পাহাড়ে নাগরিক সুবিধার কারণে বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি

পাহাড়ে নাগরিক সুবিধার কারণে বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৮ জুন, ২০২৪, আপডেট ১৮:৪০

বর্ষা মানেই রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কা। কিন্তু এরপরও থামেনি পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস। ২০১৭ সালের পরও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বেড়েছে বসতি। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, শহরে ৩১টি পয়েন্টকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেসব পয়েন্ট স্থায়ী সমাধানের পরামর্শ সুধীজনের। আর তালিকা প্রণয়ন করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথা জানান জেলা প্রশাসক।

পাখির চোখে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের ঢালে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বসতি। ছবিতেই পরিষ্কার, পাহাড় ধসের কতটা ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে মানুষ। এমন চিত্র শুধু রাঙামাটি সদরের শিমুলতলী, রূপনগর, যুব উন্নয়ন ও রাঙাপানি এলাকায় নয়। জেলার কাপ্তাই, কাউখালী, নানিয়ারচরসহ প্রায় সব উপজেলার একই অবস্থা। অথচ ২০১৭ সালের ভয়াবহ ক্ষত চিহ্ন এখনো দৃশ্যমান রয়েছে পাহাড়গুলোর বুকে।

অথচ ২০১৭ সালে পাহাড় ধসে ১২০ জন ও ২০১৮ সালে ১১ জনের মৃত্যু হয় রাঙামাটিতে। কিন্তু সেই একই স্থানে মৃত্যু জেনেও বসতি করছে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নাগরিক সুবিধা বেড়ে যাওয়ায় বসতি নির্মাণে আগ্রহ বেড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষের।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে পাহাড় ধসের পর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসতি বেড়েছে কয়েকগুণ। এসব এলাকায় বেড়েছে নাগরিক সুবিধা। প্রশস্ত সড়কের পাশাপাশি পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ। ফলে সাত বছরে জায়গার দাম বেড়েছে শতগুণ। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়তই বাড়ছে বসতি। শত ঝুঁকি জেনেও নিজেদের বসতবাড়ি ছাড়তে রাজি নয় বসবাসকারীরা। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, জেলায় ৫ হাজার পরিবারের প্রায় ২০ হাজার লোক পাহাড়ে ঝুঁকিতে বসবাস করছে।

শিমুলতলী এলাকার বাসিন্দা মো. মিঠু বলেন, এই এলাকার যারা বসবাস করে তারা সবাই নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের অন্যত্র থাকার সুযোগ নাই। আবার শহরে থাকতে গেলে অনেক টাকা ঘর ভাড়ায় চলে যায়। তাই তারা বাধ্য হয়েই এখানে ঝুঁকি জেনেও বসবাস করে।

রূপনগর এলাকার আরেক বাসিন্দা মো. ওমর ফারুক বলেন, এসব জায়গা অনেকে বাঙালি অথবা পাহাড়িদের কাছ থেকে কিনে নেয়া হয়েছে। আবার অনেকে খাস জায়গা নিয়ে বসবাস করছে। ২০১৭ সালের পর এসব এলাকার জায়গার দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। মানুষ টাকা দিয়েও জায়গা পাচ্ছে না।

যুব উন্নয়ন এলাকার বাসিন্দা মঙ্গল চাকমা বলেন, বর্ষা মৌসুম ছাড়া তেমন সমস্যা হয় না। বেশি বৃষ্টি হলে তখন আশপাশের আশ্রয় কেন্দ্রে চলে যাই। আর ২০১৭ সালের পর আর তো পাহাড় ধস হয়নি। এখন অনেকের মধ্যে সেই ভয় কেটে গেছে। কেউ আর আশ্রয় কেন্দ্রে যেতেও চায় না।

রাঙামাটি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, পাহাড়ে বসতি স্থাপনকারীদের বেশিরভাগই স্বল্প আয়ের মানুষ। এই অবৈধ স্থাপনা যখন গড়ে উঠে তখন নজরদারি করা গেলে বর্তমানে এমন পরিস্থিতি হতো না। প্রশাসনের নজরদারির অভাবে পাহাড়ে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাঙামাটির স্থানীয় সব প্রশাসন মিলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে হবে। তাদের জন্য নিরাপদ বসতি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে প্রতিবছর বর্ষায় এমন দৌড়াদৌড়ি করতে হবে সবাইকে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান বলেন, যারা পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তাদের নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে প্রস্তাব পাঠাব। আর কারা পাহাড় কেটে বসতি নির্মাণ করছে এবং খাস জমি কারা কেনাবেচা করছে, এমন তথ্য পেলে প্রশাসন সবসময় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।

ইউডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading