কনডেম সেল নিয়ে রায়: রাষ্ট্রপক্ষের আপিল
উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ১৪ মে, ২০২৪, আপডেট ১৮:৫৫
মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিকে কনডেম সেলে না রাখা সম্পর্কিত হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। মঙ্গলবার (১৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল আবেদন জমা দেওয়া হয় বলে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন জানান। আপিল বিভাগের চেম্বার জজের আদালতে আগামীকাল বুধবার বিষয়টির শুনানি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিকে নির্জন কারাবাসে (কনডেম সেল) রাখা যাবে না বলে রায় দিয়েছে হাই কোর্ট।
একটি রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাসহ এ রায় দেয়। ওইদিন রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন আপিলের ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কনডেম সেলে থাকা তিন আসামিকে নিয়ে ২০২১ সালের ১৮ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদন যুক্ত করে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর এ রিট আবেদন করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। সে সময় প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছিল হাই কোর্ট। মৃত্যুদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত হওয়ার আগে আসামিদের কনডেম সেলে বন্দি রাখা কেন বেআইনি ঘোষণা হবে না এবং কেন জেলকোডের ৯৮০ বিধি অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল সেখানে।
একইসঙ্গে কনডেম সেলে থাকা বন্দিদের বিষয়ে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই রুলের ওপর শুনানি শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ফৌজদারি কার্বিধিতে কোনো আসামিকে নির্জন কারাবাসে রাখা যাবে, তবে তা ৩০ দিনের বেশি নয়। এর মধ্যে টানা ১৪ দিন এবং মাসে ৭ দিনের বেশি নয়। কাজেই মৃত্যুদণ্ডের রায়ে পর কনডেম সেলে রাখা হলে তা দুইবার সাজার সমতুল্য। রায়ের নির্দেশনায় আদালত বলেছে, সরকার কারাবিধি সংস্কারের যে কাজ করছে, সেখানে যেন এই রায় ও পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন থাকে। যদি কেউ তথ্য অধিকার আইনে কারাবন্দি সম্পর্কে কোনো কিছু জানতে চায়, তাহলে সে তথ্য দিতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয় রায়ে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের জামিন আবেদন নিয়েও আদালত নির্দেশনা দিয়েছে।
ইউডি/এজেএস

