প্লাস্টিক দূষণ: ‘অপচনশীল’ পণ্যের সবর্ত্র জয়জয়কার

প্লাস্টিক দূষণ: ‘অপচনশীল’ পণ্যের সবর্ত্র জয়জয়কার

আশিকুর রহমান । রবিবার, ০৭ জুলাই, ২০২৪, আপডেট ১৮:১৫

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার। রাজধানীতে বছরে মাথাপিছু প্রায় ২৩ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহূত হয়,বাইরের শহরগুলোতে এর পরিমাণ মাথাপিছু ৩ কেজি। প্লাস্টিক বর্জ্য দেশের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

প্লাস্টিক বর্জ্য মাটিতে আটকে পানি ও প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান চলাচলে বাধা দেয়। এতে মাটিতে থাকা অণুজীবগুলোর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটে না, মাটির উর্বরতা হ্রাস পায় এবং শস্যের ফলন কম হয়।

গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বার্ষিক মাথাপিছু প্লাস্টিক ব্যবহার ২০০৫ সালের ৩ কেজি থেকে ২০২০ সালে তিনগুণ বেড়ে ৯ কেজি হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারিকালে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বাড়ায় এর দূষণ আরও বেড়েছে। প্লাস্টিক বর্জ্যের একটি বড় অংশ ভাগাড়, জলাশয় ও নদীতে ফেলা হয়।

প্লাস্টিক নিত্যব্যবহার্য পণ্য। ‘প্রায় অপচনশীল’ এই পণ্যের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন। প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা তথা মাইক্রোপ্লাস্টিক জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। এখন সর্বত্রই পলিথিন ব্যাগের ছড়াছড়ি।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিকজাত পণ্য বা পলিথিন ব্যাগ শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বজুড়েই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবেশের শত্রু পলিথিন প্রতিনিয়ত ক্ষতি করে চলেছে। খাবারের প্যাকেট বা মোড়ক হিসেবে প্লাস্টিকের জয়জয়কার।

দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, যার একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নদী, খাল এবং বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ছে। মানব স্বাস্থ্যের ওপর প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব গভীর। যেখানে-সেখানে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা এবং পোড়ানোর ফলে বাতাসে বিষাক্ত রাসায়নিক নির্গত হয়, যা শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে।

বড় প্লাস্টিকের জিনিসগুলো ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়, যা পানীয় জলের উৎসগুলোতে পাওয়া গেছে। এটি মানব শরীরে জমা হয় এবং স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। প্লাস্টিক দূষণের উল্লেখযোগ্য আর্থ-সামাজিক প্রভাবও রয়েছে। পর্যটন শিল্প দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যাবশ্যক।

কিন্তু সৈকত ও পর্যটন স্পটগুলো প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে ভরে যাওয়ায় এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের দূষণের কারণে মাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। ফলে মৎস শিল্প চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যা লাখ লাখ মানুষের জীবিকাকে প্রভাবিত করছে।

বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ব্যাপক চাপের সম্মুখীন। সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য অসংখ্য তৃণমূল আন্দোলন এবং সামাজিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এবং সুশীল সমাজ সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং প্লাস্টিকের টেকসই বিকল্প প্রচারে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ প্লাস্টিক দূষণের কার্যকর ব্যবস্থাপনাকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বিদ্যমান আইনের দুর্বল প্রয়োগ, জনসচেতনতার অভাব এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহারের জন্য অপর্যাপ্ত অবকাঠামো প্রধান বাধা। এ চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করতে একটি বহুমুখী পদ্ধতি প্রয়োজন।

ইউডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading