প্রথম কর্মদিবসে সরগরম সচিবালয়: উষ্ণ অভ্যর্থনায় ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীগণ

প্রথম কর্মদিবসে সরগরম সচিবালয়: উষ্ণ অভ্যর্থনায় ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীগণ

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৪:০০

উৎসবমুখর পরিবেশে রবিবার (১৪ জানুয়ারি) নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যগণ প্রথম অফিস করেছেন। তারা নিজেদের কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন, এসব নিয়ে মিলন গাজী’র প্রতিবেদন

উৎসবের আমেজে পথচলা শুরু: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর টানা চতুর্থবারের মত সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার ২৫ মন্ত্রী ও ১১ প্রতিমন্ত্রী গত বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে দায়িত্ব পালনের শপথ নেন। এরপর শুক্র ও শনিবার ছিল সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে নতুন মন্ত্রীদের জন্য রবিবার (১৪ জানুয়ারি) ছিল প্রথম কার্যদিবস। বিদায়ী মন্ত্রিসভার ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। ফলে অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ এসেছেন। এ ছাড়া আগের মন্ত্রিসভার কয়েকজনকে নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হলেও কারও কারও মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার এদিন প্রথমে সচিবালয়ে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে আসেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা। এসময় ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন তারা। উৎসবমুখর পরিবেশে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীদের বরণ করে নিয়েছেন তাদের দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। প্রথম দিন পরিচিত ও মতবিনিময় সেরে নেয়ার পাশাপাশি দায়িত্বভার বুঝে নিয়েছেন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীরা। মন্ত্রণালয় নিয়ে নিজেদের কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছে নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রীরা।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের; বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী; অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী; স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন; কৃষিমন্ত্রী আবদুস শহীদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক; তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুসহ বেশ কয়েকজন নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এদিন সকালে নিজ নিজ দপ্তরে আসেন। প্রথম দিনে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। নিজেদের দায়িত্ব শতভাগ নিষ্টার সাথে পালন করার প্রতিশ্রুতি দেন নতুন দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী। ওবায়দুল কাদের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে। এবারও তাকে সেই দায়িত্বে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন সরকারের প্রথম কার্যদিবসে নিজের দপ্তরে এসে কাদের বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ‘বড় চ্যালেঞ্জ’। সব চ্যালেঞ্জ ‘মোকাবেলা করেই’ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।প্রথম কার্যদিবসে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরী। নির্বাচনী ইশতেহার পূরণে আগামী সাত দিনের মধ্যে তিনি একশ দিনের পরিকল্পনা দিতে চান। গত দুই মেয়াদে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব সামলানো জুনাইদ আহমেদ পলক এবার পুরো মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রথম কার্যদিবসে তিনিও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সেই বৈঠকের ভিডিও তিনি শেয়ার করেছেন ফেসবুকে।

দপ্তরে দপ্তরে ফিরেছে কর্মচঞ্চলতা: নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা রবিবার থেকে কাজ শুরু করেছেন। তাদের উপস্থিতিতে সচিবালয়ে ছিল বেশ কর্ম চাঞ্চল্য। শেষ পৌষের হাড় কাপানো ঠান্ডা হার মনেছে সচিবালয়ের কর্মচঞ্চলতার কাছে। ঘন কুয়াশার চাদর ভেদ করে সারি সাড়ি গাড়ি এসে ভিড় করে। সকাল নয়টা থেকেই সচিবালয়ে আসতে শুরু করে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। উৎসবমুখরতায় তাদের বরণ করে নিতে আগে থেকেই তৈরি ছিলো মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এদিন নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বরণে সচিবালয়ে ছিল অতিরিক্ত মানুষের চাপ। মন্ত্রণালয়গুলোর দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের সুহৃদ-শুভাকাক্সক্ষীরা এসেছিলেন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শুভেচ্ছা জানাতে। সচিবালয় প্রাঙ্গণে অনেককে ফুলের তোড়া হাতে নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে যেতে দেখা যায়। শুভেচ্ছা জানাতে আসা ব্যক্তিরা অনেকেই এসেছিলেন গাড়িতে করে। অভ্যর্থনাকারীদের পদচারণায় সচিবালয়ের পার্কিং এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে। সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যারা শুক্রবার গোপালগঞ্জে গেছেন, তাদের অনেকে এখনও ঢাকায় ফেরেননি। ফলে নতুন মন্ত্রীদের কেউ কেউ আজ সোমবার প্রথম অফিস করবেন।

ওবায়দুল কাদের জানালেন এখনও ষড়যন্ত্র চলছে: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে বিপন্ন করার ষড়যন্ত্র এখনও চলছে। এসব ষড়যন্ত্রে সরকার ভয় পায় না। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সরকারের সে সাহস আছে। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর প্রথম দিন সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। ওবায়দুল কাদের বলেন, অনেকে ভেবেছে, আমরা নির্বাচন করতে পারব না। তাদের সে স্বপ্ন, দুঃস্বপ্ন হয়ে গেছে। মন্ত্রিসভায় দেশি-বিদেশি চাপ আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন দেশি-বিদেশি চাপ আছে, তা আমরা অতিক্রম করার শক্তি-সাহস রাখি। কারণ, এই দলের সম্পর্ক মাটি ও মানুষের সঙ্গে। অর্থনীতিকে বিপন্ন করার চেষ্টা আছে। এগুলোকে ভয় পেলে চলবে না। অতিক্রম করতে হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকাল আমাদের গ্রামীণ বাজার পর্যন্ত ভরপুর খাদ্য সামগ্রী, ফলমূল সব আছে। সীমান্তেও একই অবস্থা। কিছু নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট হচ্ছে। মানুষ যাতে সহজে দ্রব্যমূল্য কিনতে পারে সেক্ষেত্রে আমরা জোর দেবো। বিএনপিসহ সমমনা দলগুলোর নতুন করে নির্বাচনের দাবিকে ‘মামাবাড়ির আবদার’ বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, দেশটা সকলের। দেশ যে শুধু আওয়ামী লীগের সেটা তো বলতে পারি না। সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চায় আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতি, অর্থনীতি ও ব্যক্তিগত জীবনের সর্বক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জ আছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সেই চ্যালেঞ্জ কঠিন। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে এবার চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন। ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি মনে করি কোনো চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করা অসম্ভব নয়। সবই অতিক্রম করতে পারবে বর্তমান সরকার। পদ্মাসেতু শুরুর সময় কেউ ভাবেনি এটি শেষ করা হবে। বিশ্বব্যাংকও পাশে ছিল না। কিন্তু আমরা পদ্মাসেতু করতে পেরেছি। মেট্রোরেল চালু হয়েছে। এছাড়া আর পাঁচটি পরিকল্পনা আছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৬টি মেট্রোর কাজ শেষ হবে।তিনি বলেন, আমরা সড়কে যানবাহনের শৃঙ্খলা আনতে পারিনি। সড়কে ও যানবাহনে শৃঙ্খলা ফেরানো এখনও চ্যালেঞ্জ। বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় একটি প্রকল্প চলছে। এটি শেষ করতে পারলে রোড সেফটি নিশ্চিত হবে। আজ অনেক সড়ক হচ্ছে। সড়কগুলো স্মার্ট করতে হবে। যেন এক পশলা বৃষ্টিতেই অস্তিত্বহীন না হয়ে যায়। এ বিষয়গুলোও আমরা দেখবো। অনেক সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করতে হবে।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী

অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সময় চান অর্থমন্ত্রী: দেশের অর্থনীতিতে অনেক চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, বিষয়গুলো বুঝতে তার ‘একটু সময়’ প্রয়োজন। রবিবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে মাহমুদ আলী বলেন, চ্যালেঞ্জ ছিল, চ্যালেঞ্জ আছে। এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবেলা করেই আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, তা সমাধান করতে হবে। রাতারাতি সব সংকট দূর করা যাবে না। বিষয়গুলো বুঝতে একটু সময় দিন। তিনি বলেন, রোজায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সময় দিতে হবে। পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে অর্থ মন্ত্রণালয় একা পারবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কাজ করব। রাতারাতি সব কিছু ঠিক করা যাবে না। তিনি বলেন, অর্থ পাচার রোধে কাজ করা হবে। টাকার মূল্য কমে গেছে। সেটা নিয়েও কাজ করা হবে। এ বিষয়ে দেখি কি করা যায়। দিনাজপুর-৪ থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলী গত সরকারে না থাকলেও তার আগে দুইবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে নবগঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মাহমুদ আলী, ২০১৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি ওই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগের নির্বাচনকালীন সরকারে মাহমুদ আলীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ ফের সরকার গঠন করলে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নতুন মেয়াদে মন্ত্রিত্ব না পেলেও অর্থমন্ত্রণালয় সম্পর্কিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদ আলী।৮১ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে টানা চতুর্থবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এবার অর্থমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন।

ড. হাছান মাহমুদ

পূর্ব-পশ্চিমকে নিয়েই এগোতে চান পররাষ্ট্রমন্ত্রী: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচনের পর পূর্ব-পশ্চিম সব দেশই আমাদের সঙ্গে কাজ করতে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তাই আমরা পূর্ব-পশ্চিমকে একসঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে সব দেশেরই কম বেশি প্রশ্ন থাকে। নির্বাচনের পর ৮ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা দেখা করতে গিয়েছিলেন। তখন আমেরিকার পর্যবেক্ষক প্রধানমন্ত্রীকে বলেছন, ভালো একটি নির্বাচন হয়েছে। তবে আমাদের দেশেও নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থাকে। নির্বাচনের পর পূর্ব-পশ্চিম সব দেশই একযোগে কাজ করতে অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে গভীর চাপ, মধ্যম চাপ, বহু ধরনের চাপ ছিল, তবে সব চাপ উতরে নির্বাচন হয়ে গেছে। এখন কোনো চাপ অনুভব করছি না। তবে আমরা বিশ্বাস করি, সব দেশেরই পর্যবেক্ষণ থাকেন, আমরা সেগুলোর মূল্য দেই। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। কূটনৈতিকভাবে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করি। নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে সব দেশেরই ন্যারেটিভ থাকে। তবে দিন শেষে আমরা সবাই একযোগে কাজ করবো। ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসিতে গুরুত্ব দিতে চাই। আমরা শুধু পশ্চিমা নয়, পূর্বদিক ও আফ্রিকা অঞ্চলে বাজার সম্প্রসারণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আনিসুল হক

তথ্যগত ভুলের কারণে জাতিসংঘের বিবৃতি, আইনমন্ত্রীর দাবি: নতুন মন্ত্রিসভায় তৃতীয়বারের মতো আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর রবিবার সচিবালয়ে আনিসুল হক বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। এ সময় উঠে আসে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের দেয়া বিবৃতির প্রসঙ্গ। আইনমন্ত্রীর মতে, ফলকার টুর্ক যে বিবৃতি দিয়েছেন, সেটি তথ্যগত ভুলের কারণে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গে কথা বলব। তার কারণ আমার মনে হয়, তথ্যগত ভুলের কারণে তিনি এ বিবৃতি দিয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের মধ্যে যারা দেশের বাইরে আছে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতেই বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, হত্যাকারীদের মধ্যে যারা দেশের বাইরে আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনতে আমরা চেষ্টা করছি। সেটার একটি সফলতা আনার জন্য কাজ করবো। নির্বাচনকালীন সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন কোনো বড় ঘটনা বা মধ্যম ঘটনাও ঘটেনি, যেটিকে কেউ মনে করবে অনেক সহিংসতা হয়েছে। আর বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক কারণে কারাগারে যেতে হয়নি। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। সে জন্য তাদের কারাগারে যেতে হয়েছে এবং মামলা চলমান। আইনমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছিল, তখন আওয়ামী লীগের কর্মী ও সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন-অত্যাচার হয়েছিল, সেই মামলাগুলো এবং ২০১৩ সালের অগ্নিসন্ত্রাসের মামলাগুলো ম্যাচিউরড হয়েছে, সেগুলোর বিচারকার্য সম্পন্ন হচ্ছে। বিচারকার্য আদালত করেন, সেখানে সরকারের কোনো হাত নেই।
মন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে দুটি বিভাগই যথেষ্ট কাজ করেছে। তাতে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বহুদিন ধরে মামলা জটের বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়ায় গেল ১০-১৫ বছর আমাদেরকে এ ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে হয়েছে। আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি।

জাহাঙ্গীর কবির নানক

প্রধান রপ্তানি পণ্য হবে পাট, পাটমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি: দেশের প্রধান রপ্তানিকারক পণ্য হিসেবে পাটকে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নতুন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। মন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর রবিবার প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, পাটখাতের সমৃদ্ধি অর্জনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। বস্ত্র ও পাট খাতকে সজিব-সতেজ করতে আস্থার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবো। মন্ত্রী বলেন, রপ্তানি পণ্য হিসেবে শুধুমাত্র গার্মেন্টস পণ্যের ওপর নির্ভরশীল না থেকে বহুমুখী পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে কার্যকরি উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এখানে মাঠের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হবে। কৃষকের সঙ্গে যোগাযোগ হবে। তিনি বলেন, পাট উৎপাদনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ হবে। পাট উৎপাদনে উৎসাহিত করা হবে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসন থেকে জাহাঙ্গীর কবির নানক নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০৮ সালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর আসন (ঢাকা-১৩) থেকে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন নানক। ২০০৯ সালে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে একই আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এই বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ১১ জানুয়ারি মন্ত্রী হিসবে শপথ নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর এই সদস্য।

মোহাম্মদ আলী আরাফাত

অপপ্রচারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চান তথ্য প্রতিমন্ত্রী: কীভাবে অপপ্রচার ও গুজবকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়, সে বিষয়ে একটি কাঠামো দাঁড় করানোর চিন্তা চলছে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। রবিবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যে ডিসইনফরমেশন বা কুতথ্য ছড়ানো হয়, তা মোকাবেলা করাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন নতুন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত। তিনি বলেছেন, আগামীতে দুই ধরনের চ্যালেঞ্জ, একটা হচ্ছে বৈদেশিক যে ষড়যন্ত্রগুলো হচ্ছে- যদিও তারা বাংলাদেশের কিছু আভ্যন্তরীণভাবে কিছু লোকজন আছে, তাদের সাথে যুক্ত হয়ে করে। আমাদের কিন্তু সবাই মিলে কাজ করতে হবে। যে ডিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইনটা হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে- এটাকে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। এটা আমাদের আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ। তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার হয় বা হচ্ছে। অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করেও অপপ্রচার হয়, এটা আমরা সবাই জানি। সমস্যা যেটি হয়, এই অপপ্রচার রোধ করতে গিয়ে আমরা চিন্তা করি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।
তিনি বলেন, যেহেতু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যেকোনো বিষয় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে কাজেই নতুনভাবে আমাদের ভেবে কর্মকৌশল নিতে হবে। কীভাবে অপপ্রচার ও গুজবকে আমরা জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারি, সেটির একটি কাঠামো দাঁড় করাতে পারি। কারণ দিনশেষে সবকিছু ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে যদি অপপ্রচার অবাধ ও স্বাধীনভাবে বিস্তৃতি লাভ করার সুযোগ পায়। এসময় সদ্য সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিদায় নেন এবং নতুন প্রতিমন্ত্রীকে সহায়তার আশ্বাস দেন।

সিমিন হোসেন রিমি

নারী ও শিশু নিয়ে কাজ চলমান থাকবে: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী সিমিন হোসেন রিমি বলেছেন, সভ্যতার দুইটি হাত, একটি পুরুষ অন্যটি নারী। কাউকে পেছনে ফেলে কোনটাই অগ্রসর হতে পারে না। রবিবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে প্রথম কার্যদিবসে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যে কাজগুলো আছে সেগুলো এগিয়ে নিয়ে যাব। আমি নারী ও শিশু নিয়ে অনেক আগে থেকেই কাজ করি। সেজন্য আমার খুবই ভালো লাগার জায়গা এটি। তিনি বলেন, কর্মপরিকল্পনা তো একটা থাকবে। কিন্তু সেটি একশ দিন বা সে রকম কিছু না। কারণ এটি চলমান একটি কাজ। সেভাবেই আমরা কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাব।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১৫ জানুয়ারি ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা

প্রাথমিকের সঙ্গে মাধ্যমিকের সমন্বয় হবে :প্রাথমিকের সঙ্গে মাধ্যমিকের সমন্বয় আনার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বেগম রুমানা আলী টুসী। তিনি বলেন, প্রাথমিকের সঙ্গে মাধ্যমিকের সমন্বয় করে সবাইকে একটা সুন্দর জায়গায় নিতে চেষ্টা করবো। এটাতো আসলে একটা জেনারেশন তৈরির জায়গা। স্মার্ট বাংলাদেশ তৈরি করতে হলে স্মার্ট নাগরিক প্রয়োজন। সেই জায়গা থেকে কাজ শুরু করবো। সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের শুরুর দিনেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটা ইশতেহার দিয়েছেন। সেই ইশতেহার পূরণের লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। কারণ জনগণের কাছে এটা আমাদের অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার পূরণে আমি গুরুত্ব দেব। বিগত সময়ে যে কাজগুলো চলে আসছে সেগুলো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading