সচিব সভায় প্রধানমন্ত্রী : আওয়ামী লীগের দেওয়া ইশতেহারকে ভিত্তি ধরে কর্মপরিকল্পনা সাজানোর নির্দেশ
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৮:৫০
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দেওয়া ইশতেহারকে ভিত্তি ধরে আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা সাজাতে সচিব সভায় নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের পর সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) নিজ কার্যালয়ে সচিবদের নিয়ে বসেন সরকার প্রধান। সেখানে মোট ১৬ জন সচিব বক্তব্য রাখেন। তাদের বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে সভার বিস্তারিত তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন।
তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সচিব এবং জনপ্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যম বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা সমুন্নত হয়েছে। যে কথাটি সচিবদের জন্য সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে বলেছেন সেটা হচ্ছে, দায়িত্ব পালনে আত্মপ্রত্যয়, আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান বজায় রেখে নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাজ করতে হবে।
পরিকল্পনা সাজানোর ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি অঙ্গীকারকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ এসেছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে একটা ধারাবাহিকতা আছে। তিনি ২০৪১ সাল নাগাদ ‘স্মার্ট’ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ করতে চাচ্ছেন, তার একটা ধারাবাহিকতা রয়েছে এই ইশতেহারে। যেহেতু জনগণ রায় দিয়েছে, তাই এই নির্বাচনি ইশতেহারটা হবে আগামী পাঁচ বছরের সরকার পরিচালনার মূলনীতি। এই দলিল বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
সচিব বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ১১টি অগ্রাধিকার কাজ ও ৩০০ এর অধিক অঙ্গীকার রয়েছে। এখন সেটাকে ম্যাপিং করা হবে। কোন মন্ত্রণালয়ের কী কাজ, সেটাকে চিহ্নিত করা হবে এবং সেই অনুযায়ী কাজ ভাগ করা হবে।
কাজগুলো ঠিকমতো তদারকি করতে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিসহ প্রশাসনের যে কয়টি পন্থা আছে তার সবগুলোর মধ্যে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দিকনির্দেশনার পাশাপাশি গত সভার নির্দেশনাগুলো নিয়েও পর্যালোচনা হয় এই সভায়।
আর কী নিয়ে কথা হয়েছে- সেই প্রশ্নে সচিব বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আসন্ন রোজার প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি।কৃষি উৎপাদন ও সার ব্যবস্থাপনা, কর্মমুখি শিক্ষা, নতুন পাঠক্রম ও কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ও জ্বালানি নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ, উন্নয়ন প্রকল্প ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও আর্থিক খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ইউডি/এজেএস

