বিশ্বকাপ মিশন: টাইগারদের প্রস্তুতি আসলে কেমন হয়েছে?

বিশ্বকাপ মিশন: টাইগারদের প্রস্তুতি আসলে কেমন হয়েছে?

উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১২ মে, ২০২৪, আপডেট ১৫:৩০

আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে ২০ দলের টি-টোয়েন্টির বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক সপ্তাহের। এরই মধ্যে স্কোয়াড ঘোষণা শেষ বেশিরভাগ দলের। বিশ্বকাপের বিমানে চড়ার আগে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেমন হয়েছে আসলে? মেগা আসরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রস্তুতি আর কেমন হবে এমন প্রশ্ন ছিল সমর্থক থেকে শুরু করে সমালোচকদের। তবে শান্ত বাহিনী শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও সিরিজজুড়ে ব্যাটিংয়ে অস্বস্তিটা থেকেই গেছে।
একটু পেছনে ফেরা যাক, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। অবশ্য এই ম্যাচটার ক্রেডিট বোলারদেরই দেওয়া যায়। টস জিতে সফরকারীদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে ১২৪ রানের বেশি পুঁজি গড়তে দেয়নি স্বাগতিকরা। তাসকিন ও সাইফউদ্দিনদের দাপুটে বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়ে বড় পরীক্ষায় পড়তে হয়নি টিম টাইগার্সকে। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতেও শান্তর আমন্ত্রণে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বড় পুঁজি গড়তে পারেনি সফরকারীরা। ১৩৯ রানের মামুলি টার্গেট তাড়ায় ৬ উইকেটে জিতলেও স্বাগতিক ব্যাটারদের খরচ করতে হয়েছে ১৮ দশমিক ৩ ওভার। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর অনেকটা ঘাম জড়িয়েই জিততে হয়েছে। প্রথম দুই ম্যাচে টস জিতে শুরুতে বোলিং বেছে নেওয়ায় সমালোচনা হচ্ছিল। তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য টস ভাগ্য সহায় হয়নি টাইগার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর। চট্টগ্রামে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ১৬৫ রানের পুঁজি গড়েছিল বাংলাদেশ। জবাবে আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ১৫৬ রানের বেশি করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। বোলারদের কল্যাণে ৯ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।

টানা তিন জয়ে সিরিজ জিতলেও লিটন, শান্তদের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে ছিল। ব্যাটিংয়ের অস্বস্তিটা আরও বেড়েছে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে। মিরপুরে তানজিদ তামিম ও সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটির রান একশ ছাড়ায়। তবে ১০১ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর যেন ধস নামে। ১০১ থেকে ১৪৩। মাত্র ৪২ রানের ব্যবধানে ১০টি উইকেট হারায় স্বাগতিক ব্যাটাররা। বিশ্বকাপের আগে এমন ব্যাটিং নিশ্চিতভাবেই অশনি সংকেত। সর্বশেষ আজ সিরিজের শেষ ম্যাচেও ১০ ব্যাটার নিয়ে খেলতে নেমে ১৫৭ রানের বেশি পুঁজি গড়তে পারেননি শান্ত-সাকিবরা। পাঁচ ইনিংসে ৪০ গড়ে ১৬০ রান নিয়ে সিরিজের টপ স্কোরার তানজিদ হাসান তামিম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তাওহিদ হৃদয়। তার ব্যাট থেকে এসেছে ১৪০ রান। এ ছাড়া বাকিদের অবস্থা যাচ্ছেতাই।

একটা বেশ মজার তথ্য হচ্ছে, সদ্য সমাপ্ত সিরিজে বেস্ট স্ট্রাইকরেট জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির (১৬৩.৬৩)। এ তালিকার পরের দুটি জায়গাও সফরকারীদের দখলে। বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে ঘরের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ। এমন চেনা সিলেবাসেও ‘ঢাহা ফেইল’ বাংলাদেশের টপঅর্ডার। অবশ্য আসন্ন বিশ্বকাপের আগে পরীক্ষা নিরীক্ষার আর সময় নেই। ব্যাকফুটে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়েই বিশ্বকাপে এখন ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে হবে।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading