আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরি : নামিবিয়ান ব্যাটসম্যানের বিশ্বরেকর্ড
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৯:২৫
ইনিংসের ১০ ওভার শেষে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে গেলেন ইয়ান নিকোল লফটি-ইটন। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে গুলশান ঝাকে ছক্কায় উড়িয়ে ডানা মেললেন নামাবিয়ার এই ব্যাটসম্যান। এরপর আর থামাথামির নাম নেই। নেপালের বোলারদের তুলাধুনা করে খেললেন বিস্ফোরক এক ইনিংস। তাণ্ডব চালিয়ে গড়লেন ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড। নেপালের কীর্তিপুরে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মঙ্গলবার এই কীর্তি গড়েন লফটি-ইটন। ৮ ছক্কা ও ১১ চারে ৩৬ বলে ১০১ রানের খুনে ইনিংস খেলেন তিনি। এই ইনিংসের পথে ৩৩ বলে সেঞ্চুরিতে পা রেখে নেপালের কুশাল মাল্লার রেকর্ড ভাঙেন লফটি-ইটন। নামিবিয়ার ব্যাটসম্যানের ইনিংসটি মাঠে দাঁড়িয়েই দেখেন মাল্লা।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে এশিয়ান গেমসে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৩৪ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন মাল্লা। তার গড়া রেকর্ডটি ছয় মাসও টিকতে দিলেন না লফটি-ইটন। ৪০ বলের কমে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি আছে আরও ছয় জনের। স্বীকৃতি টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলের। ২০১৩ সালের আইপিএলে ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোরের হয়ে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে ওই ম্যাচে তার খেলা অপরাজিত ১৭৫ রানের ইনিংসটি স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড। নেপালের বিপক্ষে এদিন একাদশ ওভারে ক্রিজে যাওয়া লফটি-ইটন ব্যাট আগ্রসী ব্যাটিংয়ে এলোমেলো করে দেন নেপালের বোলারদের। প্রায় প্রতি ওভারেই বাউন্ডারি তুলে নিতে থাকেন তিনি। স্রেফ ১৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
পঞ্চাশ করার পর আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন তিনি। তাকে বল করার জায়গাই যেন খুঁজে পাচ্ছিল না নেপালের বোলাররা। ১৯তম ওভারে দিপেন্দ্র সিংকে ছক্কার পর চার মেরে ৩৩ বলে তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পান লফটি-ইটন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি তো বটেই, এই সংস্করণেই প্রথমবার সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন ২২ বছর বয়সী ক্রিকেটার। নামিবিয়ার তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে তিন অঙ্ক ছুঁলেন তিনি। ইনিংসের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে বিদায় নেন লফটি-ইটন। সেঞ্চুরি রাঙানো ইনিংসটি খেলার পথে বাউন্ডারি থেকেই ৯২ রান তোলেন তিনি। নামিবিয়ার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক ইনিংসে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাউন্ডারি থেকে এত রান করতে পারেননি আর কেউ। লফটি-ইটনের ইনিংসের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেটে ২০৬ রান করে নামিবিয়া। শেষ ৫৬ বলে ১৪০ রান তোলে তারা। পরে নেপালকে ১৮৬ রানে গুটিয়ে ২০ রানের জয় তুলে নেয় নামিবিয়া। দ্রুততম সেঞ্চুরি রেকর্ডটি এতদিন যার ছিল, সেই মাল্লা এই ম্যাচে করে ২১ বলে ৩২ রান।
ইউডি/এজেএস

