শার্শায় অবৈধ ভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন, হুমকিতে পরিবেশ

শার্শায় অবৈধ ভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন, হুমকিতে পরিবেশ

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৫:২০

যশোরের শার্শায় অবাধে একের পর এক অবৈধ ইট ভাটা নির্মাণ আর বালু উত্তোলনে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশের ভারসাম্য। অবৈধ মাটি ও ইটবাহী যানবাহনের চাপায় প্রতিনিয়ত জীবন ঝরছে মানুষের। এতে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। এদিকে বছরের পর বছর এ অবস্থা শার্শার সব কটি ইউনিয়নে বিরাজ করলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। অভিযোগ রয়েছেন সংশিষ্টদের ঘুষ বানিজ্যে এর প্রতিকার হচ্ছেনা। তবে উপজেলা প্রশাসন এসব কর্মকান্ডের বিষয়টি স্বিকার করে বলছেন দ্রুত এসব অনিয়ম রোধে আরো শক্তভাবে কাজ করবেন তিনি।

উপজেলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ ডিসেম্বর নয়ন কুমার রাজবংশী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদান করলেও এখন পর্যন্ত কোন অবৈধ স্থাপনা, অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তিনি কোন অভিযান পরিচালনা করেননি। অভিযোগ আছে প্রভাবশালীরা উপজেলা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দেদারছে বালু, মাটি উত্তোলন, ইটভাটা, করাতকল, ক্লিনিক পরিচালনা করে আসছে। শার্শা উপজেলা ব্যাপী অবাধে চলছে অবৈধ ১৯টি ইটভাটা। অনুসন্ধানে জানা গেছে ১৯টি ইটভাটার না আছে পরিবেশ ছাড়পত্র, না আছে জেলা প্রশাসনের অনুমোদন। একাধিক ভাটা আছে সরকারি স্কুল ও আবাসিক এলাকার মধ্যে। গত বছর ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট দেশের সব অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধে জেলা প্রশাসকদের ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে যখন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চললেও শার্শা উপজেলাতে চিত্র ভিন্ন। এখানে প্রশাসন অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। উপজেলা ব্যাপি চলছে মাটি বালু উত্তোলনের মহাউৎসব কোন অভিযান না থাকার কারনে কৃষি জমি থেকে প্রথমে গভীর করে মাটি উত্তোলন করে ইটভাটার চাহিদা মিটাচ্ছে। হাওর বাওর ও গভীর পুকুর থেকে দেদারছে চলছে বালু উত্তোলন।

বেনাপোল পৌরসভার বাহাদুরপুর রোড়ের বাসিন্দা ফারুক আহম্মেদ জানান,দীর্ঘ বছর যাবৎ বাহাদুরপুর রোড়ে আবাসিক এলাকার প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত আলামিন স-মিল চালানোর কারনে স-মিলের বিকট শব্দ ও কাঠের গুড়ার কারনে অতিষ্ট এলাকাবাসী। একাধিকবার পৌরমেয়র সহ উপজেলা প্রশাসনের নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাননি।

এছাড়াও শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়ন, কায়বা ইউনিয়ন, পুটখালী ইউনিয়ন, বাঁগআচড়া ইউনিয়ন, লক্ষণপুর ইউনিয়ন, শার্শা ইউনিয়ন, উলশী ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন স্থানে অবাধে মাটি এবং বালু উত্তোলন করার একাধিক অভিযোগ থাকলেও নেই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নয়ন কুমার রাজবংশীকে বলেন, আমিও এমন কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি এবং কয়েকটি ইটভাটার সাথে কথা বলেছি তারা জানিয়েছেন বর্তমানে লাইসেন্স বন্ধ থাকায় তারা লাইসেন্স করতে পারছেন না। আর মাটি এবং বালুর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সেটা সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে জানাবেন। এগুলো দেখার জন্য তিনি আছেন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading