শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন: নবীন-প্রবীণের মন্ত্রিসভায় চ্যালেঞ্জ
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৪:৩০
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবার জয় লাভ করার মধ্যদিয়ে ইতিহাস গড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আর এই জয়ের নায়ক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি টানা চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন আজ। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটা তার পঞ্চম দফা শপথ। নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে গঠন করা মন্ত্রিসভার সামনে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, রিজার্ভ বাড়ানো, দুর্নীতির রাশ টেনে ধরাসহ একগুচ্ছ চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ নিয়ে সিরাজুল ইসলাম’র প্রতিবেদন
সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্ন বুনন: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভের পর সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বুধবার (১০) জানুয়ারি শপথ নিয়েছেন ২৯৮ আসনের নবনির্বাচিত এমপি। এরই মধ্যে গঠন করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ। এবারও প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি টানা চতুর্থবার এবং পঞ্চমবারের মতো এ দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ১১ জন পাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। অর্থাৎ নতুন মন্ত্রিসভায় ৩৭জন সদস্য থাকছেন। আজ বৃহস্পতিবার তারা শপথ নেবেন। তবে একাধিক সূত্র বলছে, মন্ত্রিসভার আকার কিছুটা বড় হতে পারে। আরও কয়েকজন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পেতে পারেন। একাদশ সংসদের মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন বাদ পড়েছেন। আবার যোগ হয়েছে কয়েকজন নতুন মুখ। পুরাতন ও নতুনদের সমন্বয়ে গঠন করা মন্ত্রিসভা ‘সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্ন বুননে’ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডিজিটাল থেকে স্মার্ট দেশ গঠন এবং অর্থনীতির ভিত শক্ত করতে তারা কাজ করবেন।

পূর্ণমন্ত্রী যারা: পূর্ণমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, ওবায়দুল কাদের, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, আসাদুজ্জামান খান, ডা. দীপু মনি, মো. তাজুল ইসলাম, মুহাম্মদ ফারুক খান, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আনিসুল হক, হাছান মাহমুদ, আবদুস শহীদ, সাধন চন্দ্র মজুমদার, র আ ম ওবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আব্দুর রহমান, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, আবদুস সালাম, মহিবুল হাসান চৌধুরী, ফরহাদ হোসেন, ফরিদুল হক খান, জিল্লুল হাকিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, নাজমুল হাসান পাপন, ইয়াফেস ওসমান, ড. সামন্ত লাল সেন।

প্রতিমন্ত্রী যারা
প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন বেগম সিমিন হোসেন রিমি, নসরুল হামিদ, জুনাইদ আহমেদ পলক, মো. আলী আরাফাত, মহিবুর রহমান, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাহিদ ফারুক, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, রুমানা আলী, শফিকুর রহমান চৌধুরী ও আহসানুল ইসলাম।

শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ, শপথ নিবেন আজ: আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ বিষয়ে বুধবার (১০ জানুয়ারি) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। তিনি আজ শপথ নেবেন। তার সঙ্গে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেবেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবার এবং সব মিলে পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। এতে আরও বলা হয়, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে গণ্য হবে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে। এ জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪০টি গাড়ি হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত করেছে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর। পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও পাঁচটি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে; যাতে চাওয়ামাত্রই দেওয়া যায়। অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে দাঁড়িয়েও ভোটের আগে ইশতেহারে সমৃদ্ধ আগামীর স্বপ্ন দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভোটে জয়ের পর তার নতুন মন্ত্রিসভায় মিলছে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের আভাস।
বিদায়ী সরকারে থাকা প্রবীণ ও বয়োজ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের অনেকের জায়গা হয়নি নতুন মন্ত্রিসভায়। গতবারের মত এবারও শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভার সবাই আওয়ামী লীগের, শরিক দলের কাউকে তিনি ফেরাননি। প্রধানমন্ত্রীসহ নতুন মন্ত্রিসভার আকার দাঁড়িয়েছে ৩৭ জনে। তাদের মধ্যে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী। আর ১১ জন পাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন বুধবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।
মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যারা: এবারের মন্ত্রিসভায় আছে কিছু নতুন মুখ। আবার অনেকে আছেন আগে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, মাঝে ছিলেন না। এখন নতুন করে জায়গা পেয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছেন- কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ ফারুক খান, অ্যাড. জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, মোহাম্মদ এ আরাফাত, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, মো. আব্দুস শহীদ, আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম, জিল্লুল হাকিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, নাজমুল হাসান পাপন, সামন্ত লাল সেন, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সিমিন হোসেন রিমি, মো. মহিবুর রহমান, রুমানা আলী, মো. শফিকুর রহমান চৌধুরী, আহসানুল ইসলাম টিটু ও নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। নতুন সরকারের মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে ১৪ জন একেবারে নতুন। বিদায়ী সরকারে না থাকলেও আগে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন এমন চারজনকে শেখ হাসিনা ফিরিয়ে এনেছেন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে। এছাড়া গত সরকারের একজন উপমন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী এবার পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। ২০১৩-২০১৮ মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে আবার মন্ত্রিসভায় ফিরিয়েছেন শেখ হাসিনা। ডাক পড়েছে ২০০৯-২০১৩ মেয়াদে বাণিজ্য এবং বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা ফারুক খানেরও। সাবের হোসেন চৌধুরী সেই ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে এলজিআরডি ও নৌ পরিবহন উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। গত তিন মেয়াদে তাকে সরকারে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন পর তিনি ফিরছেন পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছে।
২০০৯-২০১৪ মেয়াদে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা জাহাঙ্গীর কবির নানক পরের মেয়াদে সরকারে ঠাঁই পাননি। তবে এবার তাকে মন্ত্রিসভায় ফিরিয়ে এনেছেন শেখ হাসিনা। গত এক যুগ ধরে বিসিবির সভাপতি পদে থাকা নাজমুল হাসান পাপনকে এবারই প্রথম মন্ত্রিসভায় এনেছেন শেখ হাসিনা। পোড়া রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে পরিচিত নাম অধ্যাপক ডা. সামন্তলাল সেনকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতিমøলীর সদস্য আব্দুর রহমান, সাবেক চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, শেখ হাসিনার এক সময়ের একান্ত সচিব র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ময়মনসিংহের এমপি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুস সালাম, রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিল্লুল হাকিম প্রথমবার সরকারে আসছেন মন্ত্রী হয়ে। গত পাঁচ বছর শিক্ষা উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা তরুণ নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে পূর্ণমন্ত্রী করছেন প্রধানমন্ত্রী। নতুন প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছে তাজ উদ্দিন আহমেদের মেয়ে সিমিন হোসেন রিমি, ২০২৩ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য হওয়া মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং পটুয়াখালীর আওয়ামী লীগ নেতা মুহিব্বুর রহমান মুহিব। খাগড়াছড়ির টানা তিনবারের সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী রহমত আলীর মেয়ে রুমানা আলী টুসি, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নেতা শফিকুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটুকেও প্রতিমন্ত্রী করে সরকারের দায়িত্বে এনেছেন শেখ হাসিনা। একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় তিন জন উপমন্ত্রী থাকলেও এবার কাউকে উপমন্ত্রী রাখা হয়নি।
বাদ গেলেন ১৫ মন্ত্রী ১৩ জন প্রতিমন্ত্রী: নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চোধুরী, রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে যারা বাদ পড়েছেন, তারা হলেন- শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম ফজিলাতুন নেছা। এ ছাড়া দুজন উপমন্ত্রী বাদ পড়েছেন। তারা হলেন- পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এবং পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম। অপর উপমন্ত্রী (শিক্ষা) মহিবুল হাসান চৌধুরী পদোন্নতি পেয়ে এবার পূর্ণ মন্ত্রী হচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীসহ বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ৪৮ (পদত্যাগ করা টেকনোক্র্যাট তিনজনসহ)। সেখানে নতুন মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ৩৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
বয়স আর অসুস্থতার কারণে গত দুবার বাজেট দেওয়ার সময় যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে। তার দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। তাদের দুজনের কেউই থাকছেন না নতুন মন্ত্রিসভায়। শেখ হাসিনার গত সরকারে অনির্বাচিত (টেকনোক্র্যাট) মন্ত্রী ছিলেন দুজন, তাদের মধ্যে একজনকে এবারও সরকারে রাখা হয়েছে। এর বাইরে টেকনোক্র্যাট হিসেবে মন্ত্রীর দায়িত্বে এসেছেন আরো একজন। বাদ পড়েছেন টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। মনোনয়ন পেয়েও ভোটে হেরে যাওয়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. স্বপন ভট্টাচার্য্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীও ডাক পাননি।
এখন আলোচনায় রয়েছেন যারা: সরকারের একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এবার মন্ত্রিসভা হতে পারে ৪০ সদস্যর। এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীসহ ৩৭ জনের নাম জানা গেছে। সেই হিসাবে এখনো তিনজন সদস্য বাকি রয়েছেন। মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন- এমন আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম; সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম; বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফজলে কবির; আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ এবং জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

বাহাউদ্দিন নাছিম ক্লিন ইমেজের ও জনপ্রিয় নেতা। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন। শেষ পর্যন্ত তাকে মন্ত্রিসভায় রাখা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হওয়ার পর পদত্যাগ করেন গর্ভনর ড. আতিউর রহমান। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই পদে নিয়োগ পান ফজলে কবির। তিনি একজন বিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ। তাকেও টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যার অনেক অবদান, তিনি হলেন ড. শামসুল আলম। সাবেক এই আমলা একাদশ সংসদে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনিও ডাক পেতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে। ড. সেলিম মাহমুদ চাঁদপুরের সংসদ সদস্য। তিনিও ক্লিন ইমেজের নেতা। তাকেও মন্ত্রিসভায় রাখার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সূত্র আভাস দিয়েছে। অন্যদিকে হাসানুল হক ইনুকে থিংক ট্যাঙ্ক মনে করা হয়। যদিও গতবছর তাকে মন্ত্রী করা হয়নি। কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক এই এমপি এবার জিততে পারেননি। শেষ পর্যন্ত হয়তো তাকে মন্ত্রী করা হতে পারে।
ফরহাদ-মহিবুলের পদোন্নতি: নতুন মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হচ্ছেন বর্তমান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ফোন করা হচ্ছে। ফরহাদ হোসেন ও মহিবুল হাসান চৌধুরী ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফরহাদ হোসেন মেহেরপুর-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মহিবুল হাসান চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা টানা চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন আজ বৃহস্পতিবার। তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এ বিষয়ে বুধবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলা গণ্য হবে। বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান হবে।
মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী উপমন্ত্রী কী কী সুবিধা পান: মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা গাড়ি, বাড়ি, চিকিৎসা খরচসহ অন্তত ১৩ ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট’-এ সুযোগ সুবিধার কথা বলা হয়েছে। একজন মন্ত্রীর মাসিক বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রতিমন্ত্রীর বেতন ৯২ হাজার ও উপমন্ত্রীর ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা। দায়িত্ব পাওয়ার পর একজন মন্ত্রী সরকারি ব্যয়ে একটি সুসজ্জিত বাসভবন পান বিনা ভাড়ায়। প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী একই সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে মন্ত্রী যদি সরকারি বাড়িতে না থেকে নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে থাকেন, তাহলে সরকার থেকে তিনি মাসিক ৮০ হাজার টাকা করে ভাড়া পাবেন। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী পাবেন ৭০ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে বসবাস করলে সেটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বছরে তিন মাসের বাড়ি ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা পাবেন তারা।
নিজ এলাকার মসজিদ, মন্দির উন্নয়নসহ এলাকার মানুষের দাতব্য কাজে একজন মন্ত্রীকে বছরে ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এ খাতে প্রতিমন্ত্রী পাবেন সাড়ে ৭ লাখ ও উপমন্ত্রী পাবেন ৫ লাখ টাকা করে। এ টাকার মধ্যে মন্ত্রী চাইলে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দিতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী দিতে পারেন ৩৫ হাজার আর উপমন্ত্রী ২৫ হাজার টাকা। এলাকার উন্নয়নে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের এই টাকার কোনো নিরীক্ষা হয় না। ফলে এ টাকা খরচে অনেকটা উদার থাকেন তারা। আপ্যায়নের জন্য একজন মন্ত্রী মাসে ১০ হাজার টাকা করে পান। এ খাতে প্রতিমন্ত্রী সাড়ে ৭ হাজার টাকা আর উপমন্ত্রী ৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী বছরে বিমাসুবিধা পাবেন ১০ লাখ টাকা। মন্ত্রিসভার সদস্যরা অসুস্থ হলে তার পুরো চিকিৎসা খরচ সরকার বহন করে। এ ক্ষেত্রে বলা আছে, চিকিৎসা খরচ সীমাহীন। সরকার তার পুরো চিকিৎসার খরচ দেবে। তবে খরচের ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে।

দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী সরকারি খরচে একটি করে গাড়ি সুবিধা পাবেন। এই গাড়ি পরিবহন পুল সরবরাহ করবে। এ ছাড়া সরকারি প্রয়োজনে বিশেষ করে নির্বাচনী এলাকায় ভ্রমণের সময় তারা মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেকোনো সংস্থা বা দপ্তর থেকে একটি জিপ গাড়ি পাবেন। জ্বালানি বাবদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী দৈনিক ১৮ লিটার জ্বালানি তেলের সমপরিমাণ অর্থ পাবেন। তবে দেখা গেছে, মন্ত্রীদের সরকারি গাড়ি তাদের পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করেন। মন্ত্রীরা কয়েকটি গাড়ি ব্যবহার করেন, যা বিভিন্ন দপ্তর থেকে নেওয়া হয়। একজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দেশের ভেতরে কোথাও ভ্রমণে গেলে দৈনিক ভাতা পাবেন দুই হাজার টাকা করে। উপমন্ত্রী পাবেন দেড় হাজার টাকা করে। সরকারি বাড়ি সাজসজ্জা করতে একজন মন্ত্রী প্রতিবছর পাবেন পাঁচ লাখ টাকা। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা পাবেন চার লাখ টাকা করে। এ ছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের বাসভবনে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোন ব্যয় যা আসবে, সরকার পুরোটাই বহন করবে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী তার নিজের পছন্দ অনুযায়ী উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব (পিএস) পাবেন। যদিও গত নির্বাচনের পর মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের পিএস নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সেখানে তাদের পছন্দ ছিল না। এ ছাড়া একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং সরকারি কর্মকর্তার বাইরে নিজের পছন্দের একজন সহকারী একান্ত সচিব পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা, একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুজন অফিস সহায়ক ও একজন পাচক পেয়ে থাকেন। প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী একজন একান্ত সচিব, একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন জমাদার, একজন আরদালি ও একজন অফিস সহায়ক পেয়ে থাকেন। এ ছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা একটি করে মুঠোফোন পাবেন।

