ভাড়াটে বাহিনীর ‘বিদ্রোহ’: পুতিন কি বিপদে পড়ে গেলেন?

ভাড়াটে বাহিনীর ‘বিদ্রোহ’: পুতিন কি বিপদে পড়ে গেলেন?

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ২৫ জুন ২০২৩ । আপডেট ১৫:০০

ইউক্রেনে ১৬ মাস ধরে চলমান যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মুখোমুখি রাশিয়া। আর এমন সময়েই দেশটির ভাড়াটে আধাসামরিক বাহিনী ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিন মস্কোর সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলো। তাতে কি উভয় সংকটের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন পুতিন। এ নিয়ে আব্দুল্লাহ আরাফাত’র প্রতিবেদন

ওয়াগনার আর রাশিয়ার সামরিক বাহিনী মুখোমুখি কেন?

ইউক্রেনে ১৬ মাস ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মুখোমুখি হয়েছে রাশিয়া। আর এ ঘটনায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। রাশিয়ার ভাড়াটে আধাসামরিক বাহিনী ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিন শনিবার (২৪ জুন) মস্কোর সামরিক নেতৃত্বকে ‘শায়েস্তার ঘোষণা’ দেন। আর এতেই দেশটির পরিস্থিতি বদলেতে যায়। ওয়াগনারের প্রধানের ঘোষণার পর পুতিন তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনে বলেছেন, সশস্ত্র বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে প্রিগোশিন ‘আমাদের দেশের পিঠে ছুরি মেরেছে।’ রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ওয়াগনারের অনেক সেনা ভুল বুঝতে পেরে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তারা তাদের স্থায়ী ঘাঁটিতে চলে যেতে সহায়তা চেয়েছেন।

ওয়াগনার ও রুশ সেনাবাহিনীর মধ্যকার অর্ন্তদ্বন্দ্ব বিশ্বের সবার সামনে সোপ অপেরা হয়ে হাজির হয়েছে। সর্বশেষ পর্বে চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন পোস্টের এক নিবন্ধে প্রিগোশিন বেশ কয়েকবার ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। ডিসকর্ডে ফাঁস হওয়া তথ্যের বরাতে ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, প্রিগোশিন বাখমুত থেকে ইউক্রেনের সেনাদের সরে যাওয়ার বিনিময়ে কিভকে রুশ সেনাদের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এনডিটিভিতে প্রকাশিত নিবন্ধতে আরও বলা হয়েছে, কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো সাধারণত নানান উপায়ে তাদের জনগণকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

তার একটি হচ্ছে- রাষ্ট্র নিয়ে ভয় সৃষ্টি করা; বিদেশি শত্রু, দেশের ভেতরে থাকা শত্রুরা রাষ্ট্রের ক্ষতি করবে, শক্তিশালী নেতৃত্বই কেবল তা রুখতে পারে। এজন্য তাদেরকে দেশের অভ্যন্তরে ও বাইরে শত্রুদের বিরুদ্ধে সফলতাও দেখাতে হয়। পুতিনের রাশিয়াও এর ব্যতিক্রম নয়, তাকেও পশ্চিমা শত্রুদের বিরুদ্ধে সাফল্যের দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা জারি রাখতে হয়। পরিস্থিতি যখন খারাপ হয়ে যায়, তখন খুঁজতে হয় ‘বলির পাঁঠাকে’, যেন সব দায় মূল নেতার কাছ থেকে সরিয়ে অন্যদের ঘাড়ে দেওয়া যায়। এমনটাই আমরা এখন দেখছি? রুশ সশস্ত্র বাহিনৗ ও ওয়াগনার পরস্পরের ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, বলা হয়েছে ওই নিবন্ধে।

বিশ্বাসঘাতকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

ওয়াগনারের বিদ্রোহকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। শনিবার মস্কো থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এই বিদ্রোহকে ‘পেছন থেকে ছুরিকাঘাতের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। সেই সঙ্গে যারা দেশের অভ্যন্তরে ‘বিদেশি শত্রুদের’ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে রাশিয়ার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।তিনি বলেন, বর্তমানে যে ঘটনাটির মুখোমুখি আমরা হয়েছি, সেটি পুরোপুরি বিশ্বাসঘাতকতা এবং এ ধরনের বিশ্বাসঘাতকতাসহ যেকোনো হুমকি থেকে আমরা আমাদের জনগণ ও দেশকে রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।

আমি বিশ্বাস করি, আমাদের জন্য যা পবিত্র ও গভীর আবেগেরÍ তা আমরা রক্ষা করবই। দেশকে রক্ষা করতে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ হই সেক্ষেত্রে যে কোনো সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব। আর যারা সন্ত্রাসবাদ ও সশস্ত্র বিদ্রোহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদেরকে অবশ্যই আইন এবং আমাদের জনগণের সামনে অপরাধী হিসেবে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের জন্য শাস্তি অনিবার্য।

সামরিক অভ্যুত্থান নয়, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই লক্ষ্য, বলছেন প্রিগোশিন

রাশিয়ার গার্ড ও সামরিক পুলিশের অনেক সদস্য ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রিগোশিন।এক অডিও রেকর্ডিংয়ে ওয়াগনার বস দাবি করেছেন, রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর ৬০ থেকে ৭০ জন যোদ্ধা ওয়াগনার গ্রুপের যোগ দিয়েছে। এ ছাড়া যেখানেই রাশিয়ান গার্ড ও মিলিটারি পুলিশের সঙ্গে ওয়াগনারের দেখা হচ্ছে, তারা প্রফুল্লভাবে হাত নেড়ে ওয়াগনার যোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

ইয়েভজেনি প্রিগোশিন

পুতিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে বিশ্বাসঘাতকদের শাস্তির যে অঙ্গীকার করেছেন, এর জবাব দিয়েছেন ওয়াগনার-প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোশিন। তার এ পদক্ষেপ রাশিয়ার জনগণের জন্য, এমনটাই বলেছেন প্রিগোশিন। তিনি বলেন, ওয়াগনার বাহিনীর ২৫ হাজার জনের প্রত্যেকেই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত, এরপর আরও ২৫ হাজার জন। তবে প্রিগোজিন সরাসরি পুতিনের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। তিনি অনেক দিন ধরেই বিভিন্ন ইস্যুতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাøের বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়ে আসছিলেন। প্রিগোশিন বলেছেন, তার লক্ষ্য সামরিক অভ্যুত্থান ঘটানো নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

রাশিয়ায় আকস্মিক বিদ্রোহ: ইউক্রেনসহ পশ্চিমাদেশগুলো কি বলছে

ইউক্রেনে লড়াই করে আলোচনায় আসা ওয়াগনার বাহিনীর আকস্মিক বিদ্রোহ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইউক্রেন ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, রাশিয়ার দুর্বলতা সুস্পষ্ট হয়েছে। মস্কো ইউক্রেনে তার সৈন্য ও ভাড়াটে সৈন্যদের যত দীর্ঘসময়ের জন্য রাখবে, দেশের ভেতরে বিশৃঙ্খলা তত বেশি হবে। জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক এই বিদ্রোহকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন। আমেরিকাও এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল। আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি বিøনকেন বলেছেন, মিত্রদের সাথে মিলে পরিস্থির বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে ওয়াশিংটন।
ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এতে তারা বলেছে, ২৪ জুন সকালে ইউক্রেন থেকে দুটি দিক দিয়ে ওয়াগনার সেনারা প্রবেশ করেন। যেটিকে ওয়াগনার প্রধান প্রিগোজিন ‘মার্চ ফর ফ্রিডম’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাশিয়ার এমন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। এছাড়াও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, বর্তমানে ওয়াগনার যে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে এটি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে তবুও তারা এতে নজর রাখছেন। শনিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তুরস্কের প্রসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এরদোয়ান সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এরদোয়ান আরও বলেন, রাশিয়ায় যে সমস্যা তৈরি হয়েছে তার শান্তিপূর্ণ সমাধানে রাশিয়া প্রস্তুত এবং তা যত দ্রæত সম্ভব করা হবে।

শুধুই হুমকি নাকি ক্রেমলিনকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা?

ক্রেমলিনের বিদ্রোহের অভিযোগের মুখে থাকা রাশিয়ার মিলিশিয়া বাহিনী ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিন দক্ষিণাঞ্চলীয় রোস্তভ-অন-ডন শহর তার নিয়ন্ত্রণে আছে বলে দাবি করে সেখান থেকে বাহিনী নিয়ে মস্কো যাওয়া হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু তাত্তি¡কভাবে তিনি কি রাজধানীতে পৌঁছতে পারবেন, নাকি এটি শুধুমাত্র অতি ঝুঁকি নিয়ে ক্রেমলিনকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা?

প্রিগোজিনের এই হুমকির বাস্তব সম্ভাবনা কতোটা তা এক সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণে তুলে ধরেছে বিবিসি। মস্কো পৌঁছতে হলে প্রিগোশিন ও তার সেনাদের কয়েকশ মাইল পাড়ি দিতে হবে, রাশিয়ার এমন অঞ্চলগুলোর মধ্যে দিয়ে যেতে হবে যেখানে ইতোমধ্যেই বিশেষ ‘সন্ত্রাসবিরোধী শাসন’ জারি করা হয়েছে। নিশ্চিত করা হয়নি এমন কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার মস্কোর পথে রওনা হওয়ার পর মধ্যপথে ভারোনেশ অঞ্চলে ওয়াগনারের একটি সামরিক বহরে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। রস্তোভ-অন-দন ও মস্কোর মাঝামাঝি এই অঞ্চলের প্রধান শহর ভারোনেশের সামরিক স্থাপনাগুলো ওয়াগনার বাহিনীর দখলে চলে গেছে বলে বিবিসির সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের গতিপথ পাল্টে যেতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকগণ

এক রাতের মধ্যে পাল্টে গেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দৃশ্যপট। আলোচনায় এখন রাশিয়ার অভ্যন্তরীন বিদ্রোহ। এতে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। এত দিন রাশিয়ার সেনাবাহিনী ওয়াগনার গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ইউক্রেন বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করেছে। দখল করেছে ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ইউক্রেনের সেনাদের সঙ্গে প্রত্যেক জায়গায় শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে এই ওয়াগনার গ্রুপ।ইউক্রেনের অঞ্চল দখল করে বুঝিয়ে দিয়েছে রুশ সেনাদের কাছে। এরপর অন্য কোথাও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে রাশিয়ার এই ভাড়াটে বাহিনী। তাদের সফলতার প্রশংসা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেও।
যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার শক্তির অন্যতম এই উৎস আজ ঘরের শত্রুতে পরিণত হয়েছে।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৫ জুন ২০২৩ । প্রথম পৃষ্ঠা

রুশ সেনার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে তারা। অর্থাৎ ইউক্রেন ছেড়ে এখন নিজ সেনাদের বিরুদ্ধেই লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়ার এই বাহিনী। আপতদৃষ্টে মনে হচ্ছে রুশ এই দুই বাহিনী যেকোনো সময় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ ঘণ্টাকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। যদি রুশ কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে তাহলে প্রাণে বাঁচবে দুই পক্ষের অসংখ্য সেনা। তা না হলে অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে রাশিয়ার। ছড়িয়ে পড়তে পারে সংঘাত। বিশ্লেষকগণ বলছেন, যদি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে সেক্ষেত্রে সুযোগ নিতে পারে ইউক্রেনসহ রাশিয়ার শত্রুরা।

বিশেষ করে আমেরিকাসহ পশ্চিমারা। ইউক্রেনের যেসব অঞ্চল বর্তমানে রাশিয়ার দখলে সেখানে হামলা জোরদার করতে পারেন জেলেনস্কি। নিজেদের ভূখণ্ড উদ্ধারে মরিয়ে তিনি। তাছাড়া গত কয়েক মাস ধরেই পাল্টা হামলার পরিকল্পনা করে আসছে ইউক্রেনের সেনারা। এক্ষেত্রে অর্থ ও সামরিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে পশ্চিমা বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে পিছু হাঁটতে বাধ্য হবে রাশিয়া।

ইউডি/এজেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading