টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৪: ব্যাটিংয়ের ’ হাঁটি হাঁটি পা পা’ আর কতদিন!
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৪ জুন, ২০২৪, আপডেট ১৩:১৫
বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং দৈন্যদশা যেন ফুরাচ্ছে না, দিনকে দিন আরও নিচে নামছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসর নিয়ে আসাদ এফ রহমান’র বিশ্লেষণ
সুপার এইট-ই যেন স্বপ্নপূরণ!: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের বাধা পেড়িয়ে সুপার এইটে উঠে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যেন নিজেদের স্বপ্নপূরণ করে ফেলেছে। ২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবগুলো আসরেই খেলেছে বাংলাদেশ। কোনও আসরেই দুটির বেশি জয় পায়নি। এবার তিন জয়ে সুপার এইট খেলছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ২০০৭ বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে টাইগারদের তৎকালীন অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠার প্রত্যাশার কথা শুনিয়ে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশ দল প্রথম আসরে খেলতে নেমেই সুপার এইটে উঠে। ওই পর্বে কোনও ম্যাচ জিততে না পারলেও এতদিন পর্যন্ত সেটাই ছিল বাংলাদেশের সেরা বিশ্বকাপ। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কোচিং স্টাফরাও প্রথম রাউন্ড উতরে যাওয়াকে সেরা অর্জন হিসেবে দেখেন। দলের প্রধান কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহে সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই বলে বসেছিলেন টাইগারদের লক্ষ্যপূরণ হয়েছে আগেই। এখন যা কিছু মিলবে, সবই ‘বোনাস’। যদিও পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচ জয়ের সংখ্যা বিচারে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেই সবচেয়ে ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ সুপার এইটে বাংলাদেশ যদি তিনটি ম্যাচেই হারে, তবুও কোনো সমস্যা নেই। ইতোমধ্যে টাইগাররা সুপার এইটের প্রথম দুই ম্যাচ যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্ডিয়ার বিপক্ষে কোনো ধরণের লড়াই করতে পারে নি। অজিদের বিপক্ষে ২৮ রানে ও ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ৫০ রানের বড় ব্যবধানে হার এই ফরম্যাটে টাইগারদের অবস্থান পরিস্কার করে। সুপার এইটে টাইগাররা নিজেদের আগামীকাল সবশেষ ম্যাচটি খেলবে এই আসরে চমক জাগানো আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
আফগানিস্তানের ব্যাটারদের তথা টপঅর্ডারদের এই আসরে ব্যাটিং সবার প্রশংসা পাচ্ছে। বিপরীতে টাইগারদের ব্যাটিং দৈন্যদশা যেন ফুরাচ্ছে না, দিনকে দিন আরও অধপতন হচ্ছে। কোনো কিছুতেই যেন কাজ হচ্ছে না। প্রতিবার প্রত্যাশার বেলুন উড়িয়ে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলতে আসে। কিন্তু প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মধ্যে থাকে বিস্তর ফারাক। এবার অবশ্য প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন ছিল। বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগেই দলের পারফরম্যান্স হয়ে পড়ে নিষ্প্রভ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নিজেই ভক্তদের প্রত্যাশা করতে বারণ করেছিলেন। এই দল নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশাও তেমন ছিল না। শান্ত কেন প্রত্যাশা করতে মানা করেছিলেন, সেটিও বোঝা গিয়েছিল আমেরিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের পর। তবে বিশ্বকাপ শুরু হতেই বদলে গেছে সবকিছু। ব্যাটিং বিভাগে ব্যর্থ হলেও বোলিং-ফিল্ডিংয়ে দারুণ ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে। যা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেরা পারফরম্যান্স। গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক কিছুই বদলে গেছে। কিন্তু বদলায়নি ক্রিকেটারদের মানসিকতার। ১৭ বছর পরেও এসে ক্রিকেটারদের যাত্রাটা লক্ষ্যহীন।
প্রশ্ন উঠেছে, ২০০৭ সালে প্রথম বিশ্বকাপের পরও নবম বিশ্বকাপে এসেও বাংলাদেশের স্বপ্ন, প্রত্যাশা এবং লক্ষ্য কী করে একই থাকে? তাহলে কি বাংলাদেশের ক্রিকেটে কোনও পরিবর্তন হয়নি? বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মানসিকতায় কি কোনও বদল আসেনি? যদি বদল এসেই থাকে, তাহলে দলের প্রধান কোচ সুপার এইটের ম্যাচকে কীভাবে ‘বোনাস’ হিসেবে বিবেচনা করেন? আর যদি বদল না এসে থাকে, তাহলে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করে কোচিং স্টাফের বিশাল বহর রাখা কেন? অস্ট্রেলিয়া ও ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ছন্নছাড়া পারফরম্যান্সের পর আরও একবার বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ঘিরে এই প্রশ্ন সামনে এলো।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
সামর্থ্য আছে, তবে সমস্যা কোথায়? : এই আসরে বাংলাদেশের দলীয় সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিলো গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। কিংসটাউনে টাইগাররা ৫ উইকেটে ১৫৯ রান তোলে। কিন্তু বাকি ম্যাচ গুলোর দিকে তাকালে ব্যাটারদের দৈন্যদশা ফুটে ওঠে চরমভাবে। প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১২৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে। দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১১৩ রানে বেধে রাখলেও ব্যাটারদের লক্ষ্যহীন ব্যাটিংয়ের কারনে ১০৯ রানেই থামতে হয় শান্তদের। হাতের কাছে পেয়েও জয় বঞ্চিত হয় সাকিবরা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সহজ প্রতিপক্ষ নেপালের বিপক্ষেও ব্যর্থ লিটনরা। ১০৬ রানে গুটিয়ে যায় তারা। যদিও বোলারদের দাপটে ম্যাচে জয় পায় বাংলাদেশ। সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটেও টাইগারদের পুঁজি ছিলো মাত্র ১৪০ রান! একই মাঠে ইন্ডিয়া প্রথমে ব্যাট করে ১৯৬ রান করে রোহিত শর্মার দল। ওই রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১৪৬ এর বেশি করতে পারেনি। কোনো ব্যাটার পাননি হাফ সেঞ্চুরির দেখাও। বাংলাদেশের খেলার ধরন দেখেও মনে হয়নি, জিততে পারবে তারা। এমনকি কাউকে জেতার জন্য মাঠে লড়তেও দেখা যায়নি। অথচ বৈশ্বিক এই আসরে প্রতিবারই অংশগ্রহণ করছে দলটি। দলের দুই সিনিয়র সদস্য সাকিব আল হাসান সবগুলো আসরেই অংশগ্রহণ করেছেন আর অপর সদস্য মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ এক আসর বাদে সবগুলোতেই অংশগ্রহণ করেছেন। ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ম্যাচশেষে নিজেদের কিছু করে দেখানোর চাওয়ার ঘাটতির কথা বলেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি বলেন, আমার মনে হয় হাতে অনেক ব্যাটিং বিকল্প ছিল। কিন্তু আমরা যেটুকু দরকার, তেমন ইন্টেন্ট দেখাতে পারিনি।
ব্যাটাররা কেন ব্যর্থ হচ্ছেন, এমন প্রশ্নে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক শান্ত। গ্রুপ পর্বে ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও বোলারদের কল্যাণে ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু অ্যান্টিগাতে যেন পাল্লা দিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটার ও বোলাররা। ফিল্ডিংয়েও ছিল অগোছালো। ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না কেন? অধিনায়ক শান্তর উত্তর, কেন পারছি না, সেটা বলা মুশকিল। আমার কাছে মনে হয়, দলের সবার বড় ইনিংস খেলার সামর্থ্য আছে। অতীতে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় করেও দেখিয়েছে। কিন্তু বিশ্বকাপে কেন হচ্ছে না, এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছেও নেই। সবাইকে তার স্বাভাবিক খেলাটা খেলার স্বাধীনতাও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই হচ্ছে না। পিচ ও কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রæত মানিয়ে নিতে না পারার কারণেই কি এই হাল? এমন প্রশ্নে শান্তর উত্তর, না, আমি তেমনটা মনে করি না। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সব ধরনের উইকেটেই মানিয়ে নিতে হবে। উইকেট বেশ ভালো ছিল। কিন্তু আমরা পরিকল্পনামাফিক খেলতে পারিনি। বিশেষ করে নতুন বলে পাওয়ার প্লেতে ভালো করতে পারিনি।

তাওহীদ হৃদয়
আসরে হাফ সেঞ্চুরির দেখা কেবল একটি: বাংলাদেশের ব্যাটারদের ব্যর্থতার শেষ হচ্ছে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনও ম্যাচে ওপেনিং জুটি আলো ছড়াতে পারে নি। তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস কিংবা নাজমুল হোসেন শান্তর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। কেউ না কেউ আগেভাগে আউট হয়ে দলের বিপদ বাড়িয়েছেন। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম, লিটন দাস কিংবা কাপ্তান নাজমুল হোসেন শান্ত কেউই এই আসরে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন নি। মিডল অর্ডারে তাওহীদ হৃদয় কিছুটা আশা জাগালেও সাকিব আল হাসনের এক ম্যাচে ফিফটি ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের লঙ্কানদের বিপক্ষে জয় এনে দেওয়া ছাড়া বলার মতো কিছুই নেই। অন্যদিকে, তরুণ জাকের আলী, রিশাদরাও ব্যাট হাতে ব্যর্থ। তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে রান করেছেন যথাক্রমে ৩, ৯, ৩৫, ০। এমনকি সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্ডিয়ার বিপক্ষে তার রান ০ ও ২৯। লিটন দাসের অবস্থাও একই। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে রান করেছেন যথাক্রমে ৩৬, ৯, ০১, ১০। সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্ডিয়ার বিপক্ষে তার রান ১৬ ও ১৩। কাপ্তান নাজমুল হোসেন শান্তর গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে রান যথাক্রমে ৭, ১৪, ০১, ০৪। সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্ডিয়ার বিপক্ষে তার রান ৪১ ও ৪০।
এই তিনজনই দলের ওপেনিং ও নম্বর থ্রিতে ব্যাটিং করেছেন ঘুরে ফিরে। ব্যাট হাতে সবচেয়ে আস্থাভাজন যিনি সেই তাওহীদ হৃদয়ও ধারবাহিকতা রক্ষা করতে ব্যর্থ। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে রান যথাক্রমে ৪০,৩৭,০৯,০৯। সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্ডিয়ার বিপক্ষে তার রান ৪০ ও ০৪। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান এই আসরে দলের হয়ে একমাত্র হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। যদিও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ওই ম্যাচ ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোতে তিনিও ব্যর্থ। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে রান যথাক্রমে ০৮,০৩,৬৪,১৭। সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্ডিয়ার বিপক্ষে তার রান ০৮ ও ১১। নিচের দিকে ভরসার জায়গা তৈরি করা মাহমুদউল্লাহও যেন এই আসরে নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না। লঙ্কানদের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ১৬ রান করলেও আসরে তার সর্বোচ্চ ২৫ রান। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও নেপালের বিপক্ষে রান যথাক্রমে ১৬,২০,২৫,১৩। সুপার এইটে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্ডিয়ার বিপক্ষে তার রান ০২ ও ১৩। ফলশ্রুতিতে এই আসরে ব্যাটিং ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করে টাইগাররা।

তামিম ইকবাল
পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন সাবেকদের: ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ৫০ রানে হারের পর সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা কথা বলেছেন বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে। দলের ব্যাটিং নিয়ে মাশরাফির ভাষ্য, বাংলাদেশের ভালো করতে হলে আসলে ব্যাটিং ভালো করাই লাগবে, এর কোন বিকল্প নাই। কারণ সবসময়ই ¯েøা উইকেট পাওয়া সম্ভব না বিশেষ করে এই ধরনের টুর্নামেন্টে। ভালো ব্যাটিং উইকেটে রান হবে এটাই স্বাভাবিক সেখানে আমরা রান করতে না পারলে শুধু বোলিং দিয়েই এই সব টুর্নামেন্টে রেজাল্ট আশা করা যাবেনা। আরও একটা ম্যাচ বাকি, ইনশাল্লাহ ভালোভাবে শেষ করুক সেই আশাই করি। শুভ কামনা বাংলাদেশ দলের জন্য। ইন্ডিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ কোনোভাবেই মানতে পারছেন না জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও। ম্যাচ হার তো যেনতেন, দলের পরিকল্পনাই পছন্দ হয়নি তামিমের। বেশ কিছু প্রশ্নও করেছেন তামিম, যেগুলো একেবারেই যৌক্তিক। ৫০ রানের বিশাল হারের পেছনে তামিম কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন টিম ম্যানেজমেন্টকে। দল কোনো না কোনো পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু ব্যাটিং কিংবা বোলিংয়ে পরিকল্পনার ছিঁটেফোটাও ফুটে উঠেনি। অবাক হয়ে তামিম বলেছেন, ‘দলের বেশ কিছু সিদ্ধান্তে আমি বিস্মিত।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর ম্যাচ পরবর্তী আলোচনায় যোগ দিয়ে তামিম বলেছেন, যখন দেখবেন আপনার ব্যাটসম্যানরা রান করছে, আপনি তখন ১৬০-১৭০ রান তাড়া করতে আত্মবিশ্বাসী হবেন। যখন কিনা আপনি জানেন আপনার ব্যাটসম্যানরা ধুঁকছে। আমার কাছে তখন অবাক লাগে আগে বোলিং নিতে দেখে। তাদের কিছু সিদ্ধান্ত আমাকে বিস্মিত করেছে।
সেন্ট ভিনসেন্টে বাংলাদেশ টস জিতে আগে বোলিং নিয়েছিল। দিনের ম্যাচে যেখানে সতেজ উইকেটে ব্যাটিং সুবিধা সেখানে বোলিং নেওয়া কতোটা যুক্তিসঙ্গত হয়েছে সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার মাইকেল ভনও একই প্রশ্ন তুলেছেন। সঙ্গে দল নির্বাচনেও অবাক তামিম। কেন জাকের আলীলকে নেওয়া হয়েছে তার উত্তর পাওয়া যায়নি। কেন তাসকিন আহমেদ নেই সেই প্রশ্নও তামিমের। দুই ওপেনারই বেশ কিছু রান করে ফেলেছিল। একটা সময় তানজিম সাকিব দুই উইকেট নিল। তাসকিন যদি থাকত তাহলে বাড়তি চাপ দেওয়া যেত। আরও আক্রমণ করা যেত ইন্ডিয়াকে। আমরা জানি শিভম দুবে শর্ট বলের বিপক্ষে দুর্বল। তাসকিনের এই গতি ছিল তাকে থামানোর। নতুন বলে বাঁহাতি পেসারের বিপক্ষে নিয়মিত ভুগছিলেন রোহিত ও কোহলি। অথচ এবার নতুন বলে কোনো বাঁহাতি পেসারকে বোলিং আনেননি শান্ত। শুধু তাই নয়, তানজিম নতুন বলে ভালো করছিল তাকেও বোলিংয়ে আনেননি অধিনায়ক। প্রশ্ন তুলে তামিম বলেছেন, ‘সবাই জানে বাঁহাতি পেসারের বিপক্ষে রোহিত শর্মার দুর্বলতা আছে। বাঁহাতি বোলার পেলে তার মাথায় এটা কাজ করতে পারত। বাংলাদেশ বাঁহাতি পেসার দিয়ে আক্রমণ শুরু করতে পারত। তানজিম আগের ম্যাচে নতুন বলে ভাল করেছে। আজ তাকে শুরুতে আনা হয়নি। কেউ ভালো করার পরও সব কিছু বদলে ফেলা হলো কেন?

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ২৪ জুন ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা
সেমিফাইনাল সমীকরণ, সম্ভাবনার মারপ্যাঁচ: ইন্ডিয়ার বিপক্ষে হারের পরও কাগজে-কলমে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল সম্ভাবনা এখনও আছে। যদিও তা খুব কঠিন। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আফগানিস্তানের জয়ে জিইয়ে আছে বাংলাদেশের সম্ভাবনা। সম্ভাবনায় অনেকটা এগিয়ে অবশ্য গ্রæপের অন্য তিন দল। দুই ম্যাচের দুটিই জিতে পয়েন্ট তালিকার সবার ওপরে ইন্ডিয়া। রান রেটও তাদের হৃষ্টপুষ্ট (২.৪২৫)। তারা তাই সেমিফাইনালে প্রায় পৌঁছে গিয়েছেই বলা যায়। আফগানিস্তানের কাছে পরাজয়ের পরও রান রেট বেশ ভালো অস্ট্রেলিয়ার। ০.২২৩ রান রেট নিয়ে তারা পয়েন্ট তালিকায় আছে দুইয়ে, আফগানদের রান রেট -০.৬৫০। দুই ম্যাচেই হেরে যাওয়া বাংলাদেশের রান রেটও বাজে (-২.৪৮৯)। তবে কাগজে-কলমে এখনও টিকে আছে সব দলের সম্ভাবনাই। বাংলাদেশ সময় আজ সোমবার রাত সাড়ে আটটায় সেন্ট লুসিয়ায় মুখোমুখি হবে ইন্ডিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টায় সেন্ট ভিনসেন্টে লড়বে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান। এই দুই ম্যাচের ফলাফল ঠিক করে দেবে এই গ্রæপের সেমি-ফাইনালের দুই দল।
যদি অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তান জয় পায় সেক্ষেত্রে তিন দলের পয়েন্ট হবে চার। অস্ট্রেলিয়া যদি ইন্ডিয়ার বিপক্ষে এক রানে জেতে, তাহলে তাদের রান রেট টপকে যেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩৬ রানে জিততে হবে আফগানিস্তানকে। ইন্ডিয়ার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া যদি রান তাড়ায় জেতে শেষ বলে, তাহলে তাদের রান রেট পেছনে ফেলতে ১৬০ রানের লক্ষ্যে ১৫.৪ ওভারের মধ্যে জিততে হবে আফগানদের। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের ধরনের ওপর নির্ভর করবেন আফগানদের কী করতে হবে। অস্ট্রেলিয়া-ইন্ডিয়া ম্যাচ যেহেতু আগে, আফগানরা তাই নিজেদের প্রয়োজন জেনেই নামবে বাংলাদেশের বিপক্ষে। ইন্ডিয়াকে ছিটকে দিতে হলে নিজেদের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও আফগানিস্তানকে জিততে হবে বড় ব্যবধানে। ইন্ডিয়ার বিপক্ষে ৪১ রানে জিতলে তাদের রান রেট টপকে যেতে পারবে অস্ট্রেলিয়া, তখন ইন্ডিয়ার রান রেট পেছনে ফেলতে বাংলাদেশের বিপক্ষে অন্তত ৮৩ রানে জিততে হবে আফগানদের।
যদি ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশ জেতে তবে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রæপের শীর্ষে থেকে সেমি-ফাইনালে উঠবে ইন্ডিয়া, অন্য তিন দলের পয়েন্ট হবে সমান (দুই)। সেক্ষেত্রে নেট রান রেটে নির্ধারিত হবে গ্রæপের দ্বিতীয় দল। রান রেটে এখনও কিছুটা ভালো অবস্থানেই আছে অস্ট্রেলিয়া। তারা ইন্ডিয়ার কাছে যত কম ব্যবধানে হারবে, অন্য দুই দলের কাজ ততই কঠিন হবে। আফগানিস্তান যদি বাংলাদেশের কাছে এক রানে হারে, তাহলে আফগানদের চেয়ে রান রেটে পিছিয়ে পড়তে অস্ট্রেলিয়াকে হারতে হবে ৩১ রানে। আফগানিস্তানের চেয়ে রান রেটে এগিয়ে যেতে হলে বাংলাদেশকে জিততে হবে ৩১ রানে। তবে সমীকরণের শেষ নয় সেখানেই। সেমি-ফাইনালে উঠতে হলে নিজেদের অমন জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশকে কামনা করতে হবে, অস্ট্রেলিয়া যেন অন্তত ৫৫ রানে হারে। তাহলে সেমিতে যেতে পারবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। যদি অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশ জয় পায় তাহলে ইন্ডিয়া ও অস্ট্রেলিয়া সেমি-ফাইনালে পৌঁছে যাবে চার পয়েন্ট নিয়ে। আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ দুই পয়েন্ট নিয়ে ছিটকে যাবে আসর থেকে। যদি ইন্ডিয়া ও আফগানিস্তান জেতে তবে ছয় পয়েন্ট নিয়ে ইন্ডিয়া ও চার পয়েন্ট নিয়ে আফগানিস্তান পৌঁছে যাবে সেমি-ফাইনালে। দুই পয়েন্ট নিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও শূন্য পয়েনট নিয়ে বাংলাদেশ ছিটকে যাবে টুর্নামেন্ট থেকে।
ইউডি/এজেএস

