চীনকে চাপে ফেলতেই কি ইন্ডিয়ার কাছে সামরিক ড্রোন বিক্রি আমেরিকার?
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৭:৩০
বেশ কয়েক বছর ধরে আলোচনার পরে অবশেষে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইন্ডিয়ার কাছে ৩১টি এমকিউ- নাইন বি ড্রোন বিক্রির চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে। ওই ড্রোন এশিয়ায় ইন্ডিয়ার প্রতিবেশী আর কোনও দেশের কাছে আপাতত নেই। চীনকে চাপে ফেলতেই আমেরিকা ইন্ডিয়ার কাছে এই সামরিক ড্রোন বিক্রিতে অনুমোদন দিল বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন। এখন গোয়েন্দা নজরদারী চালানোর জন্য এমকিউ-নাইন বি ড্রোন ভাড়া করে ব্যবহার করছে ইন্ডিয়া। পেন্টাগন বলছে, এই চুক্তিটি অনুযায়ী ড্রোন ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জামও ইন্ডিয়ার কাছে বিক্রি করা হবে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর, প্রায় চার শো কোটি ডলার মূল্যের চুক্তি এটি। ইন্ডিয়া ২০১৮ সালে প্রথম সামরিক ব্যবহারের জন্য এ ধরনের ড্রোন আনার কথা বলেছিল। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমতি পাওয়ার পরেই যে চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গেল, তা নয়। কিন্তু তাদের অনুমোদন চুক্তি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে একটা বড় বাধা দূর হল বলে মনে করা হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে যে গত বছর ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন সরকারি সফরে আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন, তখন ইন্ডিয়ার তরফ থেকে বাইডেন প্রশাসনকে এই চুক্তিটি নিয়ে দ্রুত এগোতে অনুরোধ করেছিল। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক রাহুল বেদী বিবিসি হিন্দিকে বলেছেন, ২০১৬ সালে ইন্ডিয়া মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিমের (এমটিসিআর) আনুষ্ঠানিক সদস্য হওয়ার পর থেকেই এই ড্রোন কেনার চিন্তাভাবনা শুরু হয়। ইন্ডিয়া যদি এমটিসিআর-এ সই না করত, তাহলে এই ড্রোনগুলি তারা পেত না। এই ড্রোন পেলে ইন্ডিয়ার সামরিক শক্তি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার প্রবীর সান্যাল বলছেন, এটা পৃথিবীর সেরা ড্রোন। ভবিষ্যতে পাকিস্তান বা চীনের সঙ্গে কোনও যুদ্ধ বাধলে আমাদের সামরিক শক্তি কয়েক গুণ বেড়ে যাবে এই ড্রোন পেলে। চীনের কাছে যে ড্রোন আছে, মার্কিন ড্রোনের সঙ্গে তার কোনও তুলনাই চলে না। মার্কিন প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে। তাই যুদ্ধের পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়ার আঘাত করার শক্তি অনেকটাই বেড়ে যাবে। তবে এই ড্রোনগুলিকে ঠিক কী কী কাজে ব্যবহার করা হবে, সেটা তো সামরিক আর রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেবেন।
এ ধরনের সশস্ত্র ড্রোন যুদ্ধবিমানের মতোই লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা নিক্ষেপ করতে পারে। এই ড্রোনগুলি যেমন নজরদারি এবং উদ্ধার অভিযানে যেতে সক্ষম আবার তাদের সশস্ত্র সংস্করণটিতে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে। দূরপাল্লার গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি ছাড়াও এসব বিমান মানবিক সহায়তা, দুর্যোগের সময়ে ত্রাণ পৌঁছন, নিহত – আহতদের খুঁজে বের করে উদ্ধার, আকাশপথে আগাম সতর্কতা দেওয়ার মতো কাজও করবে। এছাড়াও, এই ড্রোনগুলি মাদক পাচার এবং জলদস্যুতার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলাতেও মোতায়েন করা যেতে পারে। জানা যাচ্ছে যে মোট ৩১টি ড্রোনের মধ্যে ১৫টি ড্রোন ভারতীয় নৌবাহিনীকে এবং আটটি ড্রোন সেনা ও বিমানবাহিনীকে দেওয়া হবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের ওপরেও নজর রাখতে এসব ড্রোন ব্যবহার করা হবে।
ইউডি/এজেএস

