এক বছরে মানহীন খাদ্য বেড়েছে ১১৮টি : জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০৩ জুন, ২০২৪, আপডেট ১৭:২০
২০২২ সালের চেয়ে ২০২৩ সালে দেশে মানহীন খাবারের হার অনেকটাই বেড়েছে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে মানহীন খাদ্য বেড়েছে ১১৮টি। ২০২২ সালের ল্যাব পরীক্ষার ফলে যেখানে ৮১টি খাদ্যপণ্যের নমুনায় ভেজাল মেলে, সেখানে ২০২৩ সালের পরীক্ষায় সেটি বেড়ে হয়েছে ১৯৯টি। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে সারা দেশ থেকে ১ হাজার ৩৯৮টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে থেকে ১ হাজার ৮২টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ ভেজাল রয়েছে ঘি’তে। অবশ্য গত বছর সবচেয়ে বেশি ৭৫ শতাংশ ভেজাল মিলেছিল সব ধরনের মিষ্টিতে। যেমন-চমচম, কালোজাম এবং রসগোল্লায় মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর নানা উপকরণ মিলেছিল। এ বছর মিষ্টিতে ভেজাল মিলেছে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। দেশের মানুষের প্রধান খাদ্যপণ্য চালেও ভেজাল মিলেছে ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভেজালের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে ঘি ও মিষ্টিজাতীয় পণ্য। যেমন চমচম, রসগোল্লা, কালোজাম, দই, ঘি, গুড়, মধু। আবার তিন বেলা যেসব খাদ্য খায় মানুষ তার অনেক উপকরণেও ভেজাল রয়েছে। যেমন গম, আটা, ডাল, আটা, লবণ, সয়াবিন তেল, হলুদ, মরিচ। এমনকি শিশুখাদ্যও রেহাই পাচ্ছে না ভেজালকারীদের হাত থেকে। শিশুখাদ্য গুঁড়া দুধেও মেশানো হয় নানারকম বিষাক্ত কেমিক্যাল।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ০৩ জুন ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা
ভেজালের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মসলাজাতীয় পণ্য গুঁড়া মরিচ। এতে ভেজালের হার ৪৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ভেজালের দিক দিয়ে এরপরই আছে গুড়। এতে ভেজাল ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এরপর রয়েছে গুঁড়া হলুদ ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ, নারিকেল তেল/অলিভ অয়েল ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ, মিষ্টি, চমচম, কালোজাম, রসগোল্লায় ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ, বেসনে ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ, ধনিয়া গুঁড়ায় ১৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, ব্রেড/পাউরুটিতে ১৫ দশমিক ৯২ শতাংশ, সয়াবিন তেলে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ, লবণে ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ডাল/ছোলায় ৮ দশমিক ১১ শতাংশ, চিনিতে ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ, চালে ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ এবং সরিষার তেলে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ ভেজাল রয়েছে।
ইউডি/এজেএস

