পাকিস্তানে ৬ শিশুসহ একই পরিবারের ১১ সদস্যকে হত্যা
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৪:৫০
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় একই পরিবারের ১১ জনকে হত্যা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬টিই শিশু। অভিযোগ উঠেছে, পারিবারিক বিবাদের জেরে তাদের বিষপ্রয়োগ ও নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বুধবার (১০ জানুয়ারি) খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের লাকি মারওয়াতের শেখ নিয়াজী কুর্না তখতিখেল এলাকায় শিশুসহ একই পরিবারের ১১ সদস্যকে তাদের বাড়িতে নিহত অবস্থায় পাওয়া যায়।
নিহতরা হলেন সরদরাজ নামক এক ব্যক্তির ছেলে সরদরাজ তাবেদার, তার স্ত্রী সওদানা বিবি, তাদের ছেলে আল্লাহ নূর ও আবদুল রহিম এবং মেয়ে মুজলেফা ও বসরিনা বিবি। নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছে সরদরাজের আরেক ছেলে আমালদার, তার স্ত্রী গুলদানা, তাদের ছেলে আমিরুল্লাহ এবং মেয়ে নাইফা ও নূরবানা।
তাবেদারের চাচা উমর গুল (৬৭) পুলিশকে বলেন, আমার ও আমার ভাতিজার বাড়ি পাশাপাশি। বুধবার সকালে তাদের বাড়িতে গিয়ে শোবার ঘর বাইরে থেকে তালা দেওয়া দেখতে পাই। এক পর্যায়ে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে দরজা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিই। দরজা ভাঙার পর তাবেদার, তার স্ত্রী ও সন্তানদের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। আমালদার, তার স্ত্রী ও সন্তানদেরও তাদের ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে আমি আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীদের ডেকে লাশগুলো সেরাই নওরাং শহরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করি।
স্থানীয় পুলিশের ধারণা, নিহতদের দুই-তিন দিন আগে নির্যাতন ও বিষপ্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা ডনকে বলেন, ওই ১১ জনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এরই মধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে ও বাড়ি থেকে কিছু তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। জেলা পুলিশ কর্মকর্তা তারিক হাবিব নিহতের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আরশাদ হুসেন শাহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রাদেশিক পুলিশের মহাপরিদর্শককে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
ইউডি/কেএস

