বৃষ্টিতে নিরাপদে মোটরসাইকেল চালানোর উপায়
উত্তরদক্ষিণ বুধবার, ২১ জুন ২০২৩ । আপডেট ১৪:০০
প্রকৃতিতে এসেছে বর্ষাকাল। এই সময়ে প্রায়ই বৃষ্টির দেখা মেলে। বৃষ্টির মধ্যে মোটরসাইকেল চালানো অনেকটাই ঝুঁকির। তাই নিরাপদে বাইক চালাতে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। জানুন বৃষ্টিতে নিরাপদে মোটরসাইকেল চালানোর উপায়। বর্ষাকালে ভেজা রাস্তায় বাইক চালানোর সময় নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয় বাইক চালকদের। যা থেকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। তাই আগে থেকে বাইক কিংবা স্কুটারে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে চিন্তামুক্ত হয়ে রাইড করতে পারবেন।
রেইন কোট নিতে ভুলবেন না: বর্ষায় মোটরসাইকেল নিয়ে বের হবার সময় সঙ্গে রেনইনকোট নিতে ভুলবেন না । কোটটি যাতে এমন হয় অর্থাৎ এমন রঙের হয় যা খুব সহজেই দেখা যায়। বৃষ্টির সময় অনেক ক্ষেত্রে দৃষ্টি সীমা কমে যায় তাই এমন রঙের পোশাক পড়া উচিৎ যাতে সহজেই আপনি সবার দৃষ্টি গোচর হন।
সামনের গাড়ি থেকে দুরত্ত বজায় রাখুন: যেহেতু বর্ষাকালে ব্রেকিং ডিস্টেন্স অনেক বেশি থাকে তাই সামনের গাড়ি থেকে আপনার দূরত্ব যে মতে বজায় রাখুন। রাস্তার পেইন্ট করা অংশ হতে সাবধান। হাইওয়েতে দেখবেন নানা নির্দেশামূলক রেখা টানা থাকে সাদা বা হলুদ রঙের। এই সমস্ত মোটা রেখা থেকে বর্ষাকালে সতর্ক থাকুন।
কারণ বৃষ্টির পানিতে এই সমস্ত নির্দেশামূলক রেখাগুলি অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি রেললাইন ক্রস করার সময় যত সম্ভব আড়াআড়ি ভাবে ক্রস করুন এতে পিছলে যাবার সম্ভাবনা কম থাকবে। অনেক সময় ব্রিজের উপরে লোহার পাত দেয়া থাকে বাইক পিছলে যাওয়া জন্য আদর্শ বস্তু এই লোহার পাত।
মাঝ বরাবর সাদা দাগ এড়িয়ে চলুন: রাস্তার মাঝ বরাবার সাদা দাগ দেয়া থাকে রাস্তার বিভাজনের জন্য। বৃষ্টির মধ্যে এই দাগের উপরে বাইক চালানো এবং এর উপরে ব্রেক করা থেকে বিরত থাকুন। এটি সাধারন রাস্তা থেকে অনেক সময়েই বেশি পিচ্ছিল থাকে।
পুরনো টায়ার: বাইক বা স্কুটারের টায়ার যদি জীর্ণ হয়ে যায় বা বয়স বাড়ার ফলে কার্যকারীতা কমে যায় তাহলে সেটি তৎক্ষণাৎ পরিবর্তন করে নেওয়া উচিত। বৃষ্টির সময় চাকায় পেরেক বা নুড়ি পাথর লাগার ফলে পাংচার হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া চাকা স্কিড করারও সম্ভাবনা থাকে। তাই বর্ষাকালের আগে বাইক বা স্কুটারের টায়ার পুরনো থাকলে তা দ্রুত বদলে নিন।
ইন্ডিকেটর: বৃষ্টি হোক বা নাই হোক বাইকের ইন্ডিকেটর সবসময় ত্রুটিহীন থাকা উচিত। রাস্তায় ভালো দৃশ্যমান্যতার জন্য এই ইন্ডিকেটরগুলোর কাজ করা প্রয়োজন। যদিও কোনো ভাবে ইন্ডিকেটর ভেঙে যায় বা বাল্ব ফিউজ হয়ে থাকে তাহলে দ্রুত সেটি বদল করে নিতে হবে।
হেডল্যাম্প ও টেইলল্যাম্প: বাইক বা স্কুটারের দৃশ্যমান্যতা বাড়ায় হেডলাইট এবং টেইলল্যাম্প। যদি এর মধ্যে একটিও খারাপ হয়ে যায় তাহলে মহাবিপদ। ঝড়ো বৃষ্টির সময় রাস্তায় গাড়ি বাইক ঠিক ভাবে চোখে পড়ে না। কিন্তু হেডল্যাম্প ও টেইলল্যাম্প যদি জ্বালা থাকে তাহলে দুর্ঘটনার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। বর্ষাকাল শুরু হওয়ার আগে তাই হেডল্যাম্প ও টেইলল্যাম্প ঠিক করে নেওয়া দরকার।
ব্রেক ও হেলমেট: ভেজা রাস্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ব্রেকিং ডিউটি। আর তাই যদি ভাঙাচোরা থাকে তাহলে আপনার জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। ব্রেক খুব শক্ত থাকলে রাস্তায় চাকা স্কিড খেতে পারে। আবার ব্রেক ঢিলে হয়ে গেলে সময়মতো বাইক থামানো যায় না। সুতরাং মোটরসাইকেল বা স্কুটারের ব্রেক যদি খারাপ থাকে তাহলে তা অবশ্যই মেকানিককে দেখিয়ে ঠিক করে নিন।
উপরোক্ত বিষয়গুলোর মতোই আরও একটি জরুরি জিনিস হেলমেট। কারণ দুর্ঘটনার সময় আপনার মাথা রক্ষা করে হেলমেট। তাই বর্ষাকালে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়ার আগে সার্টিফায়েডত হেলমেট পরা উচিত এবং নিশ্চিত করতে হবে সেই হেলমেটের স্ট্র্যাপ যেন লক থাকে এবং হেলমেটটি আপনার মাথায় ভালো ভাবে ফিট হয়।
রাস্তায় পড়ে থাকা তেল হতে সাবধান: যদি রাস্তার উপরে অনেকখানি জায়গা জুড়ে রংধনুর মতো কিছু দেখতে পান , সাবধান হোন, তেল হবার সম্ভাবনা সমূহ । ভেজা রাস্তায় তেল বরফের মতো পিচ্ছিল হয় । বর্ষার প্রথম বৃষ্টির ক্ষেত্রে ঘন্টা খানেক অপেক্ষা করে বের হন, কারণ অনেক দিনের জমে থাকা তেল ও অন্যান্য ময়লা রাস্তাকে পিচ্ছিল করে তুলে যা ঘন্টা খানেকের মধ্যেই ধুয়ে যায়।
রাতের বেলায় দ্বিগুন সতর্ক থাকুন: বৃষ্টির মধ্যে এমনিতেই বিপদের সম্ভবনা বেড়ে যায়, আর তা যদি হয় রাতে, তাহলে বিপদ আরো বেশি। তাই বৃষ্টির মধ্যে রাতে রাইডের ক্ষেত্রে দ্বিগুন সতর্ক থাকুন। বৃষ্টির পানির হেলমেটের গ্লাসে পড়ে আপনার দৃস্টিকে বাধাগ্রস্থ করবে। বিপরিত দিক থেকে আসা গাড়ীর আলো আপনাকে খুবই বিপদে ফেলে দিবে। অন্য গাড়ীকে সতর্ক করার জন্য প্রয়োজনে বাইকের ইনডিকেটর লাইট ব্যবহার করুন। লো বিম এ হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে বাইক চালানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
সময় নিয়ে বের হোন: বর্ষাকালে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হবার সময় হাতে সময় নিয়ে বের হোন। স্বাভাবিক যে গতিতে আপনি বাইক চালান তার থেকে ১০ থেকে ২০ শতাংশ কম গতিতে গাড়ি চালানো উচিৎ। যদি দৃষ্টিসীমা কমে যায় বা বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকে বাইক চালানো বন্দ করে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিন তবে অবশ্যই গাছের নিচে না।
পরিশেষে বলা যায় জীবন জীবিকার প্রয়োজনেই আমাদের অনেককে বৃষ্টির মধ্যে মোটরসাইকেল রাস্তায় বের করতে হয়। আমরা চাইলেই বলতে পারি না আজ বৃষ্টি হচ্ছে তাই মোটরসাইকেল বের করবো না। কোনো ব্যাপার না, উপরের উপদেশগুলি মাথায় রেখে রিলাক্স মুডে বাইকিং উপভোগ করুন । আর যাই হোক আপনি মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন এবং এটি সব সময়ই রোমাঞ্চকর।
ইউডি/এ

