‘কেন্দ্রীয় নির্দেশনা’ পেলে রাজপথ ছাড়বেন শিক্ষার্থীরা
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৭ জুলাই ২০২৪,আপডেট ১৯:০০
কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনকারীরা এখনও রাজপথে অবস্থান করছেন। শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়, বাংলা মোটরসহ রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন তারা।
রবিবার (৭ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে অবরোধ শুরু করে সন্ধ্যা ৬টার পরও কর্মসূচি চালিয়ে যেতে দেখা গেছে তাদের।
সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আজকের মতো আগামীকাল সোমবারও বাংলা ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হবে। আগামী এক সপ্তাহে ধরেও এটি চলতে পারে। তারা এখন কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অপেক্ষায় আছেন। নেতারা যখন বলবে, অবরোধ তখনই তুলে নেওয়া হবে।
অবরোধে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা আরও জানান, আমাদের আজ রাত ৮ পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের কথা ছিল। রাতে যেন দুষ্কৃতকারীরা প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সন্ধ্যার মধ্যে হয়তো অবরোধ তুলে নিতে পারি। আমরা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলেই আজকের মতো উঠে যাবো।
পরবর্তী কর্মসূচি রাত ৮টায় ঘোষণা করা হবে বলে জানান আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।
এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, সময় যত গড়াচ্ছে, আন্দোলনকারীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমছে। দুপুর ২টার পর থেকে ৬টা পর্যন্ত সায়েন্স ল্যাবের কোনও পাশেই যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। চার পাশে শত শত গাড়ি আটকে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া সেখানে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সতর্ক রয়েছে যেন কোনও ঝামেলা সৃষ্টি না হয়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সতর্ক করছে যেন তাদের মধ্যে দুষ্কৃতকারীরা ঢুকতে না পারে।
এর আগে দুপুর ২টার দিকে নীলক্ষেত থেকে মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেন তারা। এর ফলে মুহূর্তেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘কোটা নয়, মেধা চাই’, ‘চাকরি পেতে স্বচ্ছ নিয়োগ চাই’, ‘কোটা প্রথা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘এই বাংলায় হবে না, বৈষম্যের ঠিকানা’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত কোটা বাতিল ঘোষণা করা না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একটি বিশেষ শ্রেণিকে যে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তা বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।

