, ক্ষিণ আফ্রিকাকে এখন তার নিজের কাজের একটা ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে।তিনি বলছেন, এতকাল অনেক আফ্রিকান শেই জোট-নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে আসছিল, এবং এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কারণে যুক্তরাষ্ট্র এতকাল মেনে নিয়েছিল যে এর অর্থ মস্কোকে সমর্থন করা নয়।কিন্তু এখন তারা “প্রকৃত জোট-নিরপেক্ষতা” চাইছে, বলেন মি, ভাইন – “ক্ষিণ আফ্রিকার ওপর চাপটা এ কারণেই, তারে এখন প্রমাণ করতে হবে যে তারা সত্যিই জোট-নিরপেক্ষ।

আফ্রিকান শান্তি উদ্যোগ এবং এই সফরের ক্ষেত্রে প্রধান চালিকাশক্তির ভূমিকা নিয়েছেন ক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট রামাফোসা। রাশিয়া এবং ইউক্রেন এখন পর্যন্ত শান্তি আলোচনার ব্যাপারে কোন আগ্রহ খোয়নি, তবে তারা আফ্রিকান নেতাদের এ সফরটির ব্যাপারে আগ্রহী।মস্কো বেশ কিছুকাল করে আফ্রিকায় তাদের প্রভাব বাড়ানোর জন্য কাজ করে চলেছে। আগামী মাসে সেন্ট পিটার্সবুর্গে একটি রাশিয়া-আফ্রিকা শীর্ষ সম্মেলনে তারা সেটার একটা নমুনা দেখাবে বলে আশা করছে। (বিবিসি বাংলা অবলম্বনে)

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading