হুশিয়ারি দিয়ে মস্কোতে ড্রোন হামলার কথা স্বীকার জেলেনস্কির
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ৩১ জুলাই ২০২৩ । আপডেট ০৯:৪০
এবার সরাসরি মস্কোতে ড্রোন হামলার কথা স্বীকার করে নিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। স্থানীয় সময় রবিবার (৩০ জুলাই) ইউক্রেনের দখলে থাকা শহর ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক থেকে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা অনিবার্য, স্বাভাবিক এবং একেবারে ন্যায্য প্রক্রিয়া।
সেই সঙ্গে তিনি আরও জানান, যুদ্ধ ধীরে ধীরে রাশিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এদিকে চলতি সপ্তাহে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য একাধিক আলোচনা হয়েছে আফ্রিকান দেশগুলোর পাশাপাশি চীন এবং সৌদি আরবের মধ্যে। জেলেনস্কি এমন এক সময় এই হামলার কথা স্বীকার করলেন যখন পুতিন জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার সুযোগ কখনই শেষ হয়ে যায়নি রাশিয়া ইউক্রেনের মধ্যে। এর আগে রাশিয়া অভ্যন্তরে হওয়া কোন হামলার দায়ই স্বীকার করেনি কিয়েভ। এবারই প্রথম দেশটি অফিসিয়ালি রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার বিষয়টি স্বীকার করলো। খবর বিবিসি’র।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ইউক্রেনের চারটি ড্রোন ভূ-পাতিত করার তথ্য মিলেছে। তারা জানিয়েছে, এর মধ্যে দুটি ড্রোন তাদের কার্যালয় ভবনে আছড়ে পড়েছে। এ ঘটনায় দেশটির ভনুকোভো বিমানবন্দরের কার্যক্রম বেশ কিছু সময় বন্ধ রাখা হয়। বিবিসি প্রতিবেদন অনুসারে, এটি জেলেনস্কির কোন সাধারণ হামলার স্বীকারোক্তি নয়। তিনি এর মাধ্যমে রাশিয়ার সাধারণ নাগরিকদের কাছেও একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চাচ্ছেন। রাশিয়া এই যুদ্ধকে যে সঠিক মনে করছে, তা একেবারেই অযৌক্তিক এই বার্তা জেলেনস্কি দিতে চাচ্ছেন।
এ কারণেই ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, তারা এই ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ করে ভেবেছিলো কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু এখন যুদ্ধের ৫২২তম দিন চলছে এবং প্রতিনিয়ত আমরা আরও শক্তিশালী হচ্ছি। এ সময় তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ ধীরে ধীরে রাশিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে তা রাশিয়ার সামরিক স্থাপনাগুলোও খুঁজে পাবে। এ সময় রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালানোর কথা স্বীকার করে তিনি জানান, এটি ‘অনিবার্য, স্বাভাবিক এবং একেবারে ন্যায্য প্রক্রিয়া।’
এদিকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ থামাতে কাজ করছে আফ্রিকা ও চীন। এবার এ কাজে যুক্ত হচ্ছে সৌদি আরব। আগামী মাসে ইউক্রেনের সঙ্গে বসতে যাচ্ছে সৌদি। এ আলোচনায় পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোসহ ভারত-ব্রাজিলকেও আমন্ত্রণ জানাবে সৌদি আরব। ৩০ দেশের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে- ইন্দোনেশিয়া, মিশর, মেক্সিকো, চিলি এবং জাম্বিয়া। আগস্টের ৫ অথবা ৬ তারিখে জেদ্দায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেন এবং পশ্চিমা বিশ্ব আশা করছে এ বৈঠকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শান্তি ফিরে আসবে। যদিও এ বৈঠকে রাশিয়াকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেন ও রাশিয়া বলেছে, কিছু পূর্বশর্ত ছাড়া তারা আলোচনার টেবিলে আসবে না। ইউক্রেনের দাবি, ১৯৯১ সালে সীমানা যেমন ছিল সেটা তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। কিন্তু এ দাবি মেনে নেবে না বলে স্পষ্ট করেছে ক্রেমলিন। মস্কোর যুক্তি, আলোচনার জন্য কিয়েভকে তার দেশের ‘নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতা’ মেনে নিতে হবে।
ইউডি/সি

