আইবিডি রোগ: আক্রান্তদের বেশির ভাগই গ্রামের
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৯ মে, ২০২৪, আপডেট ১৯:২৫
ইনফ্লেমেটরি বাওয়েল ডিজিজ (আইবিডি) বলতে বোঝায় মানুষের পরিপাকতন্ত্রে মারাত্মক প্রদাহ। বিশ্বে প্রায় ১ কোটি আইবিডি রোগী রয়েছে। বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্তদের বেশির ভাগই গ্রামে বসবাসকারী। দেশে সবচেয়ে বেশি আইবিডি রোগী ঢাকা বিভাগে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও রাজবাড়ী এই চারটি জেলায় আইবিডি রোগী বেশি পাওয়া গেছে।
রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর ১৯ মে ‘বিশ্ব আইবিডি দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রবিবার (১৯ মে) শোভাযাত্রা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘আইবিডির কোনো সীমা নাই’।
গ্যাস্ট্রোএন্ট্রারোলজি বিভাগের আইবিডি ক্লিনিকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিডি ক্লিনিকে ২০১৭ সাল থেকে এ ধরনের রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ব্লকে ১৪ তলায় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের আইডিবি ক্লিনিকে এসব রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আইবিডি ক্লিনিকে সর্বাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা বায়োলজিক্স ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে দেশেই এসব রোগীর উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব।
সেমিনারে জানানো হয়, আইবিডি ক্লিনিকে এ পর্যন্ত ৫৭৬ রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এ রোগ দুই ধরনের—আলসারেটিভ কোলাইটিস: এটি প্রধানত বৃহদন্ত্রে প্রদাহ বা আলসার সৃষ্টি করে। দ্বিতীয় প্রকার হলো ক্রোনস ডিজিজ: এই রোগে পরিপাকতন্ত্রের যে কোনো অংশ (মুখ থেকে পায়ু) আক্রান্ত হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুধু ক্ষুদ্রান্ত্র, বৃহদন্ত্র বা দুটিই আক্রান্ত হতে পারে।
আইবিডি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মধ্যে ক্রোনস ডিজিজে আক্রান্ত ২৪১ জন এবং আলসারেটিভ কোলাইটিসে আক্রান্ত ৩৩৫ জন। ক্রোনস ডিজিজের মধ্যে পুরুষ ১৬৫ জন, নারী ৭৬ জন। তাঁদের মধ্যে শহরে বসবাসকারী রোগীর অনুপাত ৪৩ শতাংশ এবং গ্রামে বসবাসকারী রোগীর অনুপাত ৫৭ শতাংশ। আর আলসারেটিভ কোলাইটিস রোগীদের মধ্যে পুরুষ ২১৬ জন এবং নারী ১১৯ জন। শহরে বসবাসকারী রোগীর সংখ্যা ৪৫ শতাংশ এবং গ্রামে বসবাসকারী রোগীর সংখ্যা ৫৫ শতাংশ।
দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে পাওয়া গেছে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ ও রাজবাড়ী এই ৪টি জেলায় আইবিডি রোগী বেশি পাওয়া গেছে।
সেমিনারে জানানো হয়, আইবিডি রোগটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়। এ কারণে কারও মধ্যে রোগটির যেকোনো ধরন শনাক্ত হলেই তা নিয়ন্ত্রণের টার্গেট নেন চিকিৎসকেরা। এ জন্য রোগীদের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
ইউডি/এজেএস

