কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

কোটা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০২ জুলাই, ২০২৪, আপডেট ১৮:১০

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে সরকারের জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে এসে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ২৫ মিনিট অবরোধ করে রাখেন তারা। পরে সেখানে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগি সামিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেক মানুষের সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য চাকরি প্রয়োজন। এই চাকরির নিশ্চয়তা রাষ্ট্র আমাদের দেওয়ার কথা। কিন্তু নিশ্চয়তা রাষ্ট্র আমাদের দিতে পারেনি। লাখ লাখ শিক্ষিত যুবক বেকার। অথচ সরকারি চাকরিতে কোটা রেখে একটা শ্রেণিকে সুযোগ দিয়ে সেই বেকারের সংখ্যা দিন দিন আরও বাড়ানো হচ্ছে। তাই বেকারত্বের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছি আমরা। সেইসঙ্গে বৈষম্যমূলক কোটাব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি শরণ এহসান বলেন, ‘সংবিধানে বলা আছে শুধুমাত্র অনগ্রসর, আদিবাসী, কিংবা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যই কোটা থাকবে। সংবিধানে অন্য কোনও কোটার উল্লেখ নেই। বাঙালি যুদ্ধ করেছে বৈষম্যরোধের জন্য। কিন্তু স্বাধীনতার ৫২ বছর পরও বৈষম্যের শিকার হচ্ছি আমরা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক জোট সবসময় ছাত্রদের যৌক্তিক আন্দোলনের পক্ষে আছে।’

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, ‘কোটা রাখা হয় শুধু পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের জন্য। তাছাড়া আমাদের সংবিধানের ১৯তম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সুযোগের সমতার কথা। কিন্তু এই সাম্য বিনষ্ট হচ্ছে হাইকোর্টের কোটা পুনর্বহাল সিদ্ধান্তের কারণে। আমাদের দাবি একটাই, মেধার ওপর গুরুত্ব আরোপ এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগণের কথা বিবেচনা করেই কোটা সংস্কার করা উচিত।’

সমাবেশে সমাপনী বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, ‘আগামী ৪ জুলাই আপিল বিভাগে শুনানি আছে। সেখান থেকে যদি ছাত্রসমাজের বিরুদ্ধে রায় আসে, তাহলে এদেশে একটি গাড়িও চলতে দেওয়া হবে না। বুধবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দুই ঘণ্টার জন্য অবরোধ করবো আমরা।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা প্রচলিত ছিল। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১০ শতাংশ নারী কোটা, অনগ্রসর জেলার বাসিন্দাদের জন্য ১০ শতাংশ কোটা, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য ৫ শতাংশ আর প্রতিবন্ধীদের জন্য ১ শতাংশ সংরক্ষিত ছিল। ওই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। তখন কোটাব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। সে বছরের ৪ অক্টোবর কোটা বাতিলবিষয়ক পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এর মাধ্যমে ৪৬ বছর ধরে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে যে কোটাব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল হয়ে যায়। ২০২১ সালে সেই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উচ্চ আদালতে রিট করেন। সেই রিটের রায়ে গত ৫ জুন পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর থেকে মাঠে নেমেছেন চাকরিপ্রত্যাশী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading