ধর্মঘট ডেকে শাহবাগ ছাড়লেন শিক্ষার্থীরা
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৪ জুলাই, ২০২৪, আপডেট ২১:৩০
সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদ ও কোটা প্রথা বাতিলের পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ৬ ঘন্টা অবরোধের পর শাহাবাগ ছেড়েছেন। পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর শাহবাগ ছাড়েন তারা। এরপর ধীরে ধীরে শাহবাগ এলাকার যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
শিক্ষার্থীদের কমসূচির মধ্যে রয়েছে— শুক্রবার অনলাইন-অফলাইনে বৈঠক, শনিবার বিকাল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি এবং রবিবার সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ অবস্থান ধর্মঘট।
বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের শেষে এ ঘোষণা দেন দলনিরপেক্ষ ছাত্রসংগঠন গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির সদস্যসচিব ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রহসন করছে। তারা কী এমন পরিপত্র জারি করলো যে ৫ বছরের মধ্যে সেটা আবার বাতিল করতে হচ্ছে? আমরা হাইকোর্টের বিরুদ্ধে না। তারা নিজেদের মতো কাজ করে যাবে কিন্তু আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দুপুর থেকেই শাহবাগ মোড় অবরোধের পর আজকের মতো কর্মসূচি শেষ করছি। আজকে আমরা ফিরে যাচ্ছি কিন্তু আগামীতে আরও বেশি শক্তি সঞ্চয় করে রাজপথে নামবো। আজকে সারা দেশে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দাবি আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। আমরা আশা করি, আমাদের দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে।’ এসময় তিনি এই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
এরআগে, বেলা ১১টার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে মিছিল ও স্লোগান নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নেন তারা। পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর-টিএসসি হয়ে বেলা সোয়া ১২টায় শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। তাদের অবরোধের পর ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন অবরোধ কর্মসূচিতে। এসময় শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে আশেপাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে শাহবাগ অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকার পরে অবরোধ তুলে নিয়ে কর্মসূচি শেষ করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এরআগে, সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হাইকোর্টের রায় আপাতত বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল (নিয়মিত আপিল) করতে বলেছেন আদালত। পাশাপাশি মামলার শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে বলেন, আপাতত হাইকোর্টের রায় যেভাবে আছে, সেভাবে থাকুক। রায় প্রকাশ হলে আপনারা নিয়মিত আপিল দায়ের করেন। আমরা শুনবো। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রিটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু।
গত মঙ্গলবার থেকে চার দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো, ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা; পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ছাড়া); সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

