পুঁজিবাজারে ছয় মাস পর লেনদেন ছাড়িয়েছে হাজার কোটির ঘর
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৮:০০
৩৫টি কোম্পানি বাদ দিয়ে বাকিগুলোর শেয়ারের সর্বনিম্ন দর বা ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর দ্বিতীয় কর্মদিবস সোমবার (২২ জানুয়ারি) অপক্ষোকৃত কম মূল্যের শেয়ারে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার। ছয় মাসেরও বেশি সময় পর এদিন লেনদেন ছাড়িয়েছে হাজার কোটির ঘর। প্রথম দিন গত রবিবার উদ্বেগ আতঙ্কের মধ্যে যেসব কোম্পানি ১০ শতাংশ বা কাছাকাছি দর হারিয়ে ফেলেছিল, সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি হারিয়ে ফেলা দর ফিরে পেয়েছে। তবে টানা দ্বিতীয় দিন সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে দরপতন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি তার সিদ্ধান্ত জানানোর পর দরপতনের সীমা ছাড়া লেনদেন শুরু হয় গত রবিবার। ছয় মিনিটের মধ্যেই সূচক পড়ে যায় ২১৬ পয়েন্ট। তবে এই ধাক্কা সামলে নিয়ে পরের সোয়া চার ঘণ্টায় সেখান থেকে পুনরুদ্ধার হয় ১২০ পয়েন্ট। সোমবারও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে সূচক পড়ে যায় ৫১ পয়েন্ট। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। ১০টা ১৭ থেকে বাকি সময় ইতিবাচক প্রবণতা দিয়েই শেষ হয় লেনদেন। শেষ পর্যন্ত সার্বিক সূচক ডিএসইএক্সে ১৪ পয়েন্ট যোগ হয়ে অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৫৪ পয়েন্ট। শেষ পর্যন্ত ২০৭টি কোম্পানির দর বৃদ্ধি, ১৪৫টির দরপতন এবং ৪০টির দর আগের দিনের সমান থেকে শেষ হয় লেনদেন। সারা দিনে হাতবদল হয়েছে এক হাজার ৪২ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই এক হাজার ৪৪ কোটি টাকা ৫৬ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল।
তবে এখনও বাজার পর্যবেক্ষণে আছেন বিনিয়োগারীরা। প্রথম দুদিনে অনেক ক্রেতা ২০% দর হারিয়েছেন। তারা বলেন, এখনও ফোর্সড সেলের চাপ রয়ে গেছে। সূচকের পতন হওয়ার পরপরই আবার উঠে পড়া মানেই হচ্ছে কেউ টেনে তুলছে। তারা যদি বাজার থেকে হঠাৎ করে বেরিয়ে যায় তখন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কী অবস্থা হবে? তাই আরো কয়েকদিন দেখে নতুন বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেব। সূচকে সবচেয়ে বেশি ১.০১ পয়েন্ট যোগ করেছে স্কয়ার ফার্মা। এর বাইরে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন, ইউনিলিভার, ট্রাস্ট ব্যাংক, বার্জার পেইন্টস, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট, মেরিকো, নাভানা ফার্মা ও বসুন্ধরা পেপারও সূচকে কিছু পয়েন্ট যোগ করেছে। বিপরীতে ৭.৪৯ শতাংশ দর হারানো ওয়ালটন হাইটেক কোম্পানি একাই সূচক কমিয়েছে ৭.৪৪ পয়েন্ট। তিতাস গ্যাসের শেয়ারদর ৯.৭৬ শতাংশ কমায় সূচক পড়েছে আরো ১.১৯ পয়েন্ট। তবে অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৯৩ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২৬৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৮টির এবং ২৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।
ইউডি/এজেএস

