পানিবন্দি ৫ লাখের বেশি মানুষ, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি

পানিবন্দি ৫ লাখের বেশি মানুষ, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ৩১ মে, ২০২৪, আপডেট ২০:০০

সিলেটে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনও সাত উপজেলায় ৫ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান শুক্রবার (৩১ মে) সাংবাদিকদের বলেন, বন্যা পরিস্থিতি আপাতত কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আমরা সার্বিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। বন্যা কবলিতদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড-পাউবো সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, শুক্রবার সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে জকিগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার দুই মিটার ও কানাইঘাটে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ১ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল না নামলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবে না জানিয়ে পাউবোর প্রকৌশলী বলেন, কিছুদিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে। গত ২৪ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৯৩ মিলিমিটার। আর এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে ৬৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।

এদিকে, বন্যার্তদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য ১৩১টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খয়ের উদ্দিন মোল্লা বলেন, বন্যায় কবলিত উপজেলাগুলোর কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা পেতে একটু সময় লাগবে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে জানানো যাবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, অতিবৃষ্টি ও ঢলের কারণে জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জে মোট ৫ হাজার ৬০১ হেক্টর আউশ ধান, আউশ বীজতলা ও সবজি খেত কম বেশি প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ধানের জমি রয়েছে ১ হাজার ৬৮২ হেক্টর। এ ছাড়া ৯২৭ হেক্টর আউশ বীজতলা ও ২ হাজার ৯৯২ হেক্টর সবজি খেত রয়েছে। সিলেট আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মোহাম্মদ সজিব হোসেন বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৬১ মিলিমিটার। বন্যায় সিলেট জেলার রাস্তাঘাটের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে জানতে চাইলে এলজিইডি সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী কে এম ফারুক হোসাইন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে উপজেলা প্রকৌশলীদের বলা হয়েছে। তবে বন্যার পানি সড়ক থেকে পুরোপুরি নামলে এটা পরিমাপ করা যাবে। পুরো তথ্য পেতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

ইউডি/এজেএস

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading